শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Category: অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী

  • আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন

    আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন

    (চতুর্থ পর্ব) আমার সুভাষ-অধ্যয়নের প্রধান উপকরণ হিসেবে যে বইগুলোর কথা এতক্ষণ বলেছি, সেগুলির বিভিন্ন অংশ আমি একটি ডায়েরিতে নোট করে রাখতাম, ভবিষ্যতে আমার সুভাষ-অনুধ্যানের উপাদান হিসেবে সেগুলিকে ব্যবহার করার জন্য। এই নোটবুকে আরো তিনটি বইয়ের নাম দেখতে পাচ্ছি, যেগুলির কথা এখনো বলিনি। এগুলি একদিকে সুভাষচর্চার উপাদান হিসেবে যেমন অতিশয় মূল্যবান, তেমনি বর্তমান পাঠকের কাছে কিছুটা…

  • আমার সুভাষচন্দ্র:  কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন

    আমার সুভাষচন্দ্র:  কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন

    (তৃতীয় পর্ব) আমার উত্তর-কৈশোর ও প্রাক-যৌবনকালে পড়া আরও কয়েকটি সুভাষবিষয়ক বইয়ের নাম এখানে মনে পড়ছে। যখন স্কুলের উঁচু ক্লাসে পড়ি, তখন আমাদের দুজন আত্মীয়ের সংগৃহীত দুটি মূল্যবান বই পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এ দু’টি হচ্ছে সুভাষচন্দ্রের সহকর্মী কবি সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়ের ‘সুভাষচন্দ্র ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র’ আর আজাদ হিন্দ ফৌজের অন্যতম সেনানায়ক শাহনওয়াজ খান রচিত ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ…

  • আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন (দ্বিতীয় পর্ব)

    আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন (দ্বিতীয় পর্ব)

    সুভাষচন্দ্রকে নিয়ে আমার নিজস্ব চিন্তাভাবনা লিখিতভাবে প্রকাশের চেষ্টার সূচনাও আমার স্কুলপর্বের শেষের দিকেই হয়েছিল। আমার যে-নিবন্ধটি আমার স্কুল ও কলেজপর্বের স্মৃতিকে একই বন্ধনীতে ধরে রেখেছে এখানে সেটির উল্লেখ করা যায়। উচ্চমাধ্যমিক পাঠ সাঙ্গ হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে জামশেদপুরে আমাদের স্কুলে যৌথভাবে আয়োজিত স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষে মাস্টারমশাইদের অনুরোধে আমাকে একটি প্রবন্ধ পড়তে হয়েছিল।…

  • আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন [প্রথম পর্ব]

    আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন [প্রথম পর্ব]

    কবি সত্যেন দত্তের প্রয়াণে রচিত রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবিতাটির কয়েকটি ছত্র এ-রকমঃ- “আজো যারা জন্মে নাই তব দেশে,/ দেখে নাই যাহারা তোমারে, তুমি তাদের উদ্দেশে/ দেখার অতীত রূপে আপনারে করে গেলে দান/ দূর কালে। তাহাদের কাছে তুমি নিত্য গাওয়া গান/ মূর্তিহীন!…” অনাগত কালের কাছে এই ‘নিত্য গাওয়া গান’ হয়ে থেকে যাওয়া যে খুব সহজ ব্যাপার নয়।…

  • চিত্তপ্রয়াণ – একটি জাতির শোকাশ্রু

    চিত্তপ্রয়াণ – একটি জাতির শোকাশ্রু

    দার্জিলিঙে ১৯২৫ সালের ১৬ই জুন আকস্মিকভাবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনাবসান হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ৫৫ বছরও পূর্ণ হয়নি। মৃত্যুর আগের দু সপ্তাহের ও অব্যবহিত পরের মুহূর্তগুলির স্মৃতিচারণ করে ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, দেশবন্ধুজায়া বাসন্তী দেবীর নাকি ইচ্ছা ছিল যে দার্জিলিংয়েই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হোক। কিন্তু তাঁর অগণিত অনুরাগীদের মনোভাব ছিল অন্যরকম :- “এই পাহাড়ে দেশটিতে…

