Category: অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী

আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন
ষষ্ঠ (অন্তিম) পর্ব ওটেন সাহেবের বিষয়ে আমার লেখাটি যখন ছাপা হয়েছিল, সে সময়েই আমার নেতাজী বিষয়ক প্রথম ইংরেজি প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত একদা বিখ্যাত মডার্ন রিভিউ পত্রিকাটিতে, শিরোনাম ছিল –‘Netaji and 25 years of Indian Independence (আগস্ট ১৯৭৩)। এই প্রাচীন পত্রিকাটির প্রকাশ অবশ্য এর কিছুদিন পরেই বন্ধ হয়ে যায়। পত্রিকাটির অতীত খ্যাতির কারণে…

আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন
(পঞ্চম পর্ব) খোসলা কমিশনের রায়ের কয়েক বছরের মধ্যেই কেন্দ্রে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের পতন ঘটে এবং প্রথম অকংগ্রেসি সরকার গঠিত হয়। এই পরিস্থিতির সুযোগে আবার নেতাজির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ও নতুন তদন্তের দাবি নিয়ে রাজনীতিকরা সরব হতে থাকেন। “নেতাজি : মৃত না জীবিত?” নামে সমর গুহ একটি বই লেখেন। কেন্দ্রে জনতা পার্টির সরকারের লন্ডনের হাইকমিশনার লর্ড…

আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন
(চতুর্থ পর্ব) আমার সুভাষ-অধ্যয়নের প্রধান উপকরণ হিসেবে যে বইগুলোর কথা এতক্ষণ বলেছি, সেগুলির বিভিন্ন অংশ আমি একটি ডায়েরিতে নোট করে রাখতাম, ভবিষ্যতে আমার সুভাষ-অনুধ্যানের উপাদান হিসেবে সেগুলিকে ব্যবহার করার জন্য। এই নোটবুকে আরো তিনটি বইয়ের নাম দেখতে পাচ্ছি, যেগুলির কথা এখনো বলিনি। এগুলি একদিকে সুভাষচর্চার উপাদান হিসেবে যেমন অতিশয় মূল্যবান, তেমনি বর্তমান পাঠকের কাছে কিছুটা…

আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন
(তৃতীয় পর্ব) আমার উত্তর-কৈশোর ও প্রাক-যৌবনকালে পড়া আরও কয়েকটি সুভাষবিষয়ক বইয়ের নাম এখানে মনে পড়ছে। যখন স্কুলের উঁচু ক্লাসে পড়ি, তখন আমাদের দুজন আত্মীয়ের সংগৃহীত দুটি মূল্যবান বই পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এ দু’টি হচ্ছে সুভাষচন্দ্রের সহকর্মী কবি সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়ের ‘সুভাষচন্দ্র ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র’ আর আজাদ হিন্দ ফৌজের অন্যতম সেনানায়ক শাহনওয়াজ খান রচিত ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ…

আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন (দ্বিতীয় পর্ব)
সুভাষচন্দ্রকে নিয়ে আমার নিজস্ব চিন্তাভাবনা লিখিতভাবে প্রকাশের চেষ্টার সূচনাও আমার স্কুলপর্বের শেষের দিকেই হয়েছিল। আমার যে-নিবন্ধটি আমার স্কুল ও কলেজপর্বের স্মৃতিকে একই বন্ধনীতে ধরে রেখেছে এখানে সেটির উল্লেখ করা যায়। উচ্চমাধ্যমিক পাঠ সাঙ্গ হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে জামশেদপুরে আমাদের স্কুলে যৌথভাবে আয়োজিত স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষে মাস্টারমশাইদের অনুরোধে আমাকে একটি প্রবন্ধ পড়তে হয়েছিল।…
![আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন [প্রথম পর্ব]](https://robichakro.com/wp-content/uploads/2026/01/Subhas-Chandra-000.jpg)
আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন [প্রথম পর্ব]
কবি সত্যেন দত্তের প্রয়াণে রচিত রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবিতাটির কয়েকটি ছত্র এ-রকমঃ- “আজো যারা জন্মে নাই তব দেশে,/ দেখে নাই যাহারা তোমারে, তুমি তাদের উদ্দেশে/ দেখার অতীত রূপে আপনারে করে গেলে দান/ দূর কালে। তাহাদের কাছে তুমি নিত্য গাওয়া গান/ মূর্তিহীন!…” অনাগত কালের কাছে এই ‘নিত্য গাওয়া গান’ হয়ে থেকে যাওয়া যে খুব সহজ ব্যাপার নয়।…

চিত্তপ্রয়াণ – একটি জাতির শোকাশ্রু
দার্জিলিঙে ১৯২৫ সালের ১৬ই জুন আকস্মিকভাবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনাবসান হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ৫৫ বছরও পূর্ণ হয়নি। মৃত্যুর আগের দু সপ্তাহের ও অব্যবহিত পরের মুহূর্তগুলির স্মৃতিচারণ করে ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, দেশবন্ধুজায়া বাসন্তী দেবীর নাকি ইচ্ছা ছিল যে দার্জিলিংয়েই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হোক। কিন্তু তাঁর অগণিত অনুরাগীদের মনোভাব ছিল অন্যরকম :- “এই পাহাড়ে দেশটিতে…

বাংলায় বোমার আবির্ভাব : সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী (পর্ব ৩)
ফাঁসির আগে কানাইলালের ওপর আসন্ন মৃত্যুর কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তার কিছু বর্ণনা মতিলাল রায়ের বিবরণে পাওয়া যায়। জেলের এক আইরিশ ওয়ার্ডারের থেকে তিনি জেনেছিলেন যে, নরেন গোঁসাই হত্যার দিন কানাইলালের ১০৫ ডিগ্রি জ্বর ছিল। সেসময় ডাক্তার তাঁকে কুইনাইন দিতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেসময় জেলে তাঁর ছোট সেলটিতে তিনি সিংহের মতো পদচারণা করতেন। পরে…

বাংলায় বোমার আবির্ভাব: সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী (পর্ব-২)
“বাঙলাদেশের হৃদয় হতে…” কলকাতা হাইকোর্টে ক্ষুদিরামের মামলার আপিলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেওয়া হলে তার প্রতিবাদে কলেজ স্কোয়ার থেকে বিরাট মিছিল বের হয়েছিল। ক্ষুদিরামের ফাঁসির পরেও বাংলাদেশের নানা প্রান্তে শোকপালনের সংবাদ পাওয়া যায়। ‘সঞ্জীবনী’-তে কলকাতায় ফাঁসির দিন ছাত্রদের নগ্নপদে স্কুলে ও কলেজে উপস্থিত হবার ও নিরামিষ আহারগ্রহণের খবর পাওয়া যায়। [১২-৮-১৯০৮] শুধু কলকাতাতেই নয়,…

বাংলায় বোমার আবির্ভাব: সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী
“ইহা বড়ই আনন্দের বিষয় যে, একটি চমৎকার ধরনের বোমা তৈয়ার হইতেছে। ইহার নাম ‘কালীমায়ীর বোমা’। ইহা পরীক্ষা করিয়া দেখা হইতেছে এবং পরীক্ষা সফল হইলে ইহা প্রতি গৃহে রাখিতে হইবে। এই বোমা এতই হালকা যে, একজন লোক ইহা এক হাতে লইয়া চলিতে পারে, ইহাতে অগ্নিসংযোগ করিতে হয় না ও অল্প আয়াসেই ইহাকে ভূমিতে নিক্ষেপ করিলে বিকট…
