Tag: Webzine

ভূতের দৌলতে
দর্পহারী দাম সাবধানে সদ্য ছাড়া সার্টটিকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। প্রথম পর্যায়ের নিরীক্ষণ সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় পর্যায়ে গেলেন অর্থাৎ নাক থেকে ছয় ইঞ্চি দূরে রেখে একবার অনুলোম স্টাইলে দীর্ঘনিশ্বাস নিলেন। ঠিক তখনই পিছন থেকে শৈবলিনী দাম বললেন ‘ওটা কি হচ্ছে’? দর্পহারী বাবু – যাকে বলে – তড়িতাহতবৎ পিছনে ঘুরে দেখলেন হাতে ধূমায়িত চায়ের কাপ সহ স্ত্রীকে।…

চন্দ্রাস্ত
ভানুকে আমি নিয়ে এসেছিলাম গোয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ৷ ভানু একটি গোয়ান বৃদ্ধের মাটির মূর্তি ৷ এক প্রান্তিক শিল্পীর পুতুল তৈরীর কারখানায় ভানুকে যখন প্রথম দেখি –তখন সে গ্রামে বিকেলের ছায়া পড়েছে ৷ গরম থাকলেও সূর্যের তেজ কমছে ৷ কারখানার ভেতরে বেশ অন্ধকার ছিল – শুধু চালাঘরের চারপাশের ফুটো দিয়ে বিকেল ঢুকে ভানুর মুখে আলো…

দুই কবি ও এক তরুণ গায়ক
প্রভাসতীর্থে এলেন দুই কবি। একজন প্রবীণ, অপরজন নবীন। প্রবীণ পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, নবীন কবি জয় গোস্বামী। অনুষ্ঠানটির শিরোনামও ছিল “দুই কবি”।

কীট-দষ্ট ফুল
মৌন পাহাড়ের পাশে সাজিয়ে রাখি শান্ত নদীটিকে।মন্ত্রের মতো ভোর,শান্ত অবগাহনপায়ে পায়ে মখমলি সবুজ, আরআকাশে গভীর সমুদ্রের নীল। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা নয়,কাশ্মীর ফেরি করে এ স্বপ্ন, স্বপ্নের মতো ছবি। মনে পড়ে,পহেলগাঁওয়ের ইয়াসিনকে,নিজের খাবার থেকে এক টুকরো ‘গিরদা’ হাতে দিয়ে বলেছিল,‘মেহেমাননওয়াজি’ কাকে বলে জানে ওরাবলেছিল,‘আল্লাহ সবার,সন্ত্রাস নয়’।ফিরানের ভেতর কাংড়ির কাঠকয়লার ব্যথাতুর আগুনদেখেছিলাম ওর চোখে। সামনে লিডার।পশ্চিম আকাশে সূর্য…

স্বাধীনতা
১স্বাধীনতা ছাড়া এতসুখ পেতাম কোথায় ? ধ’রে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবনতুবা মেরে হিন্দুস্থান ‘তোর বাপের দেশে গিয়ে কথা বলরাতদুপুরে সবুজ আলো, ‘মাইরি বলছি, এক্কেবারে ডাঁশা। খুলে ফেলো দেখি তালা’।গাছের ডালে ডালে ঢিল বেঁধে টাঙিয়ে দিয়েছি ইচ্ছে গুলো। “জয় শ্রীরাম অথবা আল্লাহ আকবর” – সব দোষ ওই লালমুখোদের … ফাটাও গলা। “সারে জাঁহাসে আচ্ছা”। হা হা, স্বাধীনতা…

স্বরাজ-যাপন
গিন্নি তুমি পালিয়ে কোথায় গেলে,জানো না, আজ বিশেষ প্রিয় দিন?জমিয়ে কড়া চা-টা বানাও ভোরেজানো তো, আজ হয়েছি স্বাধীন? বিশাল ভিড়ে লাইনে ঘেমে নেয়েঅনেক কষ্টে মাংস পেলাম আজ,কষিয়ে রাঁধো, ফাটিয়ে লঙ্কা দিয়েজানো তো আজ পেয়েছি স্বরাজ? সাতটা মঞ্চে ভাষণ দিয়ে ফিরেঘরেই দেখি, পতাকা তোলা বাকি,আরে ছাড়ো, পাবলিক কী বোঝে..তারা জানে, দিলাম কেমন ফাঁকি? সকালবেলায় প্রভাতফেরীর হাঁটা,ফিরেই…

“কোথায় আলো, কোথায় ওরে আলো?”
যে প্রশ্নটা প্রায়শই আমাদের মনে ভাবনার উদ্রেক করে তা হল, দেশের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও শিক্ষাব্যবস্থার সম্পর্কটা ঠিক কী রকম হওয়া কাঙ্খিত? আমরা জানি, এই দুটিই জাতির পক্ষে অপরিহার্য এবং আপাতদৃষ্টিতে ধারা দুটির চলন সমান্তরাল রেখার মতো হওয়াই কাম্য। কিন্তু অন্য দিক দিয়ে অস্বীকার করার উপায় নেই যে দেশের শিক্ষা পরিকাঠামো দেশের শাসনব্যবস্থার অঙ্গ। শিক্ষাব্যবস্থার আধার…

দিনান্তবেলার রক্তিম মরীচিকা
বর্ণান্ধতা এক ধরনের রোগ, যা সারা পৃথিবীতে পুরুষদের ক্ষেত্রে খুব বিরল রোগ নয়। অনেকে এই রোগ নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দেয় কিছু বুঝতে না পেরেই। সমস্যাটা বিশেষ করে বোঝা যায় ছবি আঁকতে গেলে। এই রোগ থাকলে সাধারণত লাল বা সবুজ রঙ ঠিক মত দেখতে পাওয়া যায় না। রবীন্দ্রনাথের নিজের ধারণা ছিল তিনি লাল রঙ ঠিক মতো…

রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ বছর
“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি বিচিত্র ছলনাজালে, হে ছলনাময়ী..” . —–রবীন্দ্র -জীবনে শেষ বছর। মর্ত্য থেকে বিদায় নেবার এক বৎসর আগে কবির গলায় ক্লান্তির সুর। সুদীর্ঘ জীবনের পথ-পরিক্রমায় তিনি হারিয়েছেন মাতা পিতা পত্নী পুত্রকন্যা সন্তানতুল্য নিকটাত্মীয় এবং বহু প্রিয় বন্ধুকে। বিদেশী বন্ধুদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে অন্তরঙ্গ দীনবন্ধু এনড্রুজ, যিনি বলে ছিলেন… my…

চলিয়াছি গৃহপানে…
[২৫ জুলাই , ১৯৪১ সাল। দিনটি শুক্রবার। সাতসকালেই আশ্রমবাসীরা সমবেত কণ্ঠে এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’ গাইতে গাইতে রবীন্দ্রনাথকে অর্ঘ্য অর্পণ করল। শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলেছেন কবি। আর কোনদিন ফিরবেন না , বোধ হয় বুঝতে পেরেছেন তিনি। যাওয়ার আগে মোটরগাড়িতে চেপে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সবার সঙ্গে দেখা করলেন, গাড়িতে করেই গোটা আশ্রম ঘোরানো হলো…
