
হঠাৎই সুযোগটা এসেছিল।
১৯৮৬ সাল। কোনো এক ব্যক্তিগত যোগাযোগে মাঝারি মাপের একটি জলযান সহযোগে তিন দিন, দু’ রাত্রির সুন্দরবন ভ্রমণের প্রস্তাব পাওয়া গেল। আয়োজনে ও ব্যবস্থাপনায় কলকাতা ময়দানের নামজাদা ক্রিকেট ক্লাব স্পোর্টিং ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও মানুষজন। ক্রিকেটপ্রেমিক মাত্রেই জানেন, স্বনামধন্য ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়, ভ্রাতুষ্পুত্র অম্বর রায়, পুত্র প্রণব রায় ছাড়াও সুব্রত গুহ, তপনজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ তদানীন্তন বাংলার ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের অনেকেরই জন্ম, কর্ম, উত্থানপর্ব এই ক্লাবেই।
বলা বাহুল্য, পরম ক্রিকেটভক্ত আমার কাছে এই প্রস্তাব সাদরে গ্রহণীয় ছিল। জল-জঙ্গলের এই ভ্রমণতরণীতে বঙ্গীয় ক্রিকেটের নক্ষত্রখচিত দলের সহযাত্রী হতে পেরে যারপরনাই আহ্লাদিত আমি। সুতরাং প্রস্তাব গ্রহণ করতে সময় নিইনি। অম্বর রায়ের মতো নক্ষত্ররা সহযাত্রী থাকলেও এই জলযাত্রায় আমার পরম প্রাপ্তি যে মানুষটির সঙ্গে আলাপ ও সান্নিধ্য, ছেলেবেলার দিনগুলোতে তিনি তাঁর কণ্ঠ ও ভাষার জাদুতে দিনের পর দিন আমাকে ময়দানের বর্ণময় ছবি উপহার দিয়েছেন, প্রিয় দলের খেলায় আবেগাপ্লুত করেছেন, গ্যালারিতে হাজির থাকতে না পারার দুঃখ ভুলিয়েছেন। তিনি খেলার জগতে বাংলা ধারাবিবরণীর একমেবাদ্বিতীয়ম অজয় বসু ওরফে সার্বজনীন ‘অজয়দা’ ।
আজ তাঁকে ঘিরে কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতি রোমন্থন করব। তবে তার আগে একটু ইতিহাসে চোখ রাখা যাক। সালটা ছিল ১৯৫৭। সেই বছরেই রেডিওতে বাংলা ধারাবিবরণীর যাত্রা শুরু হয়েছিল এই অজয় বসুদের হাত ধরে। ইতোমধ্যে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এবং রাজেন সেনরা কিঞ্চিৎ চেষ্টা করেছিলেন খেলার মাঠ থেকে বাংলা ধারাবিবরণী প্রচার করতে। কিন্তু তা খুব সফল ও নিরবচ্ছিন্ন হয়ে ওঠেনি। এরপর কিঞ্চিৎ আগে-পরে খেলার মাঠের কথক হিসেবে আগমন ঘটল অজয় বসু, তাঁর অগ্রজপ্রতিম কমল ভট্টাচার্য ও সমসাময়িক পুষ্পেন সরকারের। এই ত্রয়ী ধারাভাষ্যকার ক্রিকেট এবং ফুটবলকে পৌঁছে দিলেন বাঙালির বৈঠকখানা থেকে অন্দরমহলে।
আমাদের ছেলেবেলাটা ছিল রেডিওর ধারাবিবরণীর যুগ। ধারাবিবরণীর মাধ্যমেই রেডিওয় কান রেখে আমাদের ‘খেলা দেখা’। মূখ্যত এই ত্রয়ীর কণ্ঠ আমাদের প্রায় নিয়মিত হাজির করাত খেলার মাঠে। এঁদের মধ্যে আমাকে বিশেষভাবে টানতেন অজয় বসু। তার মূল কারণ তাঁর ব্যক্তিত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর ও বাচনিক সাহিত্যধর্মিতা, যা তাঁর খেলার ধারাবিবরণীকে হৃদয়গ্রাহী করে তুলত।

কতকাল পেরিয়ে এসে আমাদের কৈশোর ও তারুণ্যের দিনগুলোর স্মৃতির দরজায় কান পাতলে আজও যেন শুনতে পাই তাঁর বেতারবাহিত নির্মেদ ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর। বাংলা গানের স্বর্ণযুগের মতো ধারাবিবরণীর জগতে তিনি যে সময়টাতে এসেছিলেন তাঁর অসামান্য বাচিক ক্ষমতা, বাংলাভাষার ওপর দখল ও ক্রীড়া-সাংবাদিকতার কুশলতা নিয়ে, সেই সময়টাকে বাংলা ধারাভাষ্যের স্বর্ণযুগ বললে অত্যুক্তি হয় না। একটুও বাড়িয়ে বলা হয়না অজয় বসুকে সে’ যুগের বাংলা ধারাবিবরণীর রাজাধিরাজ বললে। শুধু ইডেন উদ্যান কেন, যে কোনও মাঠ থেকে রেডিওয় “অজয় বসু বলছি” শুনলেই ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের কান উন্মুখ, হৃদয় উদ্বেল হয়ে উঠত। সংযমী বাচনভঙ্গি, শব্দচয়ন ও সর্বোপরি তাঁর জাদুমাখা কণ্ঠস্বরের গুণে তিনি জয় করেছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়।
ধারাভাষ্যকার হিসেবে তাঁর অনবদ্য কথকতার কয়েকটা নমুনা দিলে আজকের পাঠক কিছুটা আন্দাজ করতে পারবেন কোন্ উঁচু তারে বাঁধা থাকত তাঁর কথকতার মান।
অজয় বসু শুরুটা করতেন গাভাসকারের মতো কেতাবী ঢঙে – “নমস্কার। ক্রিকেটের নন্দন কানন ইডেন উদ্যান থেকে বলছি অজয় বসু”। মনে পড়ে, কতদিন ওঁর এই প্রাথমিক সম্ভাষনটুকু শোনার জন্যে ধারাবিবরণী শুরু হওয়ার দু’এক মিনিট আগে থেকে রেডিও খুলে বসে থাকতাম। এরপর শুরু করতেন খেলার মাঠের ও দর্শকদের মেজাজ, মাঠের আবহ ও প্রকৃতির বর্ণনা, খেলোয়াড়দের কুশলতা ও বিশেষ পারদর্শিতা নিয়ে ছোট ছোট বর্ণনা।

খেলার মধ্যে ঢুকে এক-একটি ছবির ফ্রেম তুলে দিতেন শ্রোতাদের শ্রবণ থেকে দর্শনে। যেমন কখনো তিনি বলতেন, ‘‘ব্যাটসম্যান সপাটে ব্যাট চালিয়েছেন, লাল বল সবুজ ঘাসের উপর মাটি কামড়ে চলে যাচ্ছে সীমানার ওপারে।’’ আমরা কল্পনায় দেখতে পেতাম বল চলে গিয়েছে বাউন্ডারির ওপারে। অথবা, ‘‘নৃত্যেরই তালে তালে বল করতে আসছেন রে লিন্ডওয়াল।’’ শ্রোতাদের চোখের সামনে ভেসে উঠত রে লিন্ডওয়ালের বোলিং অ্যাকশন।
উত্তেজনার পারদ আরও চড়ত ফুটবল খেলায়। বুদ্ধিমত্তা ও কুশলতার সঙ্গে স্থানীয় ভাষার প্রয়োগ ঘটাতেন অজয় বসু। ‘‘স্টপারের পায়ে বল, স্টপার বুঝতে পারছেন না কাকে বল দেবেন। বলটা তিনি গ্যারাজ করে দিলেন।’’ অর্থাৎ, বলটা গেল গোলকিপারের কাছে। অবিস্মরণীয় ভাষার সৌকর্য ও প্রয়োগ। কখনো কানে বাজে – ‘‘ইডেনের সবুজ ঘাসে-মোড়া ময়দানের বুক চিরে বল বাউন্ডারি সীমানার বাইরে, দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি হাঁকালেন গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ!’’ কিংবা ‘‘হাবিবের থ্রু, শরীরের দোলায় নইমকে টলিয়ে চোখধাঁধানো ব্যাকভলি শ্যামের এবং গো-ও-ল!’’
