Tag: Poetry

“বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ”
সমগ্র বিশ্বে তৃণের আসন জুড়িয়া রহিয়াছে। অথচ মনুষ্য জাতির মানবিক অস্তিত্বের প্রেক্ষাপটের তৃণের স্থান অতীব অকিঞ্চিতকর। নগরায়নের আগ্রাসনে তৃণভূমি বিলীয়মান। গ্রামীণ পরিবেশে অদ্য কৃষকের হস্তেও তৃণ ধ্বংসকারী রাসায়নিক। ইহার নির্বিচার ব্যবহারে প্রায়শঃই দগ্ধতৃণভূমি পরিলক্ষিত হয়। নিরীক্ষণ করিলে বুঝা যায়, অগ্নি সহযোগে তৃণ দগ্ধ হয় নাই, বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে উহার এমত পরিণতি। ইহাতে পরিবেশ ও তৃণভোজী…

প্রভাতপাখি
যখন তোমার সত্ত্বা দুটো দাঁড়িয়ে যুদ্ধ প্রান্তরে,তখন তোমার আত্ম-জগৎ পেরিয়ে যাওয়ার গান ধরে। পিতৃ সত্ত্বা শোকাহত, শ্মশান ফেরত বাবার চোখকিন্তু যখন তোমার মধ্যে লেখক সত্ত্বা খুঁজছে লোক— তখন তুমি কোনটা বাছবে? শরীর নাকি দূরের খোঁজ!নিজেকে তাই ঢেলেই দিলে, যীশুর যেমন নৈশভোজ… একটা সত্ত্বা কাঁদছে বলে, অন্যটার কী ভুল-ত্রুটি?জীবন দিয়েই বুঝিয়ে দিলে, আসল কবির নেই ছুটি!…

সার্ধশতবর্ষ অতিক্রান্ত শরৎচন্দ্র
একশ’ পঞ্চাশ বছরের সময়সীমা অতিক্রম করলেন কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬-২০২৬)। প্রায় নীরবেই। বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ পরবর্তী একটি নতুন সাহিত্যধারায় বাংলা সাহিত্যকে তিনি সামাজিক বঞ্চনা, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অস্ত্র করে তুলেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্রের ঘটনাবহুল আখ্যানের অনুসারী হলেন না তিনি, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যরুচি, ভাষা, মনন ও নন্দনতত্ত্বেরও করলেন না অনুসরণ। বরং তিনি প্রবেশ করলেন মানুষের একান্ত অন্তঃপুরে—…

জাতকের গল্প
দিগন্ত দেখব বলে বেরিয়ে বেমালুম এক সরু গলির মধ্যে ঢুকে পড়েছি কিছুটা এগিয়েই, টের পেয়েছি এটা কানাগলি, যার লজ্জা নেই ঘেন্না নেই… গন্তব্যেরও ভয় নেই কোনও দিনগুলোকে মাপি ছায়া দিয়ে, রাত মেপেছি অন্ধকারের নিরিখে জানলার পর্দা সরিয়ে কেউ কেউ কথা বলে দিগন্তের মত ভিনদেশি শব্দ শুনলে ওরা টাকরায় চটকার মত শব্দ তোলে পর্দা সরিয়ে এই…

#স্বাধীনতা
বর্তমানকালের একটি অমোঘ অস্ত্র হ্যাশট্যাগ, যাহা # (হ্যাশ) চিহ্নটি দ্বারা নির্মিত। তথ্যপ্রযুক্তির একটি বিশেষ সূচিপত্রর নাম হ্যাশট্যাগ। সামান্য বিশদে, নিম্নরূপে বলা যাইতে পারে। বহু মুদ্রিত পুস্তকের শেষভাগে বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ শব্দের তালিকার সঙ্গে পৃষ্ঠাসংখ্যার উল্লেখ পরিলক্ষিত হইয়া থাকে। পুস্তকের অগ্রভাগে নির্মিত সূচিপত্রের সহিত ইহার বৈশিষ্ট্যর পার্থক্য লক্ষণীয়। হ্যাশট্যাগ কতকটা গ্রন্থের অন্তসূচি, যাহা বৈদ্যুতিন তথ্যভান্ডারে পৃথক তালিকাভুক্ত…

