Category: লেখক

বাঙালির বিবর্তনের ভোটরঙ্গ
সদ্য সমাপ্ত হল বাংলার ভোটরঙ্গ, যাকে ঘিরে বিগত কয়েকটি মাস আবর্তিত হয়েছে বাঙালিজীবন। এবং বলা যেতে পারে, এখনও তার রেশ কাটেনি। তবে রঙ্গ বললেও একে তামাশা বলে তাচ্ছিল্য করা ঠিক হবেনা, কারণ ব্যাপারটা ঠিক ততটা হালকা করে দেখার উপায় নেই। পর্বে পর্বান্তরে পাঁচটি বছর করে বাঙালিজীবনের ঠিকাদারীত্ব যাদের হাতে থাকে, লঙ্কায় পৌঁছনোর পর তারা রাবণ…

রবীন্দ্রনাথ : অন্তরে বাহিরে এক নিরন্তর পর্যটক
যে বালকটি জোড়াসাঁকোর বাড়ির জানলার খড়খড়ি তুলে অপার বিস্ময়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখত পুকুরের জল, তাতে চরে বেড়ানো হাঁস, স্নানরত প্রতিবেশীরা, তার ধারে ঝুরি নামা বটগাছ, বালকটির সেই অপার কৌতূহল, বিশ্ববিখ্যাত মানুষ হবার পরেও রবীন্দ্রনাথ বুকের মধ্যে কোথাও হয়ত লুকিয়ে রেখেছিলেন । নইলে আমাদের মনে এই প্রশ্নটা উঁকি দেয়, জীবনের শেষ প্রহর অবধি তিনি এমন…

“অভাবনীয় ভাবেতে অবগাহি” : রবীন্দ্রনাথ ও নিবেদিতা
স্বামী বিবেকানন্দের ভারতপ্রীতি, হিন্দুসংস্কারপ্রীতি ও অন্যান্য চিন্তাধারা সঞ্চারিত হয়েছিল তাঁর প্রিয়তম শিষ্যা নিবেদিতার মধ্যে। তিনি অত্যন্ত স্বাধীনচেতা নারী ছিলেন সন্দেহ নেই কিন্তু স্বামীজির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এবং আনুগত্য ছিল অপরিসীম। প্রায় সমস্ত বিষয়েই স্বামীজির মতামত তিনি মেনে নিয়েছেন – কখনো স্বেচ্ছায়, সানন্দে – আবার কখনো হয়তো বাধ্য হয়ে। তেমন কোনো প্রতিবাদ বা বিদ্রোহ করেন নি।…

১৯৪০: সজনীকান্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্য রবীন্দ্রনাথ
কলকাতার ফুটপাত থেকে এবং চোরাবাজার থেকে পুরানো বই সংগ্রহ করা সজনীকান্তের একটা বাতিক ছিল। এইপথেই একদিন নগদ চার আনা দিয়ে ওজনে ভারী একটি বই কিনলেন – National Council of Education, Bengal Calendar 1906-1908. পরিশিষ্টে দেখা গেল একটি বাংলা প্রশ্নপত্র, নীচে লেখা Paper set by – Babu Rabindranath Tagore. প্রশ্নপত্রটি সজনীকান্তের অভিনব মনে হল। বেতনভোগী শিক্ষকের…

রবীন্দ্রনাথ ও দ্বিজেন্দ্রলাল – একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক
প্রথমেই বলে রাখি রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কথা মনে আনলেই দুঃখ লাগে বটে, কিন্তু তাঁকে অস্বীকার করার স্পর্ধা বা ইচ্ছা কোনোটই আমার আসে না । দ্বিজেন্দ্রলালের প্রসঙ্গে আমার প্রথমেই মনে পড়ে তাঁর রচিত গানগুলো, সেখানে অসামান্য সুর-ভাবনার জন্য। রবীন্দ্রনাথের গানের রূপের প্লাবন সত্ত্বেও দ্বিজেন্দ্রলালের গরিমা একেবারে স্বতন্ত্র। কথা আমাদের তেমন করে নাড়া দেয় না বটে,…

