Tag: Bengali Literature

‘এ কথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে – সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয়’ (শঙ্খ ঘোষ)
সত্তরের দশকের প্রথম দিকে টাটা-বাবার গাঁয়ে সে এক শীতার্ত সান্ধ্য প্রহর। কিছু পণ্ডিত, কিছু পণ্ডিতম্মন্য আর কিছু নির্ভেজাল সংস্কৃতি প্রেমিক শ্রোতা জড় হয়েছেন একটি ইশকুলের নাতি বৃহৎ সভাগারে। নিতান্ত বালক দুখিরামও রয়েছে তার বাবার পাশটিতে, লেজুড় হয়ে । কথা হচ্ছে সেই মনোরম শীত সন্ধ্যায় ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি না খেলে, মুড়ি পাটালি না খেয়ে, ‘কুমোর পাড়ার গরুর…

জীবনানন্দ
দ্রোহের আগুনে পুড়ছিল জীর্ণতা ,স্থবির আঁধার, স্বপ্ন, পুরাণ কথা,বিনির্মাণের তীব্র সে ঝঙ্কারশব্দে পয়ারে বেজেছিল বোধে তাঁর। ক্রমশ একাকী নিজেরই মুদ্রাদোষে ,নির্জনতার সেতার রক্তকোষে,ভাঙনের তীরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেনস্থির আঁধারের বুকে বনলতা সেন । ধানসিড়ি আজও পউষের জ্যোৎস্নায়,পৃথিবী প্রবীণ মিরুজিন নদীতীরে,তবুও রক্ত-রণ-উন্মাদনায়ঘুরে ঘুরে ফেরে আপন নষ্ট নীড়ে। হাজার বছর জোনাকির মতো জ্বলে,মহাপৃথিবীর মৃতদের কলরোলেনিহিত সত্য মৌন অন্ধকার –…

দুই বিপ্রতীপ ভাবনার সহাবস্থান
গান্ধী ও জওহরলাল – বিপরীত মেরুর দুই বাসিন্দার দূরত্ব ও নৈকট্যের অন্বেষণ “ MY MIND IS MORE IN TUNE WITH TAGORE THOUGH MY ACTION IS CONDITIONED BY GANDHI.” JAWAHARLAL NEHRU ২০১১ সালে প্রথম প্রকাশনার পর আমার সংগ্রেহে অতি সম্প্রতি জায়গা করে নিল অর্জুন দেব সম্পাদিত ‘Gandhi-Nehru Correspondence – A Selection’ বইটি । গান্ধী-নেহরুর পাস্পরিক সম্পর্ক…

এক জার্মান ‘শান্তিনিকেতনী’র কথা
বিস্মৃতিচারণা (১৯) প্রায়শই শান্তিনিকেতনে আসি বা আসার ইচ্ছের কথা শুনে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি, “এখনও কিসের টানে আ্সেন শান্তিনিকেতনে? সেই শান্তিনিকেতনকে এখনও পান আপনি?” বলেছিলাম – “কিন্তু তাঁকে যে পাই এখানকার আকাশে বাতাসে, গৌর প্রাঙ্গনে, ছাতিমতলায়। চোখ বুজলে দেখতে পাই, শালবিথীতে হেঁটে বেড়াচ্ছেন তিনি। বৈকালিক চায়ের আসরে যোগ দিচ্ছেন দিনু ঠাকুরের দিনান্তিকায়, গান বাঁধছেন, গান তুলে…

প্রতিদিন শত তুচ্ছের মাঝে আড়ালে আড়ালে
প্রতিদিনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ অতি সামান্য ঘটনা থেকে কিভাবে উৎসারিত হয় অসামান্য নান্দনিক সৃষ্টি তার বহু দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের গানরচনার ইতিবৃত্তে। তেমনই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সুপরিচিত এই গানটি : আমার কণ্ঠ হতে গান কে নিল ভুলায়ে। এই গানটি রচনার উপলক্ষ হয়ত সকলেরই জানা। তবু যদি কারও অজানা থাকে তাই এর নেপথ্য কাহিনিটি তুলে ধরলাম। যাদের জানা…