ব্যাক্তিগত জীবনে অজয় বসু মানুষটি ছিলেন সাহেবী পোষাকে কেতাদুরস্ত, ধুতি-পাঞ্জাবিতে ষোলো আনা খাঁটি বাঙালি। সপ্রতিভ, সুভদ্র ও পরিপাটি এক বাঙালি। অজয় বসুকে তাঁর গুণমুগ্ধরা অভিহিত করেছেন ‘বাংলা ধারাবিবরণীর উত্তমকুমার’ বলে। কেউ বা তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন “লাস্ট অফ দ্য মহীকানস”। অনেকের ধারণায় বাংলা ধারাভাষ্যের সর্বকালের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র ছিলেন তিনি।

এহেন মানুষটিকে দুটো দিন খুব কাছ থেকে ও পাশে থেকে দেখার ও তাঁর সঙ্গে গল্প করার সুযোগ আমার কাছে অভাবিতভাবেই এসেছিল সেই জলযাত্রায়। সপ্রতিভ, সুভদ্র ও বিনয়ী মানুষটি দুটি দিন তাঁর পরিশীলিত কথাবার্তায় ও আচরণে আমাকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। বেতার-কথকতায় তাঁর বাচিক দক্ষতার ছাপ ব্যক্তিগত আলাপচারিতাতেও দেখেছিলাম।
যাত্রাশুরুর পরদিন সকালে সুন্দরবনের নদীনালার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে আমাদের জলযান। ডেকের ওপর অজয়দা’র পাশে বসে শুনছি তাঁর মৃদু অথচ ঝকঝকে আলাপচারিতা। চতুর্দিকে জল ও জঙ্গলের যুগপৎ সমন্বয়ে সকালটি বড়ো মনোরম। যাত্রাপথটি মনোমুগ্ধকর।
এমন একটি মুহূর্তে এক অতি উৎসাহী তরুণ ক্লাব-কর্তা একটা ভিডিও ক্যামেরা (যা তখনকার সময়ে এদেশে বিরলপ্রায় ছিল এবং আয়তনে খুব ছোট ছিল না) হাতে নিয়ে অজয় বাবুর সামনে এসে দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোনটি তাঁর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, “এবার এই যাত্রাপথের একটা ধারাবিবরণী শুরু করবেন অজয়দা’। আমি রেকর্ড করব।”
অজয় বাবু কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে বললেন, “পাগল! এটা কি খেলার মাঠ নাকি? খেলোয়াড়, গ্যালারি আর দর্শক ছাড়া ধারাভাষ্য আমার দ্বারা হবে না।” তরুণটি নাছোড়বান্দা। শেষ পর্যন্ত সহযাত্রীদের সম্মিলিত আবদারে ধোপে টিঁকল না অজয়দা’র আপত্তি। হাতে মাইক্রোফোন নিলেন অজয়দা।
সে এক মনোরম অভিজ্ঞতা। কে বলবে তিনি আদতে খেলার মাঠের মানুষ! যখন মুখ খুললেন, যেন কোনো বাংলার অধ্যাপক তিনি। সাহিত্য রসে ভরপুর পরিশীলিত ভাষায় শুরু করলেন তাঁর কথকতা, ভেসে বেড়ালেন বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে। সকালের স্নিগ্ধতাকে গায়ে মেখে জলবিহারের মাধুর্য, সমুদ্রবাহিত তরঙ্গায়িত জলরাশির কলরোল, জঙ্গলাকীর্ণ খাঁড়ির আলো-আঁধারি, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য, তাকে উপজীব্য করে রাজ্যের উন্নয়নের সম্ভবনা, কত কিছুই যে উঠে এল অজয়দা’র ধারাভাষ্যের নিখুঁত বর্ণনায়। প্রথিতযশা ক্রীড়া সাংবাদিক ও ভাষ্যকারের এক অন্য ও অনন্য বাচিক কুশলতার সঙ্গে সেদিন পরিচয় ঘটেছিল উপস্থিত জনদের।
এর বছর দুয়েক পরের কাহিনি। অনুষ্ঠানটি ছিল, আগরপাড়া ইলিয়াস রোডের প্রভাসতীর্থে আয়োজিত শিশু ও কিশোরদের একটি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী সভা এবং তৎপরবর্তীতে “সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মারক বক্তৃতা”র আসর। পরিকল্পনা করা হল, এ’বছর বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে বিশিষ্ট ক্রীড়াভাষ্যকার ও সাংবাদিক শ্রী অজয় বসুকে। পূর্ব অভিজ্ঞতার নিরিখে অজয়দা’র বাংলা সাহিত্যের ওপর দখল ও বাচিক দক্ষতা সম্বন্ধে একটা ধারণা আমার ছিল বলে একটু ভিন্ন অঙ্গনের মানুষ হলেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিতে আমরা দ্বিধাহীন ছিলাম।
কিন্তু আমাদের এ’হেন প্রস্তাবে ঘোর আপত্তি জানালেন তিনি নিজেই। প্রস্তাবটি নিয়ে সেদিন ভোরবেলা হাজির হয়েছিলাম তাঁর গালিফ স্ট্রীটের বাসস্থানে। একটি সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠন আয়োজিত বিশিষ্ট বাগ্মী সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মারক বক্তৃতার কথা শুনেই ‘রে রে’ করে উঠলেন তিনি। বললেন, “এ অসম্ভব! তোমাদের কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?”
