Category: সম্পাদকীয়

সার্ধশতবর্ষ অতিক্রান্ত শরৎচন্দ্র
একশ’ পঞ্চাশ বছরের সময়সীমা অতিক্রম করলেন কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬-২০২৬)। প্রায় নীরবেই। বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ পরবর্তী একটি নতুন সাহিত্যধারায় বাংলা সাহিত্যকে তিনি সামাজিক বঞ্চনা, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অস্ত্র করে তুলেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্রের ঘটনাবহুল আখ্যানের অনুসারী হলেন না তিনি, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যরুচি, ভাষা, মনন ও নন্দনতত্ত্বেরও করলেন না অনুসরণ। বরং তিনি প্রবেশ করলেন মানুষের একান্ত অন্তঃপুরে—…

#স্বাধীনতা
বর্তমানকালের একটি অমোঘ অস্ত্র হ্যাশট্যাগ, যাহা # (হ্যাশ) চিহ্নটি দ্বারা নির্মিত। তথ্যপ্রযুক্তির একটি বিশেষ সূচিপত্রর নাম হ্যাশট্যাগ। সামান্য বিশদে, নিম্নরূপে বলা যাইতে পারে। বহু মুদ্রিত পুস্তকের শেষভাগে বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ শব্দের তালিকার সঙ্গে পৃষ্ঠাসংখ্যার উল্লেখ পরিলক্ষিত হইয়া থাকে। পুস্তকের অগ্রভাগে নির্মিত সূচিপত্রের সহিত ইহার বৈশিষ্ট্যর পার্থক্য লক্ষণীয়। হ্যাশট্যাগ কতকটা গ্রন্থের অন্তসূচি, যাহা বৈদ্যুতিন তথ্যভান্ডারে পৃথক তালিকাভুক্ত…

পরিবর্তনের ঝড় চায় পরিমার্জনের উজান
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে ও নাগরিক-মনোজগতে বিগত দেড় দশকে যে শব্দটি পনেরো বছরের ব্যবধানে দুটি বার বিপুল অভিঘাত সৃষ্টি করল, তা হলো ‘পরিবর্তন’। এই অভিঘাতের কারণ একটা স্থবিরতা থেকে উত্তরণ, যা জনগণেরই দ্বারা নির্বাচিত শাসকের ক্ষমতার অপব্যবহারে ও বিবিধ অবিমৃশ্যকারিতায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছেই প্রায় মুক্তির সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়। জনপ্রিয়তা রূপান্তরিত হয় জনঘৃণায়। যে রাজনৈতিক শক্তিকে মানুষ…

প্রতিফলিত সত্য
১৮৩৯ সালে ফিলাডেলফিয়া নিবাসী এক যুবক রবার্ট কর্ণেলিয়াস, তাঁহাদের পারিবারিক গৃহের অঙ্গনে একটি ক্যামেরার সম্মুখে, কোন এক অপরাহ্ণে প্রায় পনেরো মিনিট স্থির হইয়া নিশ্চুপে দাঁড়াইয়া রহিলেন। পূর্ব হইতেই তাহার ক্যামেরাটিতে লেন্সের সূচিমুখ দিনের আলোর সহিত সামঞ্জস্য সাধন করিয়া রাখিয়াছিলেন এবং ক্যামেরার লেন্স আবরণীটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে খুলিয়া রাখিবারও একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কার করিলেন। ফলতঃ প্রস্তুত হইল পৃথিবীর…

বাঙালির বিবর্তনের ভোটরঙ্গ
সদ্য সমাপ্ত হল বাংলার ভোটরঙ্গ, যাকে ঘিরে বিগত কয়েকটি মাস আবর্তিত হয়েছে বাঙালিজীবন। এবং বলা যেতে পারে, এখনও তার রেশ কাটেনি। তবে রঙ্গ বললেও একে তামাশা বলে তাচ্ছিল্য করা ঠিক হবেনা, কারণ ব্যাপারটা ঠিক ততটা হালকা করে দেখার উপায় নেই। পর্বে পর্বান্তরে পাঁচটি বছর করে বাঙালিজীবনের ঠিকাদারীত্ব যাদের হাতে থাকে, লঙ্কায় পৌঁছনোর পর তারা রাবণ…

