Category: গৌতম নাগ

তালগাছ : পুনরধ্যয়ন, পুনর্মূল্যায়ন
একই রবীন্দ্রসৃষ্টি জীবনের এক এক পর্বে কত ভিন্ন ভিন্ন আবেদন নিয়ে আসতে পারে তার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত আমাদের শৈশবসাথী “শিশু ভোলানাথ” ও “সহজ পাঠে”র অন্তর্গত “তালগাছ” কবিতাটি। সেইসময় এটি ছিল একটি সুখপাঠ্য কবিতা। বিশেষ করে কবিতাটির কয়েকটি পংক্তি — যেমন, সারাদিন ঝরঝর থত্থর / কাঁপে পাতা-পত্তর— বালকমনে কী এক অজানা আলোড়ন তুলত।এরপর কালের নিয়মে শৈশবের পর…

প্রতিদিন শত তুচ্ছের মাঝে আড়ালে আড়ালে
প্রতিদিনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ অতি সামান্য ঘটনা থেকে কিভাবে উৎসারিত হয় অসামান্য নান্দনিক সৃষ্টি তার বহু দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের গানরচনার ইতিবৃত্তে। তেমনই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সুপরিচিত এই গানটি : আমার কণ্ঠ হতে গান কে নিল ভুলায়ে। এই গানটি রচনার উপলক্ষ হয়ত সকলেরই জানা। তবু যদি কারও অজানা থাকে তাই এর নেপথ্য কাহিনিটি তুলে ধরলাম। যাদের জানা…

সেদিন যে রাগিণী গেছে থেমে…
“ও পারেতে বিষ্টি এল,ঝাপসা গাছপালা।এ পারেতে মেঘের মাথায়— .একশো মানিক জ্বালা।বাদলা হাওয়ায় মনে পড়েছেলেবেলার গান—‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,নদেয় এল বান।” একদা জীবনপ্রভাতে, বহুশ্রুত, বহুপঠিত এই কবিতার পংক্তিগুলি আজ জীবনের অস্তাচলপ্রান্তে এসে যখন মনে মনে আবৃত্তি করি তখন বুকের ভিতর হুহু করে ওঠে। শুধু ছেলেবেলার নয়, জীবনের সব পর্বে সব মুহূর্তে থেমে যাওয়া সমস্ত গান যেন…

রবীন্দ্রনাথের ব্যতিক্রমী দুটি গ্রীষ্মসঙ্গীত
গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে আলোচনার জন্য বেছে নিলাম দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত।রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি পর্যায়ের ২৮৩ গানের মধ্যে গ্রীষ্ম উপপর্যায়ের গানের সংখ্যা মাত্র ১৬। যেখানে বর্ষাসঙ্গীত ও বসন্তসঙ্গীতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১৪ ও ৯৬। রবীন্দ্রনাথ গ্রীষ্মের গান লিখতে শুরু করেন ৫৮ বছর বয়স থেকে।রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে গ্রীষ্মঋতুকে প্রত্যক্ষ করেছেন মূলত দুটি দৃষ্টিকোন থেকে। কখনও কখনও গ্রীষ্মকে তিনি অনুভব…

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে : অন্তরঙ্গ পাঠ
আজ আলোচনার জন্য আমরা বেছে নিয়েছি সর্বাধিক পরিচিত রবীন্দ্রসঙ্গীতের মধ্যে একটি : আগুনের পরশমণি। সুদূর শৈশবে প্রায় চেতনার উন্মেষুহূর্ত থেকেই এই গানটি আমরা শুনে থাকি। কোন না কোন সময়ে এই গানটি গায় নি ( একক কন্ঠেই হোক বা সমবেত কন্ঠেই হোক) এমন বঙ্গসন্তান বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। অতিপরিচিত এই গানটি সম্বন্ধে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি…

শীতের হাওয়ার লাগল নাচন
সুপ্রভাত অদেখা বন্ধুরা। আজ শীতের সকালে শীতের একটি পরিচিত গান নিয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই : “শীতের হাওয়ার লাগল নাচন”। শীতের হাওয়ার লাগল নাচন আমলকির এই ডালে ডালে।পাতাগুলি শিরশিরিয়ে ঝরিয়ে দিল তালে তালে॥উড়িয়ে দেবার মাতন এসে কাঙাল তারে করল শেষে,তখন তাহার ফলের বাহার রইল না আর অন্তরালে॥শূন্য করে ভরে দেওয়া যাহার…

অমল ধবল পালে লেগেছে
আজ শারদ প্রাতে সকলের সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেবার জন্য বেছে নিলাম শরতের একটি অতি পরিচিত গান : অমল ধবল পালে লেগেছে। আমার অত্যন্ত প্রিয় এই গানটি নিয়ে অনেক কিছুই বলার আছে, কিন্তু স্থানাভাবে সব বলা গেল না। সংহত কোন বিশ্লেষণ নয়, শুধু ইতস্তত, বিক্ষিপ্ত “মনের কথার টুকরো আমার” তুলে দিলাম, সহৃদয় পাঠক নিজের…

ও জোনাকি কি সুখে ঐ ডানা দুটি মেলেছ : ব্যতিক্রমী সৃষ্টি
শিরোনাম দেখে বন্ধুরা হয়তো বিস্মিত বোধ করছেন। উক্ত গানটির সুর বা ভাববস্তুর মধ্যে এমন কোন বৈশিষ্ট্য আছে যা রবীন্দ্রনাথের বিপুল সৃষ্টিসম্ভারের মধ্যে তাকে অনন্য স্থান দিতে পারে ? এই অতিপরিচিত গানটি রবীন্দ্রসঙ্গীতপ্রেমীদের পছন্দের শীর্ষতালিকায় থাকার কথাই নয়। বরং যেসব গান সচরাচর “বাচ্চাদের গান” অভিধায় চিহ্নিত হয়ে থেকে, এই গানটি সেই শ্রেণির অন্তর্গত ; সাধারণভাবে যেসব…

ও আমার জুঁই
পুষ্পে পল্লবে শোভিত ও সুরভিত রবীন্দ্র-সাহিত্যে জুঁই ফুলের সৌরভ-সন্ধান রবীন্দ্রনাথের গানে কোন কোন ফুল আছে এবং সর্বোপরি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কী ভূমিকা তার চেয়ে বলা অনেক সহজ তাঁর গানে কোন কোন ফুল নেই। বাংলার পরিচিত ফুলগুলির মধ্যে গীতবিতানে নিম্নোক্ত ফুলগুলি অনুপস্থিত : ঘেঁটু, টগর, গাঁদা, ডালিয়া, গন্ধরাজ, শালুক, শাপলা। আরও কিছু ফুল থাকতে পারে, তবে…

“তোমার রঙে রঙে রাঙা হল”
দোহাই আপনাদের, এই পোষ্টের মধ্যে দয়া করে কেউ রাজনীতি খুঁজবেন না। এই পোষ্টের আলোচ্য বিষয় রঙ — মূলত একটি বিশেষ রঙ: লাল। কিন্তু কোন রাজনৈতিক মতবাদকে মহিমান্বিত করা বা খণ্ডন করা আদৌ আমার উদ্দেশ্য নয়। নিতান্ত লঘুরসের এই রচনাকে কেউ রংবাজি বলতে চান বলুন, কিন্তু রাজনীতি নৈব নৈব চ। আমরা প্রথমে দেখব আমাদের সংস্কৃতি এবং…
