

‘বই’ আবিষ্কারের পর সেই আদ্যিকাল থেকে এই ছোট্ট দু’বর্ণের শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে থেকেছে পাঠক-হৃদয়ের যাবতীয় কৌতূহলের উদ্দীপনা, জ্ঞানস্পৃহা, ভালবাসার আবেগ, বৌদ্ধিক চর্চার উপকরণ। বই যেন এক গুপ্তধনের ভান্ডার, যা আবহমানকাল ধরে হাতছানি দিয়ে ডেকে চলেছে পাঠককে, ঝড় তুলে চলেছে উৎসুক…

সেকালের অন্তঃপুরের চালচিত্র এবং বাংলা ছড়ায় ধরা তার কিছু মর্মকথা
অন্তঃপুর শব্দটির অস্তিত্ব আজকাল অভিধানের বাইরে আর তেমন নেই । অন্তঃপুর বলতে ঠিক কি বোঝাতো তা যদি নতুন প্রজন্মের কেউ জানতেই চায়, তাহলে তাকে পুরোনো কালের গল্প উপন্যাস বা সেই সময়ে লেখা কোনো মহিলার আত্মকথা পড়া ছাড়া উপায় নেই। বাঙালির…

আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন [প্রথম পর্ব]
কবি সত্যেন দত্তের প্রয়াণে রচিত রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবিতাটির কয়েকটি ছত্র এ-রকমঃ- “আজো যারা জন্মে নাই তব দেশে,/ দেখে নাই যাহারা তোমারে, তুমি তাদের উদ্দেশে/ দেখার অতীত রূপে আপনারে করে গেলে দান/ দূর কালে। তাহাদের কাছে তুমি নিত্য গাওয়া গান/ মূর্তিহীন!…”…

চৈতন্যের খোঁজে
“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাসওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস”…এ বিশ্বাসের খন্ডন হলো না আজও। বিশ্বাসকে ধারণ করেই অনুকরণের অনাবিল আনন্দে ভেসে আছি আমরা। যুগ যুগ ধরে এ চর্চাই আমাদের মজ্জায় মজ্জায় প্রোথিত হয়েছে। বর্তমান সময়ের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় দাঁড়িয়েও অনুসরণে বিশ্বাস নেই…

উত্তরের জাহাজ
তিনটে জাহাজ হাওয়া ভরা পালে বেঁধে নিল দূরপাল্লা, বুড়ো ক্যাপ্টেন বুকে ক্রশ আঁকে, সারেঙরা হাঁকে আল্লা। কুন্ডলী পাকে অজগর বাঁকে ক্ষ্যাপা ঢেউ বুঝি গিলে খায় – পাগলা হাওয়ার তালতরঙ্গে তটিনী-নটিনী নেচে যায়। খুশীর তুলিতে ব্যাথার ইজেলে লোহিত-নীলাভ বীতশোক ; জাহাজ…

নাজেহাল
পরিমলবাবু ওষুধের বাক্স থেকে নিয়মমাফিক আজকের ওষুধগুলো বের করে টেবিলের উপর রাখলেন। তাঁর বয়স সত্তরের কাছাকাছি। বয়সের অসুখগুলো হাত ধরাধরি করে তাঁর সঙ্গী। হাই ব্লাডপ্রেসার, সুগার, কোলেস্টেরল, হার্ট আর লিভারের অসুখ। ঝকঝকে ফয়েল থেকে আঙুলের চাপ দিয়ে ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলগুলো…

গোলাপি পাথর
দুপাশ দিয়ে বড় বড় গাছগুলো, জঙ্গলের ভেতরে রাস্তা ঢেকে রেখেছে। রাতের অন্ধকারে জয়ন্ত-র মনে হচ্ছে, একটা লম্বা কালো সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকে গেছে। হাল্কা বৃষ্টির মতো হচ্ছে। তাপমাত্রা ঝপ করে চার পাঁচ ডিগ্রি কমে গেল। শীত-শীত শিরশিরানি বোধ জয়ন্তকে আলতো নাড়া…

দেবীপাট ও জলজঙ্গল
নীরবতাই ভাষা সেখানে। শব্দ মানে ট্রেসপাস। দেবীর রাজত্ব। যতোদূর চোখ যায়। শাল, সেগুন, গামার, সিসু, কেঁদ, কদম, পলাশ, শিমুল। দেবতারা সারি সারি বনস্পতি সেজে দাঁড়িয়ে আছেন। লালমাটির পথ ওঠে পড়ে। বের, করমের ডাল গায়ে এসে পড়বে এদিকওদিক করলেই। দেবরিগড় অভয়ারণ্যের…


