

কিছু মাটি আর কিছু জলের মধ্যে খুব ভাব হয়ে গেল। জলের ভালো লাগল মাটিকে। মাটিরও জলকে। দুজনে ঠিক করল তারা একসঙ্গে অনন্ত বাঁচবে। কিন্তু কী করে বাঁচবে তারা একসঙ্গে? মাটি বলল – আয় জল তোকে আমার পেটে পুরে নিই। তাপ্পর…

বিলু শকুন
বোসদের পুরানো আমলের বাড়ি। বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলা চলে। এখন তার ভগ্নদশা। সদর দরজার লম্বা কাঠের পাল্লা একদিকে খসে পড়েছে বহুকাল। অন্যদিকে একটা ছোট কোলাসিবল গেট দেওয়া হয়েছে। বাড়ির ফটকটাই একটা ঘরের মতো, রাস্তার দিকে প্রায় বিশফুট আর ভিতর…

বন্দরের কাল হল শেষ
বিদ্যালয়গুলি,সম্মানিত জ্ঞানবৃদ্ধের মতো,পলিত কেশ, লোল চর্ম,দৃষ্টি অস্বচ্ছ, স্মৃতিও তথৈবচ, অথচ,তাদের সামনে গেলেইঅজান্তেই মাথাটা নুয়ে আসে।ঘরের দেওয়ালগুলো লোনাধরাসেখান থেকে জল গড়িয়ে নামে, যার স্বাদশিশুর কান্নার মতো নোনতা। ব্ল্যাকবোর্ডগুলো যারা ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলত,ঘোড়ারা এসে খেয়ে গেছে তাদের,চকগুলো টেবিলে,যেন কবরে শুয়ে থাকা…

ক্ষণিকম ক্ষণিকম সর্বং ক্ষণিকম!
দেশভাগ এক নির্মম সত্য। এই সত্যকে মানিয়া লইয়া ভারতীয়রা নিজনিজ অস্তিত্বকে পুনর্গঠন করিয়া উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের পথে আগুয়ান। তন্মধ্যে দুরারোগ্য ব্যাধির ন্যায় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি হানা দিয়া দেশের সুস্থিতি চূর্ণ করিয়া দিতেছে। সেই শক্তিকে নিয়মিত ইন্ধন যোগাইতে প্রস্তুত বিভাজিত অপর অংশটি। তাহাদের…

“যে-দিন উদিলে তুমি বিশ্বকবি”: রবীন্দ্রনাথের শেক্সপিয়র
ইংরেজি শিক্ষাকে বাহন করে আধুনিক মননে আলোকিত বাঙালির জীবনে শেক্সপিয়র যে আজও অনেকটা প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের মতোই ঢুকে পড়েন, সেটা আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই জানি। কিন্তু এই ‘অনুপ্রবেশ’ একটি বাঙালি ছাত্রের শৈশবের কোন্ পর্যায়ে ঘটতে পারে ও তা কতটা গভীরবিস্তারী হতে…

রবীন্দ্রনাথের গান ও সত্যজিৎ রায় – কিছু কথা
অতি সম্প্রতি ‘রবিচক্র’-এর আন্তর্জালিক পত্রিকার পাতায় শ্রীমতী পূর্ণা মুখোপাধ্যায়ের সুলিখিত প্রবন্ধ ‘সত্যজিতের মননে রবীন্দ্রনাথ’ পড়ে কিছু মন্তব্য করতে বসে দেখছি তার আকার একটা স্বতন্ত্র লেখার দাবি করছে। কারণ সত্যজিৎ রায়ের সংগীত-ভাবনা সম্পর্কে তাঁর বলা আর অনেক না-বলা কথাও আমার ভাবনায়…

শূন্য কলরোল
মঞ্চ গড়ে এই আয়োজনসুরক্ষাকে আগলে রাখে বিধিবদ্ধ ঋণমিষ্টি সুবাস নাই বা মিলুকচলতে থাকুক ভুলের খেলাজল খায় না প্লাস্টিক ফুল মজলিসটি বেজায় পোক্ত – ফায়দারা শৌখিন। তীব্র ভাবে আঁকড়ে ধ’রে তারই অংশ হইসুযোগ বুঝে ঘৃণা ছুড়িআড়াল পেলে লুকাই সুখযদিও উদ্ধৃতিরা বড়োই…

যে জীবন ফড়িঙের…
‘বাবা আজ যদি তুমি বলতে না পারো ভদ্রলোকে – আমিই বলব’।‘একদম না। তুমি কি বলতে কি বলবে। আমি বলব’।‘ঠিক আছে । তুমি কিন্তু আগেও বলব বলে – বলনি। আজ…’।‘ওরে বলার মত একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে – তবে তো’।‘তাহলে আর হয়েছে…

আমার ‘বনফুল’ সন্দর্শন
বিস্মৃতিচারণা (১৪) সচেতন তারুণ্যে আমার প্রথম বাংলা সাহিত্যের বনস্পতি সন্দর্শন যাঁর সঙ্গে, তিনি ডাক্তার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, ওরফে বনফুল। আমার এই ক্ষুদ্র অতীতচারণার মুখবন্ধে বনফুল প্রসঙ্গে ভাষাতাত্ত্বিক আচার্য সুকুমার সেনের ‘বনফুলের ফুলবন’ গ্রন্থটি থেকে তাঁর দুটি উক্তি স্মরণ করতে ইচ্ছে করছে।…

বাংলা গানের উজ্জ্বল কারিগরেরা (পর্ব – ৫)
বাংলা গানের স্বর্ণযুগের গীতিকার – সুরকারদের শেষ বিশিষ্ট মানুষটি হলেন জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। বাকিদের থেকে কিছুটা পরে ষাটের দশকে তিনি সঙ্গীত জগতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার,সুরকার এবং গায়ক। নব্বইয়ের দশকের তথাকথিত জীবনমুখী গানের শিল্পীদের সঙ্গে সেতুবন্ধনকারী সঙ্গীতনির্মাতা হিসাবে তাঁকে…
