Category: উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়

বৃক্ষের কাছে
বৃক্ষের কাছে কিছু শান্তি জমে আছে,আশ্রয় কিছু লগ্ন হয়ে আছে গভীর শিরায়প্রাচীন মাটির গন্ধ মেখে। কোটরে পাখিরনিশ্চিন্ত ওড়াউড়ি, চলে যাওয়া ইচ্ছেমতোফিরে আসা… সব,সবকিছু নিবিড় সখ্যতায়ওতপ্রোত আছে বৃক্ষের কাছে। গাছেদের কাছে তুমি চেয়েছো কখনও কিছু?পাতাদের আড়ালে আবডালেখেলা করে যে আবছায়া আলোকী নামে ডেকেছো তাকে?ভিজে মাটি আলগোছে ধরে রাখে পায়ের নরম,কী চোখে দেখেছো তাকে? হীরকদ্যূতির মতো নয়…

ভেঙে যায় শব্দের অহঙ্কার
পোস্টঅফিসের মোড়ে হঠাৎ দেখলাম তাঁকেশব্দহীন জটলায়। ব্যস্ত শহর।গাড়ির হর্ন।পথচারীর হন্তদন্ত হেঁটে যাওয়া —সমস্ত কোলাহল অতিক্রম করে বক্তব্য রাখছেন তিনিনির্বাক ঈশারার অমোঘ সংকেতে।সামনে ফেস্টুন হাতেশব্দের জগৎ থেকে নির্বাসিত নাগরিক ভিড়।প্রতিবাদ আর প্রত্যয়ের অভিব্যক্তি মুহুর্মুহু জেগে উঠছেশব্দকে অতিক্রম করে যাওয়া ভাষাহীন মুখে। ওরা দেখেনিচারপাশের সব আলো যেন নিভে এলোঅন্ধকার জনারণ্যে জেগে রইল সেই নিঃশব্দ ভিড়আরমৃত জোনাকির মতো…

কীট-দষ্ট ফুল
মৌন পাহাড়ের পাশে সাজিয়ে রাখি শান্ত নদীটিকে।মন্ত্রের মতো ভোর,শান্ত অবগাহনপায়ে পায়ে মখমলি সবুজ, আরআকাশে গভীর সমুদ্রের নীল। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা নয়,কাশ্মীর ফেরি করে এ স্বপ্ন, স্বপ্নের মতো ছবি। মনে পড়ে,পহেলগাঁওয়ের ইয়াসিনকে,নিজের খাবার থেকে এক টুকরো ‘গিরদা’ হাতে দিয়ে বলেছিল,‘মেহেমাননওয়াজি’ কাকে বলে জানে ওরাবলেছিল,‘আল্লাহ সবার,সন্ত্রাস নয়’।ফিরানের ভেতর কাংড়ির কাঠকয়লার ব্যথাতুর আগুনদেখেছিলাম ওর চোখে। সামনে লিডার।পশ্চিম আকাশে সূর্য…

আমাদের লুপ্ত সব বোধ
তোমারকরতলে রাখি হীরণ্যগর্ভ মাটি,প্রসবিনী হও —দয়াবান মেঘ আর উন্মুখ সূর্যের প্রসন্নতা নিয়ে। এখানে করোটির ভিতর অদ্ভুত লিখনথেমে আছে,পূণ্যশ্লোক অসমাপ্ত — জাগাও আমাদের লুপ্ত সব বোধমেধার ভিতর জন্মদাগ রেখে যায়।খুঁজেছি তাকে,খুঁজেই চলেছিস্তব্ধতার পাশে জাগিয়ে রেখেছি এই চোখএকাকী — এখনও দেখিনি তাকেআমার ভিতরপ্রতিদিন যে শুধু আমাকেই লেখে !তার সে ছায়া মুখব্রহ্মান্ড জলে ভেসে যায়। উৎকর্ণ আছিশব্দের অতীত…

রক্তকরবীর খোঁজে
তার কলস্বর শুনতে পাই রোজ —বুকের মধ্যে ছোট যে নদী, তিরতিরেবয়ে যায় পঙ্ক্তির ভিতর দিয়ে।সে নদীখাত দিয়ে বয়ে গেছে কত কত জলআশৈশব, শ্লেট-পেন্সিল, ছেঁড়া হাফপ্যান্ট। বালি নিয়ে খেলতে খেলতে কখনফুটে উঠেছি কাশের বনে,চন্দ্রাহত জ্যোৎস্নায়।শিখে নিয়েছি,রূপে নয় ভালোবাসায় ভোলানোরমন্ত্রলিপি, তোমার গানআনন্দ-বেদনায়, ভাঙনে নির্মাণে। আজ, এই প্রতারক সময়েজমে উঠেছে যখন চারিদিকে আবর্জনার স্তূপ,মরে বেঁচে থাকা এই রুদ্ধ…

নবজাগরণের আলোয় কৃষ্ণনগর ও মহারাজ শ্রীশচন্দ্র রায়
উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধে, বাঙলার নবজাগরণের উষা লগ্নে, সমাজ যে যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী আলোড়িত হয়েছিল তারমধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল ১৮২৮ খ্রীষ্টাব্দে রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠা এবং তার পরবর্তী কার্যক্রম। প্রাচীন সনাতন হিন্দু ধর্মকে হাজারো কুসংস্কার আর আচার বিচারের নিগড় থেকে মুক্ত করে সুসংস্কৃত রূপে তুলে ধরাই ছিল তাঁর অন্তরের আকাঙ্ক্ষা। এরই সূত্র…

দুর্গামোহন দাশঃ এক বিস্মৃত সংস্কারক
২০২০ সাল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা। এমনই একটি পত্রিকায় বিদ্যাসাগরকে নিয়ে পড়তে গিয়ে একটি নাম এবং তাঁর একটি কাজের কথা নজরে এলো। আমার পড়াশুনার পরিধি অত্যন্ত সীমিত কিন্তু তবুও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কোথাও বাংলার নবজাগরণের ইতিহাসে এই নাম বা ঘটনা পড়েছি বলে মনে করতে পারলাম না।খুঁজতে শুরু…

ভাগ্যতাড়িত এক কবি ও সমকালীন বিদ্বৎসমাজ
বাংলা সাহিত্যের হাজারো বিষয় নিয়ে মতদ্বৈততা থাকলেও একটা বিষয় বোধহয় সংশয়াতীত ভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য –রবীন্দ্রবলয় উত্তীর্ণ কবিদের ভিড়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং স্বতন্ত্র স্বর কবি জীবনানন্দ দাশ এর।সমকালে নিন্দিত, বৃহত্তর পাঠক সমাজের কাছে অচ্ছ্যুৎ এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত জীবনানন্দ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনিবার্য করেছেন নিজের উপস্থিতি।