তালগাছ : পুনরধ্যয়ন, পুনর্মূল্যায়ন
একই রবীন্দ্রসৃষ্টি জীবনের এক এক পর্বে কত ভিন্ন ভিন্ন আবেদন নিয়ে আসতে পারে তার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত আমাদের শৈশবসাথী “শিশু ভোলানাথ” ও “সহজ পাঠে”র অন্তর্গত “তালগাছ” কবিতাটি। সেইসময় এটি ছিল একটি সুখপাঠ্য কবিতা। বিশেষ করে কবিতাটির কয়েকটি পংক্তি — যেমন, সারাদিন ঝরঝর থত্থর / কাঁপে পাতা-পত্তর— বালকমনে কী এক অজানা আলোড়ন তুলত।এরপর কালের নিয়মে শৈশবের পর…

আড়াল
-চল, আমার মামার বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। -তোর মামার বাড়ি ? -আঁতকে উঠছিস কেন, মামা নেই বলে ? আরে, শুধু মামা নেই নয়, মামা বাড়িও নেই, তবুও মামার বাড়ি। -তাহলে কোথায় নিয়ে যাবি, মামার বাড়ির গ্রামে ? -একদমই ঠিক ধরেছিস, আমার দিদিমা দাদুর ভিটে। আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরত্বে এই গ্রাম। গ্রাম, তবে…

অনুগল্প – তন্ত্রমন্ত্র ও শব্দ
১। তন্ত্রমন্ত্র মাস্টারমশাই তাঁর সম্ভাব্য ছাত্রের নাম দেখে তার বাবার সাথে কথাবার্তা শুরু করতে একটু সময় নিলেন। দু চার কথা ভাবতে ভাবতে জিজ্ঞেস করলেন,— ছেলের নাম রেখেছেন স্নায়ু? এই নাম হঠাৎ মাথায় এলো কেন? আপনার শুনতে অন্যরকম লাগলো, নাকি এর কোনো ইতিহাস আছে?— একটা ব্যাপার আছে স্যার।স্নায়ু তখনও জন্মায় নি। আমার মনটনের মতিগতি নিয়ে সমস্যা…

অনুবাদে স্রেচকো কোসোভেলের একগুচ্ছ কবিতা
(প্রাককথনঃ মধ্য ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত একটি ছোট বৈচিত্র্যময় দেশ স্লোভানিয়া। সেই দেশটির অকালপ্রয়াত তরুণ কবি স্রেচকো কোসোভেল, যিনি এক (১৯০৪-১৯২৬) গভীর অনুরাগে জড়িয়ে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের কবিতার সঙ্গে। তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন সেই স্থির আলোর শিখা যাকে আমরা প্রজ্ঞা বলি। দু’জনের পরিচয় হবার অবকাশ হয়নি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের প্রতি নিবিড় অনুরাগ এই তরুণ কবির…

আমার সুভাষচন্দ্র: কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন
(চতুর্থ পর্ব) আমার সুভাষ-অধ্যয়নের প্রধান উপকরণ হিসেবে যে বইগুলোর কথা এতক্ষণ বলেছি, সেগুলির বিভিন্ন অংশ আমি একটি ডায়েরিতে নোট করে রাখতাম, ভবিষ্যতে আমার সুভাষ-অনুধ্যানের উপাদান হিসেবে সেগুলিকে ব্যবহার করার জন্য। এই নোটবুকে আরো তিনটি বইয়ের নাম দেখতে পাচ্ছি, যেগুলির কথা এখনো বলিনি। এগুলি একদিকে সুভাষচর্চার উপাদান হিসেবে যেমন অতিশয় মূল্যবান, তেমনি বর্তমান পাঠকের কাছে কিছুটা…