আমি বললাম, “কেন অসম্ভব? আপনি যে যে-কোনো বিষয়েই সুবক্তা হতে পারেন, আপনার সে পরিচয় কিন্তু আমার অজানা নয়।”

অজয়দা’ বললেন, “দেখো, আমি খেলার মাঠের মানুষ। সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের লোক নই। এমন একজন নক্ষত্রপ্রতিম বাগ্মীর নামাঙ্কিত স্মারক বক্তৃতার জন্য আমি আদৌ যোগ্য ব্যক্তি নই। তোমাদের নির্বাচনে ভুল হচ্ছে। তোমরা বরং কোনো বিশিষ্ট সাহিত্যিককে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করো।”
আমাদের অনেক আবেদন নিবেদনেও সাড়া দিলেন না অজয়দা’। তাঁর ওই এক কথা,”এই অনুষ্ঠানে আমি যেতে অপারগ। আমার পক্ষে এই গুরু দায়িত্ব বহন করা অসম্ভব।”
আশাহত হয়ে কিছুটা মরিয়া হয়েই আমি বললাম, “বেশ, আপনার কাছ থেকে একটা প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আজ আমরা ফিরে যাব। প্রশ্নটা হল, অগ্রগণ্য ক্রীড়া সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার শ্রী অজয় বসু কি মনে করেন না যে, খেলাধুলোর জগৎ বা ক্রীড়াক্ষেত্রটা একটা জাতির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হওয়া উচিত, যা ভারতবর্ষে হয়নি এবং যা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে হয়েছে বলেই ওরা খেলার জগতে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে।”
মাথাটা নিচু করে কয়েক মুহূর্ত থমকে রইলেন অজয়দা। তারপর চোখে চোখ রেখে বললেন,”তোমাদের স্মারক বক্তৃতার বিষয় কি রেখেছ?”
মনে হল, বরফ গলেছে। বললাম, “বিষয়টি হল, ‘জাতীয় জীবনে খেলা ও ক্রীড়া সংস্কৃতির ভূমিকা’।”
হেসে ফেললেন অজয়দা’। বললেন,”এমনটা তো ভাবিনি! একটা শিল্প সাহিত্য সংগঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচিত বিষয়টা নিঃসন্দেহে অভিনব। ঠিক আছে, আমি যাব।”
এসেছিলেন অজয়দা’। অতীব সুখশ্রাব্য একটি বক্তৃতায় বিমুগ্ধ করেছিলেন শ্রোতাদের। তবে আলোচনার মুখবন্ধে আমাদের আমন্ত্রণ পর্বের কথোপকথনটির উল্লেখ করে বলেছিলেন, “ওরা তর্কযুদ্ধে আমাকে ধরাশায়ী করে আজ এখানে নিয়ে এসেছে। আমার জ্ঞান চক্ষু উন্মিলিত হয়েছে। আর, এখানে এসে বুঝলাম যে, না এলে বড্ড ভুল হয়ে যেত।”
পেরিয়ে গেছে তিনটি দশক। কিন্তু আজও এক অসামান্য বাংলা ধারাবিবরণীকার, একজন সুবক্তা হিসেবেও রয়ে গেছেন আমাদের স্মৃতিপটে। দূরদর্শন যুগ শুরু হওয়ার পরবর্তী সময়ে বেতার-ধারাবিবরণীর সেই স্বর্ণযুগ আর নেই। তবে একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে অজয় বসু বাংলা ধারাবিবরণীর ইতিহাসে এমন একটি স্বাক্ষর রেখে গেছেন, যেটা আকাশবাণীর ইতিহাসের ও সেই সময়কালের বাঙালির পক্ষে ভোলা সম্ভব নয়। ২০০৪ সালে ৮৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুর পর যে শূন্যতা বাংলা ধারাবিবরণীর ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে, আজও তা পূরণ হয়নি।


“নমস্কার। ক্রিকেটের নন্দন কানন ইডেন উদ্যান থেকে বলছি অজয় বসু”। মনে পড়ল তোমায় পড়ল মনে। কি লিখেছেন – এও যেন এক ধারা বিবরণী। নির্মেদ, তাজা, সরস ও গতিমান। আপনার ‘ব্যক্তি সঙ্গ’ র কপালটি বাঁধিয়ে রাখার মত। আরো যা কিছু আছে ঝুলিতে ঝেড়ে ঝুড়ে বের করুন।
আপনার ভাঁড়ারেও সম্পদ কম নেই। সে আমার অজানা নয়।
ধারার মতো একটি বিবরণ। বেশ ভাল লাগল।
এই প্রতিবেদন আমাদের কাছাকাছি সময়ের সব মানুষকে এক স্মৃতিতরুর তলে একত্রিত করল। ধারাভাষ্যকারদের রাজার রাজা হলেও আপাদমস্তক সংস্কৃতিমনস্ক একজন মানুষের পরিচয়ও পাওয়া গেল এই প্রতিবেদনে।অন্য যেটা পাওয়া গেল সেটা হল,উনি একশো শতাংশ পারফেকশনিস্ট ছিলেন সব বিষয়ে।গল্পটি আগে শোনা থাকলেও আবার নতুন করে ভালো লেগেছে।
সপাটে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। তন্ময় দা