যুদ্ধ এবং শান্তি
“অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ–পৃথিবীতে আজ, যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা; যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই, প্রীতি নেই, করুণার আলোড়ন নেই পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া। – জীবনানন্দ কবি তাঁর সময়কালের পৃথিবীর এক জ্বলন্ত সত্যের মুখোমুখি আমাদের দাঁড় করিয়েছিলেন, যে সত্য আজও বহমান। একথা সর্বজনবিদিত যে মানব সভ্যতার উন্মেষ থেকেইযুদ্ধ মানুষের নিত্যসঙ্গী।সভ্যতার সেই ঊষাকালে মানুষের সংসারজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনের ভাবনা ছিল সুদূরপরাহত। বহুকোটি বছরের ঘাত-প্রতিঘাত ও অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে যাচাই হতে হতে পরিবর্তন ও পরিমার্জনে বিকশিত হয়ে উঠেছিল…

বিপন্ন বিস্ময়
শব্দরাজি ছুটিয়া বেড়ায়। হৃদয়ে, শোনিতে, মজ্জায়, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে। তাহার নিস্তার নাই। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় সম্মোহিত পাঠকের অনুরূপ অবস্থা। কিয়ৎকাল ভাবনায় প্রতিভাত হইতে পারে, স্বাভাবিক জীবনে আগ্রহ হউক। এক্ষণে জ্ঞানলাভ আবশ্যিক হইয়া পড়ে, স্বাভাবিক বলিতে কী প্রতীয়মান হয়? আর পাঁচজন যেমন করিয়া বাঁচিয়া রহিয়াছেন, প্রত্যহ বাজার করিয়া, রান্না চড়াইয়া, সন্তানের জন্ম দিয়া, অতঃপর সন্তান প্রতিপালনহেতু কর্ম…

মেলা বই, বইমেলা
‘বই’ আবিষ্কারের পর সেই আদ্যিকাল থেকে এই ছোট্ট দু’বর্ণের শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে থেকেছে পাঠক-হৃদয়ের যাবতীয় কৌতূহলের উদ্দীপনা, জ্ঞানস্পৃহা, ভালবাসার আবেগ, বৌদ্ধিক চর্চার উপকরণ। বই যেন এক গুপ্তধনের ভান্ডার, যা আবহমানকাল ধরে হাতছানি দিয়ে ডেকে চলেছে পাঠককে, ঝড় তুলে চলেছে উৎসুক মানুষের মনোবীণার তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে। মনের গভীরে বিষয়কে দ্রব করতে, মস্তিষ্কে ও মননে নিষিক্ত করতে, স্থায়িত্ব…

সালতামামি
বঙ্গদেশে শীত আসিয়া পড়িল। সম্বৎসর উষ্ণতা ও আর্দ্রতা লইয়া বিব্রত বাঙ্গালী, আবহাওয়ার এই তৃপ্তি উপভোগ করিবার উপলক্ষে, তাহার যাবতীয় গরম পোশাক জমাইয়া রাখিয়াছেন। কিছুকাল পূর্বেও গৃহস্থ বাড়ির অঙ্গনে প্রাক শীতের দ্বিপ্রাহরিক রৌদ্রকরজ্জ্বল অঘ্রাণ সুখ গায়ে মাখিয়া, তোরঙ্গ উদ্ঘাটিত রঙিন পশমের রকমারি শাল, সোয়াটার, কমফর্টার, দস্তানা, হনুমানটুপি ইত্যাদি শোভা পাইত। ধুনুরিদের টঙ্কারে পুরান লেপ, নূতন হইত।…