দুটি কবিতা
১. টানাপোড়েন দুটো পাহাড়ের মাঝে বয়ে যায় নদী বহু নীচু দিয়ে, ধারাল জলের দাঁতে তীব্র নদী খাত নীলচে সবুজ জল… ঢাল বেয়ে নেমে আসছে অবিরল ঝর্ণা ও প্রপাত দুটি পাহাড়েরই আছে যার যার নিজস্ব পাইন ঝাউ পাকদণ্ডী উতরাই চড়াই কিন্তু নদীর বেলা? একটা মাত্র নদী। তার ভাগ বাটোয়ারা মোটে নয় ততটা সহজ। নদীই সিদ্ধান্ত নিক……

প্রতিফলিত সত্য
১৮৩৯ সালে ফিলাডেলফিয়া নিবাসী এক যুবক রবার্ট কর্ণেলিয়াস, তাঁহাদের পারিবারিক গৃহের অঙ্গনে একটি ক্যামেরার সম্মুখে, কোন এক অপরাহ্ণে প্রায় পনেরো মিনিট স্থির হইয়া নিশ্চুপে দাঁড়াইয়া রহিলেন। পূর্ব হইতেই তাহার ক্যামেরাটিতে লেন্সের সূচিমুখ দিনের আলোর সহিত সামঞ্জস্য সাধন করিয়া রাখিয়াছিলেন এবং ক্যামেরার লেন্স আবরণীটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে খুলিয়া রাখিবারও একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কার করিলেন। ফলতঃ প্রস্তুত হইল পৃথিবীর…

বাঙালির বিবর্তনের ভোটরঙ্গ
সদ্য সমাপ্ত হল বাংলার ভোটরঙ্গ, যাকে ঘিরে বিগত কয়েকটি মাস আবর্তিত হয়েছে বাঙালিজীবন। এবং বলা যেতে পারে, এখনও তার রেশ কাটেনি। তবে রঙ্গ বললেও একে তামাশা বলে তাচ্ছিল্য করা ঠিক হবেনা, কারণ ব্যাপারটা ঠিক ততটা হালকা করে দেখার উপায় নেই। পর্বে পর্বান্তরে পাঁচটি বছর করে বাঙালিজীবনের ঠিকাদারীত্ব যাদের হাতে থাকে, লঙ্কায় পৌঁছনোর পর তারা রাবণ…

অনুবাদে স্রেচকো কোসোভেলের একগুচ্ছ কবিতা
(প্রাককথনঃ মধ্য ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত একটি ছোট বৈচিত্র্যময় দেশ স্লোভানিয়া। সেই দেশটির অকালপ্রয়াত তরুণ কবি স্রেচকো কোসোভেল, যিনি এক (১৯০৪-১৯২৬) গভীর অনুরাগে জড়িয়ে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের কবিতার সঙ্গে। তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন সেই স্থির আলোর শিখা যাকে আমরা প্রজ্ঞা বলি। দু’জনের পরিচয় হবার অবকাশ হয়নি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের প্রতি নিবিড় অনুরাগ এই তরুণ কবির…

বৃক্ষের কাছে
বৃক্ষের কাছে কিছু শান্তি জমে আছে,আশ্রয় কিছু লগ্ন হয়ে আছে গভীর শিরায়প্রাচীন মাটির গন্ধ মেখে। কোটরে পাখিরনিশ্চিন্ত ওড়াউড়ি, চলে যাওয়া ইচ্ছেমতোফিরে আসা… সব,সবকিছু নিবিড় সখ্যতায়ওতপ্রোত আছে বৃক্ষের কাছে। গাছেদের কাছে তুমি চেয়েছো কখনও কিছু?পাতাদের আড়ালে আবডালেখেলা করে যে আবছায়া আলোকী নামে ডেকেছো তাকে?ভিজে মাটি আলগোছে ধরে রাখে পায়ের নরম,কী চোখে দেখেছো তাকে? হীরকদ্যূতির মতো নয়…