ব্যতিক্রমী অভিধার এক “শিল্পী” রবীন্দ্রনাথ ব্যতিক্রমী তাঁর ধর্ম এবং ঈশ্বর ভাবনা
তাচ্ছিল্য করে ছোট করতে গিয়ে মৌলবাদী বাঙালি মুসলমানেরা রবীন্দ্রনাথকে একজন হিন্দু বিবেচনা করেন। এবং অনেক সময়ই অভ্যাসগতভাবে তাঁকে গালি দিয়ে হেয় করে থাকেন। আবার মৌলবাদী নন যাঁরা,পরিশীলিত কিংবা মুক্তমনা যাঁরা, তাঁরা মৌলবাদীদের ভুল ধরিয়ে দিয়ে বলেন, রবীন্দ্রনাথ মূর্তিপূজক হিন্দু ছিলেন না, ছিলেন এক ঈশ্বরের উপাসক, ব্রাহ্ম। এখন প্রশ্ন হল, যে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এত আগ্রহ আমাদের,…

গুড়ের আমি গুড়ের তুমি গুড় দিয়ে যায় চেনা
পাটালি গুড়ের কথা মনে আছে? সেই হারিয়ে যাওয়া গুড়ের কথা বলছি। অর্ধেক গোলকাকৃতির হালকা লালচে একটা পাটা থেকে এক টুকরো ভেঙে নিয়ে মুখে পুরে দাও। আহা! স্বর্গ যেন জিভের ছোঁয়ায়। সকালের টিফিনে দুধরুটি। সাথে কয়েক টুকরো পাটালি। কিংবা শুধু রুটি সাথে আর কিচ্ছুটি চাইনা। একটা বড় ফিটকিরি সাইজের পাটালির টুকরো। সন্ধেবেলায় মুড়ির আড্ডা। সাথে পাটালি।…

সেকালের অন্তঃপুরের চালচিত্র এবং বাংলা ছড়ায় ধরা তার কিছু মর্মকথা
অন্তঃপুর শব্দটির অস্তিত্ব আজকাল অভিধানের বাইরে আর তেমন নেই । অন্তঃপুর বলতে ঠিক কি বোঝাতো তা যদি নতুন প্রজন্মের কেউ জানতেই চায়, তাহলে তাকে পুরোনো কালের গল্প উপন্যাস বা সেই সময়ে লেখা কোনো মহিলার আত্মকথা পড়া ছাড়া উপায় নেই। বাঙালির একান্নবর্তী পরিবারকে পটভূমি করে লেখা সেই অনবদ্য গল্প-উপন্যাসগুলো অবশ্য ততদিন বেঁচে থাকবে যতদিন না আমরা…
![আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন [প্রথম পর্ব]](https://robichakro.com/wp-content/uploads/2026/01/Subhas-Chandra-000.jpg)
আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন [প্রথম পর্ব]
কবি সত্যেন দত্তের প্রয়াণে রচিত রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবিতাটির কয়েকটি ছত্র এ-রকমঃ- “আজো যারা জন্মে নাই তব দেশে,/ দেখে নাই যাহারা তোমারে, তুমি তাদের উদ্দেশে/ দেখার অতীত রূপে আপনারে করে গেলে দান/ দূর কালে। তাহাদের কাছে তুমি নিত্য গাওয়া গান/ মূর্তিহীন!…” অনাগত কালের কাছে এই ‘নিত্য গাওয়া গান’ হয়ে থেকে যাওয়া যে খুব সহজ ব্যাপার নয়।…

চৈতন্যের খোঁজে
“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাসওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস”…এ বিশ্বাসের খন্ডন হলো না আজও। বিশ্বাসকে ধারণ করেই অনুকরণের অনাবিল আনন্দে ভেসে আছি আমরা। যুগ যুগ ধরে এ চর্চাই আমাদের মজ্জায় মজ্জায় প্রোথিত হয়েছে। বর্তমান সময়ের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় দাঁড়িয়েও অনুসরণে বিশ্বাস নেই আমাদের, অনুকরণই অতি সহজ পথ। অতি সহজ পথে চলতে গিয়েই ভুলতে বসেছি নিজেদের ঐতিহ্য এবং…