  • বাংলায় বোমার আবির্ভাব : সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী (পর্ব ৩)

    বাংলায় বোমার আবির্ভাব : সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী (পর্ব ৩)

    ফাঁসির আগে কানাইলালের ওপর আসন্ন মৃত্যুর কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তার কিছু বর্ণনা মতিলাল রায়ের বিবরণে পাওয়া যায়। জেলের এক আইরিশ ওয়ার্ডারের থেকে তিনি জেনেছিলেন যে, নরেন গোঁসাই হত্যার দিন কানাইলালের ১০৫ ডিগ্রি জ্বর ছিল। সেসময় ডাক্তার তাঁকে কুইনাইন দিতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেসময় জেলে তাঁর ছোট সেলটিতে তিনি সিংহের মতো পদচারণা করতেন। পরে…

  • বাংলায় বোমার আবির্ভাব: সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী (পর্ব-২)

    বাংলায় বোমার আবির্ভাব: সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী (পর্ব-২)

    “বাঙলাদেশের হৃদয় হতে…” কলকাতা হাইকোর্টে ক্ষুদিরামের মামলার আপিলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেওয়া হলে তার প্রতিবাদে কলেজ স্কোয়ার থেকে বিরাট মিছিল বের হয়েছিল। ক্ষুদিরামের ফাঁসির পরেও বাংলাদেশের নানা প্রান্তে শোকপালনের সংবাদ পাওয়া যায়। ‘সঞ্জীবনী’-তে কলকাতায় ফাঁসির দিন ছাত্রদের নগ্নপদে স্কুলে ও কলেজে উপস্থিত হবার ও নিরামিষ আহারগ্রহণের খবর পাওয়া যায়। [১২-৮-১৯০৮] শুধু কলকাতাতেই নয়,…

  • বাংলায় বোমার আবির্ভাব: সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী

    বাংলায় বোমার আবির্ভাব: সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী

    “ইহা বড়ই আনন্দের বিষয় যে, একটি চমৎকার ধরনের বোমা তৈয়ার হইতেছে। ইহার নাম ‘কালীমায়ীর বোমা’। ইহা পরীক্ষা করিয়া দেখা হইতেছে এবং পরীক্ষা সফল হইলে ইহা প্রতি গৃহে রাখিতে হইবে। এই বোমা এতই হালকা যে, একজন লোক ইহা এক হাতে লইয়া চলিতে পারে, ইহাতে অগ্নিসংযোগ করিতে হয় না ও অল্প আয়াসেই ইহাকে ভূমিতে নিক্ষেপ করিলে বিকট…

  • ইতিহাস

    ইতিহাস

    রত্না এসে ওষুধটা রামকিঙ্করের সামনে রেখে বলল — “খেয়ে নাও এটা”। রামকিঙ্কর অন্য কথা ভাবছিলেন, কারণ তিনি জানেন, অসুখের কথা ভেবে সুখ নেই । অসুখ তাঁর সারবার নয়। তিনি ভাবছিলেন তাঁর আরদ্ধ সেই বিরাট কাজের কথা— যা, তিনি শেষ করে যেতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই হয়তো তাঁকে মরতে হবে । রামকিঙ্কর ইতিহাসবেত্তা। আরও অনেক ইতিহাসবিদের…

  • বঙ্গজীবনের পাঁচালি- চোদ্দ শতক (১০)

    বঙ্গজীবনের পাঁচালি- চোদ্দ শতক (১০)

    পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের প্রদেশ হবার পরেবাঙলা ভাষার দাবি ওঠে সেই একই বৎসরে।কী ভাবে হয়েছিল বাংলাভাষার অধিকার হরণ —আগেই আমরা দিয়েছি তার কিছু কিছু বিবরণ।উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাজভাষা —এই ঘোষণায় বাঙালিদের বাড়ছিল হতাশা।।বাংলাই হবে রাষ্ট্রভাষা — পাক সরকারের উদ্দেশেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সমাবেশেএই দাবি তোলা হয় আর একে করেন সমর্থনশহিদুল্লাহ, মনসুর আহমেদ প্রমুখ বিদ্বজ্জন।।রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম…