শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Poetry

  • দুটি কবিতা

    দুটি কবিতা

    ১. টানাপোড়েন দুটো পাহাড়ের মাঝে বয়ে যায় নদী বহু নীচু দিয়ে, ধারাল জলের দাঁতে তীব্র নদী খাত নীলচে সবুজ জল… ঢাল বেয়ে নেমে আসছে অবিরল ঝর্ণা ও প্রপাত দুটি পাহাড়েরই আছে যার যার নিজস্ব পাইন ঝাউ পাকদণ্ডী উতরাই চড়াই কিন্তু নদীর বেলা? একটা মাত্র নদী। তার ভাগ বাটোয়ারা মোটে নয় ততটা সহজ। নদীই সিদ্ধান্ত নিক……

  • প্রতিফলিত সত্য

    প্রতিফলিত সত্য

    ১৮৩৯ সালে ফিলাডেলফিয়া নিবাসী এক যুবক রবার্ট কর্ণেলিয়াস, তাঁহাদের পারিবারিক গৃহের অঙ্গনে একটি ক্যামেরার সম্মুখে, কোন এক অপরাহ্ণে প্রায় পনেরো মিনিট স্থির হইয়া নিশ্চুপে দাঁড়াইয়া রহিলেন। পূর্ব হইতেই তাহার ক্যামেরাটিতে লেন্সের সূচিমুখ দিনের আলোর সহিত সামঞ্জস্য সাধন করিয়া রাখিয়াছিলেন এবং ক্যামেরার লেন্স আবরণীটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে খুলিয়া রাখিবারও একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কার করিলেন। ফলতঃ প্রস্তুত হইল পৃথিবীর…

  • বাঙালির বিবর্তনের ভোটরঙ্গ

    বাঙালির বিবর্তনের ভোটরঙ্গ

    সদ্য সমাপ্ত হল বাংলার ভোটরঙ্গ, যাকে ঘিরে বিগত কয়েকটি মাস আবর্তিত হয়েছে বাঙালিজীবন। এবং বলা যেতে পারে, এখনও তার রেশ কাটেনি। তবে রঙ্গ বললেও একে তামাশা বলে তাচ্ছিল্য করা ঠিক হবেনা, কারণ ব্যাপারটা ঠিক ততটা হালকা করে দেখার উপায় নেই। পর্বে পর্বান্তরে পাঁচটি বছর করে বাঙালিজীবনের ঠিকাদারীত্ব যাদের হাতে থাকে, লঙ্কায় পৌঁছনোর পর তারা রাবণ…

  • অনুবাদে স্রেচকো কোসোভেলের একগুচ্ছ কবিতা

    অনুবাদে স্রেচকো কোসোভেলের একগুচ্ছ কবিতা

    (প্রাককথনঃ মধ্য ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত একটি ছোট বৈচিত্র্যময় দেশ স্লোভানিয়া। সেই দেশটির অকালপ্রয়াত তরুণ কবি স্রেচকো কোসোভেল, যিনি এক (১৯০৪-১৯২৬) গভীর অনুরাগে জড়িয়ে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের কবিতার সঙ্গে। তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন সেই স্থির আলোর শিখা যাকে আমরা প্রজ্ঞা বলি। দু’জনের পরিচয় হবার অবকাশ হয়নি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের প্রতি নিবিড় অনুরাগ এই তরুণ কবির…

  • বৃক্ষের কাছে

    বৃক্ষের কাছে

    বৃক্ষের কাছে কিছু শান্তি জমে আছে,আশ্রয় কিছু লগ্ন হয়ে আছে গভীর শিরায়প্রাচীন মাটির গন্ধ মেখে। কোটরে পাখিরনিশ্চিন্ত ওড়াউড়ি, চলে যাওয়া ইচ্ছেমতোফিরে আসা… সব,সবকিছু নিবিড় সখ্যতায়ওতপ্রোত আছে বৃক্ষের কাছে। গাছেদের কাছে তুমি চেয়েছো কখনও কিছু?পাতাদের আড়ালে আবডালেখেলা করে যে আবছায়া আলোকী নামে ডেকেছো তাকে?ভিজে মাটি আলগোছে ধরে রাখে পায়ের নরম,কী চোখে দেখেছো তাকে? হীরকদ্যূতির মতো নয়…

  • অনুবাদে ফেদেরিকো গার্সিয়ার লোরকার দুটি কবিতা

    অনুবাদে ফেদেরিকো গার্সিয়ার লোরকার দুটি কবিতা

    (ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার জীবনকাল ১৮৯৮ থেকে ১৯৩৬। সালভাদোর দালির অন্তরঙ্গ বন্ধু , নাট্যকার কবি – যাকে স্পেনের উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তি গুলি করে মেরেছিলো। সুনীল গাঙ্গুলীর একটা কবিতাও আছে – কবির মৃত্যু। শহীদ লোরকার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায় নি। কিন্তু তার কবিতা রয়ে গেছে। কালের স্রোতের শীর্ষে।) নিদ্রাহীন প্রেমের রাত রাত আমাদের কাছে এসেছিল, পূর্ণিমাকে নিয়ে।…

  • জীবনানন্দ

    জীবনানন্দ

    দ্রোহের আগুনে পুড়ছিল জীর্ণতা ,স্থবির আঁধার, স্বপ্ন, পুরাণ কথা,বিনির্মাণের তীব্র সে ঝঙ্কারশব্দে পয়ারে বেজেছিল বোধে তাঁর। ক্রমশ একাকী নিজেরই মুদ্রাদোষে ,নির্জনতার সেতার রক্তকোষে,ভাঙনের তীরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেনস্থির আঁধারের বুকে বনলতা সেন । ধানসিড়ি আজও পউষের জ্যোৎস্নায়,পৃথিবী প্রবীণ মিরুজিন নদীতীরে,তবুও রক্ত-রণ-উন্মাদনায়ঘুরে ঘুরে ফেরে আপন নষ্ট নীড়ে। হাজার বছর জোনাকির মতো জ্বলে,মহাপৃথিবীর মৃতদের কলরোলেনিহিত সত্য মৌন অন্ধকার –…

  • উত্তরের জাহাজ

    উত্তরের জাহাজ

    তিনটে জাহাজ হাওয়া ভরা পালে বেঁধে নিল দূরপাল্লা, বুড়ো ক্যাপ্টেন বুকে ক্রশ আঁকে, সারেঙরা হাঁকে আল্লা। কুন্ডলী পাকে অজগর বাঁকে ক্ষ্যাপা ঢেউ বুঝি গিলে খায় – পাগলা হাওয়ার তালতরঙ্গে তটিনী-নটিনী নেচে যায়। খুশীর তুলিতে ব্যাথার ইজেলে লোহিত-নীলাভ বীতশোক ; জাহাজ চলেছে বারদরিয়াতে, এপারে,ওপারে বহু লোক। প্রথম জাহাজ পশ্চিমা মুখে চকমকী চরে নোঙ্গর পায়, বরফে বাঁধানো…

  • ঘুণ

    ঘুণ

    ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l ভোট ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l তামঝাম ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l রোশনাই ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l রক্ত মুখ ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l উৎসব ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l পিশাচ ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l খুন ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l বলাৎকার ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l সমন্বয়…

  • ভেঙে যায় শব্দের অহঙ্কার 

    ভেঙে যায় শব্দের অহঙ্কার 

    পোস্টঅফিসের মোড়ে হঠাৎ দেখলাম তাঁকেশব্দহীন জটলায়। ব্যস্ত শহর।গাড়ির হর্ন।পথচারীর হন্তদন্ত হেঁটে যাওয়া —সমস্ত কোলাহল অতিক্রম করে বক্তব্য রাখছেন তিনিনির্বাক ঈশারার অমোঘ সংকেতে।সামনে ফেস্টুন হাতেশব্দের জগৎ থেকে নির্বাসিত নাগরিক ভিড়।প্রতিবাদ আর প্রত্যয়ের অভিব্যক্তি মুহুর্মুহু জেগে উঠছেশব্দকে অতিক্রম করে যাওয়া ভাষাহীন মুখে। ওরা দেখেনিচারপাশের সব আলো যেন নিভে এলোঅন্ধকার জনারণ্যে জেগে রইল সেই নিঃশব্দ ভিড়আরমৃত জোনাকির মতো…