

রাঙিয়ে দিয়ে যাও
“রঙ্গ বরষে ভিগে চুনার ওয়ালি রঙ্গ বরষে” – মাইকে তারস্বরে বেজে চলেছে। জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে রুকু দেখল নিচে সবাই খুব রঙ খেলছে। এতো রঙ মেখেছে সব যে চেনাই মুশকিল কোনটা কে। সেদিকে তাকিয়ে রুকুর মুখটায় যেন আষাঢ়ের মেঘ নেমে…

রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর ভিনদেশী ‘স্বজন’রা
কয়েক বছর আগে রবীন্দ্র-সাহিত্যের প্রখ্যাত জার্মান অনুবাদক মার্টিন কেম্পশ্যেন তাঁর শান্তিনিকেতনের আস্তানার গাছ-গাছালিতে ঘেরা প্রাঙ্গণে বসে একটি ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘সাধারণ বাঙালি রবীন্দ্রনাথকে আজও, মৃত্যুর পর আট দশক পেরিয়েও ঠিক মতো বুঝতে পারেনি। তারা তাঁকে শুধু বিশ্বকবি তকমায়…

তব জয়সঙ্গীত ধ্বনিছে
রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে অন্যান্য সংগীতের প্রধান পার্থক্য রবীন্দ্রনাথ গান লিখেছিলেন মহাকবির কলম হাতে নিয়ে। পৃথিবীতে এমন কোনো মহাকবি নেই যিনি সংগীত সৃষ্টির ক্ষেত্রে, কী পরিমাণে, কী বৈচিত্র্যে, কী উৎকর্ষের বিচারে রবীন্দ্রনাথের ধারে কাছেও আসতে পারেন। সংগীত, যা ভাষা ও সুরের মেলবন্ধনে…

চার্লস ফ্রিয়ার অ্যান্ড্রুজ – রবীন্দ্রনাথের ‘বড়ো ইংরেজ’
“Soft as slow-dropping waters in a poolKissed by the moon at midnight, deep and cool,Whose liquid sound upon the ear doth fallFraught with enchantment brooding over all –Such was the spell which held my soul in feeEntranced on hearing first…

হন্যমান স্বদেশ ও একজন কবি
ঊনিশশো পঁচাত্তর সালে প্রথম হরমন্দির সাহিব পরিসরের একপাশে প্রায় লুকিয়ে থাকা জালিয়াঁওয়ালাবাগের ভাঙাচোরা গলিতে পা রেখেছিলুম। ভিতরে কোটা’র লালপাথরের অমরজ্যোতি ছাড়া আর কোনও নির্মাণ ছিলো না। সামান্য কেয়ারি করা কিছু তৃণভূমি, নিস্তব্ধ পদচারণায় অন্যমনস্ক কিছু মানুষ। অন্যপ্রান্তে একটি শুকিয়ে যাওয়া…

গায়ক রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সংরক্ষিত কন্ঠ
আমাদের একটি দুঃখ কোনোদিন যাবেনা, যে দাপুটে কণ্ঠে ১৮৯৬ খৃস্টাব্দে বিডন স্কোয়ারে কংগ্রেসের অধিবেশনে যুবক রবীন্দ্রনাথ বিনা মাইক্রোফোনে শুধু জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিয়ানো বাদনের সঙ্গে ‘বন্দে-মাতরম’ গানটি গেয়ে প্রায় দশহাজার দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ এবংউদ্দীপ্ত করেছিলেন, সেই কন্ঠটিকে কোনো প্রযুক্তি দিয়ে ধরে রাখা…

সত্যজিতের মননে রবীন্দ্রনাথ
দুজনেই বৈশাখের জাতক I যদিও রবীন্দ্রনাথের অচিন্তনীয় প্রতিভার সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের রসসৃষ্টির অসাধারণত্ব ও স্বকীয়তা কোনোভাবেই তুলনীয় নয়, তবুও দুজনেই ছিলেন তাঁদের সমকালে বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের শীর্ষে। এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁদের খ্যাতি ও পরিচিতির মধ্যে সাদৃশ্যও চোখে পড়ার মতো। ১৯৫৫…

আমি, আমরা আর রবীন্দ্রনাথ
এই লেখার কেন্দ্রে চার সদস্য রয়েছে – আমি, আমরা, তুমি এবং রবীন্দ্রনাথ। বাজার ছাড়া সমাজের সর্বত্র, এমনকি এই পত্রিকাতেও এই চার চরিত্র হাত ধরাধরি করেই আছে। বাজারে অবশ্য কেউ কারুর নয়। চলুন, ঢুকে পড়া যাক এই চার সদস্যের মাঝখানে। শুরুতে…

রবীন্দ্রনাথের ব্যতিক্রমী দুটি গ্রীষ্মসঙ্গীত
গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে আলোচনার জন্য বেছে নিলাম দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত।রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি পর্যায়ের ২৮৩ গানের মধ্যে গ্রীষ্ম উপপর্যায়ের গানের সংখ্যা মাত্র ১৬। যেখানে বর্ষাসঙ্গীত ও বসন্তসঙ্গীতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১৪ ও ৯৬। রবীন্দ্রনাথ গ্রীষ্মের গান লিখতে শুরু করেন ৫৮ বছর বয়স…
