শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Category: বিস্মৃতিচারণা

  • খেলার মাঠের অবিস্মরণীয় এক কথক

    খেলার মাঠের অবিস্মরণীয় এক কথক

    হঠাৎই সুযোগটা এসেছিল। ১৯৮৬ সাল। কোনো এক ব্যক্তিগত যোগাযোগে মাঝারি মাপের একটি জলযান সহযোগে তিন দিন, দু’ রাত্রির সুন্দরবন ভ্রমণের প্রস্তাব পাওয়া গেল। আয়োজনে ও ব্যবস্থাপনায় কলকাতা ময়দানের নামজাদা ক্রিকেট ক্লাব স্পোর্টিং ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও মানুষজন। ক্রিকেটপ্রেমিক মাত্রেই জানেন, স্বনামধন্য ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়, ভ্রাতুষ্পুত্র অম্বর রায়, পুত্র প্রণব রায় ছাড়াও সুব্রত গুহ, তপনজ্যোতি…

  • এক জার্মান ‘শান্তিনিকেতনী’র কথা

    এক জার্মান ‘শান্তিনিকেতনী’র কথা

    বিস্মৃতিচারণা (১৯) প্রায়শই শান্তিনিকেতনে আসি বা আসার ইচ্ছের কথা শুনে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি, “এখনও কিসের টানে আ্সেন শান্তিনিকেতনে? সেই শান্তিনিকেতনকে এখনও পান আপনি?” বলেছিলাম – “কিন্তু তাঁকে যে পাই এখানকার আকাশে বাতাসে, গৌর প্রাঙ্গনে, ছাতিমতলায়। চোখ বুজলে দেখতে পাই, শালবিথীতে হেঁটে বেড়াচ্ছেন তিনি। বৈকালিক চায়ের আসরে যোগ দিচ্ছেন দিনু ঠাকুরের দিনান্তিকায়, গান বাঁধছেন, গান তুলে…

  • মন্ত্রীমশাইয়ের বিকল্পের সন্ধানে

    মন্ত্রীমশাইয়ের বিকল্পের সন্ধানে

    বছরের সাড়া জাগানো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার পরিকল্পনার অন্যতম শরিক সেদিনের তিরিশ পেরোনো এই স্মৃতি রোমন্থক। অনুষ্ঠানস্থল মধ্য কলকাতার বিড়লা সভাঘর। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ফিরোজা বেগম, মমতাশঙ্করকে নিয়ে ছিল সে অনুষ্ঠানের বর্ণময় শিল্পীতালিকা।

  • দুই কবি ও এক তরুণ গায়ক

    দুই কবি ও এক তরুণ গায়ক

    প্রভাসতীর্থে এলেন দুই কবি। একজন প্রবীণ, অপরজন নবীন। প্রবীণ পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, নবীন কবি জয় গোস্বামী। অনুষ্ঠানটির শিরোনামও ছিল “দুই কবি”।

  • “সেপার বাংলা” নিবাসী ক্লিনটন বি সিলি

    “সেপার বাংলা” নিবাসী ক্লিনটন বি সিলি

    বাংলার অগ্রগণ্য কিছু সাহিত্যিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বুধমন্ডলী। আর ছিলেন এক ভিনদেশী, ছিপছিপে ঋজু চেহারার উজ্বল গৌরবর্ণ মানুষ, যাঁর পরণে ছিল হালকা গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবী ও সাদা পায়জামা, কাঁধে ছিল খদ্দরের শান্তিনিকেতনী ঝুলি, সৌম্যকান্ত মুখমন্ডলে হালকা দাড়ি। স্বাভাবিকভাবেই সব অতিথিদের মধ্যে দর্শক ও শ্রোতৃমন্ডলীর কৌতুহলের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি… বাংলা সাহিত্যের মেলায়…

  • কার্টুনিস্ট চন্ডী লাহিড়ী

    কার্টুনিস্ট চন্ডী লাহিড়ী

    ১৯৮৬ সালের এপ্রিল মাস। সেবার ব্যঙ্গচিত্রী চন্ডী লাহিড়ী এলেন আগরপাড়ার প্রভাসতীর্থে কচি-কাঁচাদের একটি আঁকার প্রতিযোগিতা পরিচালনা করতে এবং আসর শেষে পুরস্কার বিতরণী সভায় পৌরোহিত্য করতে। সারাটা দিন কাটিয়ে বিকেলে ফিরেছিলেন তিনি। সদাহাস্যময় আড্ডাবাজ আমুদে মানুষ।

  • আমার ‘বনফুল’ সন্দর্শন

    আমার ‘বনফুল’ সন্দর্শন

    বিস্মৃতিচারণা (১৪) সচেতন তারুণ্যে আমার প্রথম বাংলা সাহিত্যের বনস্পতি সন্দর্শন যাঁর সঙ্গে, তিনি ডাক্তার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, ওরফে বনফুল। আমার এই ক্ষুদ্র অতীতচারণার মুখবন্ধে বনফুল প্রসঙ্গে ভাষাতাত্ত্বিক আচার্য সুকুমার সেনের ‘বনফুলের ফুলবন’ গ্রন্থটি থেকে তাঁর দুটি উক্তি স্মরণ করতে ইচ্ছে করছে। তিনি বলেছিলেনঃ “তাঁর সাহিত্য সৃষ্টিতে ’ফুল’ আছে, ‘বন’ অর্থাৎ উপবন – ফলপ্রসু ও ছায়াবৃক্ষও আছে।…

  • বিচিত্র অটোগ্রাফ সংগ্রহকথা : উদয়শঙ্কর ও ইমরান খান

    বিচিত্র অটোগ্রাফ সংগ্রহকথা : উদয়শঙ্কর ও ইমরান খান

    কৈশোরের ঠিক কোন সময়টি থেকে অটোগ্রাফ সংগ্রহের নেশা আমাকে পেয়ে বসেছিল তা আর আজ মনে পড়ে না। তবে এটুকু মনে আছে, আমার মায়ের কাছে তাঁর তরুণীবেলার একটি কাহিনি গোগ্রাসে গিলেছিলাম।

  • রেবতীভূষণ

    রেবতীভূষণ

    চলচ্চিত্র প্রযোজক বি এন সরকারের অনুরোধে বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম অ্যানিমেশান ছবি ‘মিচকে পটাশ’এর চরিত্রায়ণ রেবতীভূষণেরই। ছবি আঁকার পাশাপাশি ছড়া লেখা, গান বাজনা, সাঁতারেও রেবতীভূষণের বিপুল উৎসাহ আজীবনের। তাঁর রচিত ছড়ার সঙ্কলনটির নাম “ছড়ানো বই”।

  • ‘মাংপবী’ মৈত্রেয়ী দেবীর সান্নিধ্য-সুখ

    ‘মাংপবী’ মৈত্রেয়ী দেবীর সান্নিধ্য-সুখ

    বিস্মৃতিচারণা (১১) সময়টা আশির দশকের একেবারে গোড়ার দিক। সম্ভবত ১৯৮১ সাল। আমার পিতৃদেবের আগ্রহে বাড়িতে আসতে লাগল মৈত্রেয়ী দেবীর একের পর এক অসামান্য সব গ্রন্থ। ‘ন হন্যতে’ পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। এরপর হাতে এল ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’। নেশা গভীর হল। আরও, আরও, আরও। এক মহীরুহর মানসকন্যার কলমে বিশ্ববরেণ্য কবির ব্যক্তিসত্তার অন্তরমথিত করা অনিঃশেষ উন্মোচন। পরের পর…