Tag: Rabindranath Tagore

রবীন্দ্রনাথ-গীতাঞ্জলি–ইয়েট্স্ঃ কোলাহল তো বারণ হল (পর্ব – ২)
প্রথম পর্বের পর… আমরা তো পূর্বে দেখেছি রোটেনস্টাইন কর্তৃক প্রদত্ত গীতাঞ্জলির প্রাথমিক খসড়ার টাইপ-কপি ইয়েট্স্ সঙ্গে নিয়ে ঘুরতেন বাসে-ট্রেনে পড়ার জন্য; আমরা তো এটাও শুনেছি, ৭ জুলাই ট্রেকাডেরা রেস্তোরাঁয় কবিতা পাঠের আসরে রবীন্দ্রনাথের কবিতা সম্পর্কে ইয়েট্সের কী উচ্ছ্বসিত প্রশস্তি! তা হলে পরে কী কারণে ঘটল ইয়েট্সের মতিভ্রম? গীতাঞ্জলি সম্পর্কে কী তাঁর অভিযোগ? জানলাম, ১৯৬৭ সালে…

“…সে যে আমার জন্মভূমি”
আটাত্তর বৎসর পার হইল। মহাভারত বর্ণিত গান্ধার হইতে অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ প্রাগজ্যোতিষপুর প্রভৃতি, অথবা রাজা ভরতের সাম্রাজ্য কিম্বা জম্বুদ্বীপ নামক উপমহাদেশীয় ভূখন্ডের, যে অংশ বিশেষটি, কাটিয়া কুটিয়া আমাদিগের ‘হাতে রহিল পেন্সিল’-এর ন্যায় আসিয়া পৌঁছাইল, তাহাই আমাদিগের মাতৃভূমি, বর্তমান ভারতবর্ষ। বহির্বিশ্বের হাতি, সাপ, মশলা, জাদু-র দৃষ্টিকোণ হইতে পৃথক স্বীয়কীর্তি প্রতিষ্ঠার আধুনিক যাত্রাপথ সৃষ্টি হইল এইদিনে। বহু…

রবীন্দ্রনাথ-গীতাঞ্জলি–ইয়েট্স্ঃ কোলাহল তো বারণ হল (পর্ব – ১)
“… when I translate my work I find new images and presently new thoughts and finally it is something almost new. The fundamental idea is the same but the vision changes. A poem cannot be translated, it can only be relieved in a different atmosphere.” …Rabindranath স্কুলের উঁচু ক্লাসে রবীন্দ্রনাথের ওপর ইংরেজিতে একটি রচনা লেখার…

দিনান্তবেলার রক্তিম মরীচিকা
বর্ণান্ধতা এক ধরনের রোগ, যা সারা পৃথিবীতে পুরুষদের ক্ষেত্রে খুব বিরল রোগ নয়। অনেকে এই রোগ নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দেয় কিছু বুঝতে না পেরেই। সমস্যাটা বিশেষ করে বোঝা যায় ছবি আঁকতে গেলে। এই রোগ থাকলে সাধারণত লাল বা সবুজ রঙ ঠিক মত দেখতে পাওয়া যায় না। রবীন্দ্রনাথের নিজের ধারণা ছিল তিনি লাল রঙ ঠিক মতো…

রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ বছর
“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি বিচিত্র ছলনাজালে, হে ছলনাময়ী..” . —–রবীন্দ্র -জীবনে শেষ বছর। মর্ত্য থেকে বিদায় নেবার এক বৎসর আগে কবির গলায় ক্লান্তির সুর। সুদীর্ঘ জীবনের পথ-পরিক্রমায় তিনি হারিয়েছেন মাতা পিতা পত্নী পুত্রকন্যা সন্তানতুল্য নিকটাত্মীয় এবং বহু প্রিয় বন্ধুকে। বিদেশী বন্ধুদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে অন্তরঙ্গ দীনবন্ধু এনড্রুজ, যিনি বলে ছিলেন… my…

চলিয়াছি গৃহপানে…
[২৫ জুলাই , ১৯৪১ সাল। দিনটি শুক্রবার। সাতসকালেই আশ্রমবাসীরা সমবেত কণ্ঠে এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’ গাইতে গাইতে রবীন্দ্রনাথকে অর্ঘ্য অর্পণ করল। শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলেছেন কবি। আর কোনদিন ফিরবেন না , বোধ হয় বুঝতে পেরেছেন তিনি। যাওয়ার আগে মোটরগাড়িতে চেপে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সবার সঙ্গে দেখা করলেন, গাড়িতে করেই গোটা আশ্রম ঘোরানো হলো…

ধর্মমোহ
আমি ব্রাত্য, আমি মন্ত্রহীন, দেবতার বন্দীশালায় আমার নৈবেদ্য পৌঁছল না। পূজারী হাসিমুখে মন্দির থেকে বাহির হয়ে আসে, আমাকে শুধায়, “দেখে এলে তোমার দেবতাকে?” আমি বলি, “না।” অবাক হয়ে শুনে বলে, “জানা নেই পথ?” আমি বলি, “না।” প্রশ্ন করে “কোনো জাত নেই বুঝি তোমার?” আমি বলি, “না।” ” রবীন্দ্রনাথ / পত্রপুট উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া বলেই ধর্মটাকে…

“সেপার বাংলা” নিবাসী ক্লিনটন বি সিলি
বাংলার অগ্রগণ্য কিছু সাহিত্যিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বুধমন্ডলী। আর ছিলেন এক ভিনদেশী, ছিপছিপে ঋজু চেহারার উজ্বল গৌরবর্ণ মানুষ, যাঁর পরণে ছিল হালকা গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবী ও সাদা পায়জামা, কাঁধে ছিল খদ্দরের শান্তিনিকেতনী ঝুলি, সৌম্যকান্ত মুখমন্ডলে হালকা দাড়ি। স্বাভাবিকভাবেই সব অতিথিদের মধ্যে দর্শক ও শ্রোতৃমন্ডলীর কৌতুহলের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি… বাংলা সাহিত্যের মেলায়…

কবে কখন কোন বর্ষার গান
এ বছর সময় মতই বর্ষা এসেছে এই বঙ্গে। আর আমরা যখন দেখতে পাচ্ছি আকাশে ঠিক তেমনি মেঘেরই আনা গোনা চলছে, যে মেঘ দেখে রবি ঠাকুর লিখেছিলেন – ‘রহিয়া রহিয়া বিপুল মাