Category: চন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য

অনুবাদে স্রেচকো কোসোভেলের একগুচ্ছ কবিতা
(প্রাককথনঃ মধ্য ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত একটি ছোট বৈচিত্র্যময় দেশ স্লোভানিয়া। সেই দেশটির অকালপ্রয়াত তরুণ কবি স্রেচকো কোসোভেল, যিনি এক (১৯০৪-১৯২৬) গভীর অনুরাগে জড়িয়ে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের কবিতার সঙ্গে। তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন সেই স্থির আলোর শিখা যাকে আমরা প্রজ্ঞা বলি। দু’জনের পরিচয় হবার অবকাশ হয়নি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের প্রতি নিবিড় অনুরাগ এই তরুণ কবির…

এক বিদেশী কবির রবীন্দ্র অনুধ্যান :মৃত্যু শতবর্ষে কবি স্রেচকো কোসোভেল এবং তাঁর একগুচ্ছ কবিতা
২০১১ সাল – রবীন্দ্রনাথের সার্ধশততম জন্মবর্ষ। দেশে-বিদেশে কবির সৃষ্টিকে নিয়ে সমসময়ের কষ্টিপাথরে বিচার করার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হচ্ছিল একধরণের নতুন উন্মাদনা । এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজটি করছিলেন সদ্য প্রয়াত বিশ্বখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক এবং অনুবাদক শ্রদ্ধেয় উইলিয়াম রাদিচে। তাঁকে সার্থক ভাবে প্ররোচিত করতে পেরেছিলেন Penguin India, Delhi-র উদয়ন মিত্র। ২০১১,১২,১৩ পরপর…

জীবনানন্দ
দ্রোহের আগুনে পুড়ছিল জীর্ণতা ,স্থবির আঁধার, স্বপ্ন, পুরাণ কথা,বিনির্মাণের তীব্র সে ঝঙ্কারশব্দে পয়ারে বেজেছিল বোধে তাঁর। ক্রমশ একাকী নিজেরই মুদ্রাদোষে ,নির্জনতার সেতার রক্তকোষে,ভাঙনের তীরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেনস্থির আঁধারের বুকে বনলতা সেন । ধানসিড়ি আজও পউষের জ্যোৎস্নায়,পৃথিবী প্রবীণ মিরুজিন নদীতীরে,তবুও রক্ত-রণ-উন্মাদনায়ঘুরে ঘুরে ফেরে আপন নষ্ট নীড়ে। হাজার বছর জোনাকির মতো জ্বলে,মহাপৃথিবীর মৃতদের কলরোলেনিহিত সত্য মৌন অন্ধকার –…

সাহিত্যে নোবেল, না-নোবেল, রবীন্দ্রনাথ এবং অন্যান্য
(স্মরণীয় – ১০ ডিসেম্বর নোবেল পুরস্কার প্রদান দিবস) ১৫ নভেম্বর, ১৯১৩। রবীন্দ্রনাথ তাঁর আশ্রমসচিব নেপাল রায় এবং কয়েকজন কাছের জনকে নিয়ে সন্ধের দিকে পারুল বনের দিকে চলেছেন। পথে একজন পিয়ন তাঁকে একটি জরুরি টেলিগ্ৰাম দেন এবং তিনি যথারীতি জোব্বার পকেটে ঢুকিয়ে নেন। সে দিন খুব হাওয়ার রাত। খোয়াইজুড়ে রাস পূর্ণিমার গোল হলুদ চাঁদ উঠেছে। চাঁদের…

একটি অবিস্মরণীয় কবিতার জন্ম
৯ মে, ১৯৩৮। ফ্লোরেন্স শহরের Teatro Comunale এ এক মহা আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে মিলিত হবে ইতিহাসের দুই কুখ্যাত নায়ক। একটু আগেই ফ্লোরেন্সের Via del Corso দিয়ে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেছেন কবির ভাষায় “un messo infernale” নরকের এক দূত। উন্মত্ত আলালা আলালা ধ্বনির সঙ্গে স্বর সংগতি রেখে আর্ণো নদীর রাগী ঢেউগুলি তীরভূমিতে আছড়ে…

শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র শর্ম্মাকে নিবেদিত দুটি কবিতা
কে যায় ? তিনি হেঁটে চলেছেন। দৃপ্ত পদক্ষেপ। ইস্পাতের মতো দৃঢ় শিরদাঁড়া, সোজা। মাথা উঁচু। সূর্যের দিকে হেঁটে যাওয়া দীর্ঘতম বৃক্ষের মতো।

চলিয়াছি গৃহপানে…
[২৫ জুলাই , ১৯৪১ সাল। দিনটি শুক্রবার। সাতসকালেই আশ্রমবাসীরা সমবেত কণ্ঠে এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’ গাইতে গাইতে রবীন্দ্রনাথকে অর্ঘ্য অর্পণ করল। শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলেছেন কবি। আর কোনদিন ফিরবেন না , বোধ হয় বুঝতে পেরেছেন তিনি। যাওয়ার আগে মোটরগাড়িতে চেপে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সবার সঙ্গে দেখা করলেন, গাড়িতে করেই গোটা আশ্রম ঘোরানো হলো…

এলোমেলো যা মনে এলো
(১) “কাহৈরি ঘিণি মেলি । অচ্ছহু কীস ।বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ।।আপনার মাংসেঁ হরিণা বৈরী ।খনহ ন ছাড় অ ভুকু অহেরী ।।” চর্যাপদ। মাত্র ১০০০ বছর আগের বাংলা ভাষা ।আজ মৃত, বাঙালি এই ভাষায় আজ কথা বলে না, এমনকি ভাষাবিদ ছাড়া অন্যে বোঝেও না। অর্থাৎ এ ভাষার মৃত্যু হয়েছে এবং মাত্র ১০০০ বছরের মধ্যে ।৬০০-৬৫০…

বন্দরের কাল হল শেষ
বিদ্যালয়গুলি,সম্মানিত জ্ঞানবৃদ্ধের মতো,পলিত কেশ, লোল চর্ম,দৃষ্টি অস্বচ্ছ, স্মৃতিও তথৈবচ, অথচ,তাদের সামনে গেলেইঅজান্তেই মাথাটা নুয়ে আসে।ঘরের দেওয়ালগুলো লোনাধরাসেখান থেকে জল গড়িয়ে নামে, যার স্বাদশিশুর কান্নার মতো নোনতা। ব্ল্যাকবোর্ডগুলো যারা ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলত,ঘোড়ারা এসে খেয়ে গেছে তাদের,চকগুলো টেবিলে,যেন কবরে শুয়ে থাকা শব্দহীন হাড়,ধরার হাতগুলো ঘোড়াদের ক্ষুরে ছিন্নভিন্ন ;নৈরাশ্য, নৈরাশ্যের কালো সুড়ঙ্গের মধ্যেতলিয়ে যাচ্ছে শিশিক্ষু মুখগুলি,ক্লাসরুমে বসে…

তব জয়সঙ্গীত ধ্বনিছে
রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে অন্যান্য সংগীতের প্রধান পার্থক্য রবীন্দ্রনাথ গান লিখেছিলেন মহাকবির কলম হাতে নিয়ে। পৃথিবীতে এমন কোনো মহাকবি নেই যিনি সংগীত সৃষ্টির ক্ষেত্রে, কী পরিমাণে, কী বৈচিত্র্যে, কী উৎকর্ষের বিচারে রবীন্দ্রনাথের ধারে কাছেও আসতে পারেন। সংগীত, যা ভাষা ও সুরের মেলবন্ধনে সৃষ্ট একটা তৃতীয় শিল্পমাধ্যম, যার ব্যাকরণ এবং আঙ্গিক একেবারেই স্বতন্ত্র : এর সার্থক রূপায়ণ এবং…
