Tag: Bengali Literature

বৃক্ষের কাছে
বৃক্ষের কাছে কিছু শান্তি জমে আছে,আশ্রয় কিছু লগ্ন হয়ে আছে গভীর শিরায়প্রাচীন মাটির গন্ধ মেখে। কোটরে পাখিরনিশ্চিন্ত ওড়াউড়ি, চলে যাওয়া ইচ্ছেমতোফিরে আসা… সব,সবকিছু নিবিড় সখ্যতায়ওতপ্রোত আছে বৃক্ষের কাছে। গাছেদের কাছে তুমি চেয়েছো কখনও কিছু?পাতাদের আড়ালে আবডালেখেলা করে যে আবছায়া আলোকী নামে ডেকেছো তাকে?ভিজে মাটি আলগোছে ধরে রাখে পায়ের নরম,কী চোখে দেখেছো তাকে? হীরকদ্যূতির মতো নয়…

ময়ূরাক্ষী
ট্রেন যখন গন্তব্যে পৌঁছল তখন বেলা চারটে চল্লিশ। স্টেশনটা অনেক প্রশস্ত। ওভার ব্রিজ ধরে এগোতে এগোতে তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাথায় এসে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে চারপাশটা দূর থেকে দেখতে ইচ্ছে হল অনিমিখের। ময়ূরাক্ষী। তাঁর বাবা এই নদীটিকে খুব ভালবাসতেন। কাঁধ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে পায়ের কাছেই রাখল। দূরে আবছা ময়ূরাক্ষী। ধবধবে সাদা বালি আর নেই। রিভার বেড জুড়ে…

নীহারিকা
কতটা দূরে থাকলে দূর মনে হয়? রজতের জানা নেই। কখনও এমন হয়েছে, কোনদিন হয়তো রাগ করে নীহারিকা পাশের ঘরে গিয়ে দরজা দিয়েছে। একা বিছানায় রজত, ছাদ-পাখা দেখে দেখে ঘুমোনোর চেষ্টা করেছে, অথচ দেওয়াল লাগোয়া ঘরের দূরত্ব অলঙ্ঘ্য মনে হয়েছে। কিন্তু আজ সত্যিসত্যিই ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক। এই ব্যবধান কি মনের দূরত্ব বাড়িয়ে তোলে? এখন তো ভিডিও…

সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি গ্রাম ভেংগেন (Wengen)
সময়টা ছিল ২০২২ সালের জুলাই মাস। সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে আমার মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলাম। এই সময়টা এখানের summer কিংবা spring বলা যায়। আমাদের ভারতে যখন গ্রীষ্মের দাবদাহ, তখন এখানে রোদ একটু তীব্র হলেও এই সময়টাই বেড়াবার সময়। ভেংগেন (Wengen) এখানকার অপূর্ব সুন্দর ছবির মতো একটি পাহাড়ি গ্রাম। Eiger station থেকে টানেলের ভিতর দিয়ে ট্রেনে…

ছবি ও কাঠের আড়বাঁশি
(১) ছবি — কি খুঁজছো সারা বিছানায় এতো ছবি ছড়িয়ে রেখে? — ছবি খুঁজছি। — কি ছবি? তোমার সেই রক্তকরবী’র সাদাকালো ছবি? — হোক না সাদাকালো। আমি তো রঙ দেখতে পাই ওতে। ফুল পড়লে যে বেতের ঝুড়িতে কুড়িয়ে আনতাম সেটাও দেখতে পাই। দেখি হালকা গোলাপী রঙের দোতলা বাড়িটা। সামনে সারাবাড়ি ঘিরে কতরকম রঙের পপি লাগিয়েছিল…

বিপন্ন বিস্ময়
শব্দরাজি ছুটিয়া বেড়ায়। হৃদয়ে, শোনিতে, মজ্জায়, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে। তাহার নিস্তার নাই। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় সম্মোহিত পাঠকের অনুরূপ অবস্থা। কিয়ৎকাল ভাবনায় প্রতিভাত হইতে পারে, স্বাভাবিক জীবনে আগ্রহ হউক। এক্ষণে জ্ঞানলাভ আবশ্যিক হইয়া পড়ে, স্বাভাবিক বলিতে কী প্রতীয়মান হয়? আর পাঁচজন যেমন করিয়া বাঁচিয়া রহিয়াছেন, প্রত্যহ বাজার করিয়া, রান্না চড়াইয়া, সন্তানের জন্ম দিয়া, অতঃপর সন্তান প্রতিপালনহেতু কর্ম…

বিচ্ছিন্নতাবোধের চিত্রকর জীবনানন্দ
বাংলা আধুনিক কবিতার ইতিহাসে জীবনানন্দ দাশ এক অনন্য, স্বতন্ত্র এবং গভীরতম সৃষ্টিশীল প্রতিভা। রবীন্দ্রযুগের পর যে নতুন কাব্যভাষা, নতুন চেতনা এবং নতুন সংবেদনশীলতার সূচনা হয়েছিল, তার সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক জীবনানন্দ দাশ। তাঁকে প্রায়ই বলা হয় “নির্জনতার কবি”, “রূপসী বাংলার কবি”, কিংবা “রহস্যময়তার কবি”। কিন্তু তাঁর কাব্যচেতনাকে সবচেয়ে যথার্থভাবে ব্যাখ্যা করে যে অভিধা, তা হলো—তিনি বিচ্ছিন্নতাবোধের…

‘এ কথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে – সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয়’ (শঙ্খ ঘোষ)
সত্তরের দশকের প্রথম দিকে টাটা-বাবার গাঁয়ে সে এক শীতার্ত সান্ধ্য প্রহর। কিছু পণ্ডিত, কিছু পণ্ডিতম্মন্য আর কিছু নির্ভেজাল সংস্কৃতি প্রেমিক শ্রোতা জড় হয়েছেন একটি ইশকুলের নাতি বৃহৎ সভাগারে। নিতান্ত বালক দুখিরামও রয়েছে তার বাবার পাশটিতে, লেজুড় হয়ে । কথা হচ্ছে সেই মনোরম শীত সন্ধ্যায় ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি না খেলে, মুড়ি পাটালি না খেয়ে, ‘কুমোর পাড়ার গরুর…

জীবনানন্দ
দ্রোহের আগুনে পুড়ছিল জীর্ণতা ,স্থবির আঁধার, স্বপ্ন, পুরাণ কথা,বিনির্মাণের তীব্র সে ঝঙ্কারশব্দে পয়ারে বেজেছিল বোধে তাঁর। ক্রমশ একাকী নিজেরই মুদ্রাদোষে ,নির্জনতার সেতার রক্তকোষে,ভাঙনের তীরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেনস্থির আঁধারের বুকে বনলতা সেন । ধানসিড়ি আজও পউষের জ্যোৎস্নায়,পৃথিবী প্রবীণ মিরুজিন নদীতীরে,তবুও রক্ত-রণ-উন্মাদনায়ঘুরে ঘুরে ফেরে আপন নষ্ট নীড়ে। হাজার বছর জোনাকির মতো জ্বলে,মহাপৃথিবীর মৃতদের কলরোলেনিহিত সত্য মৌন অন্ধকার –…

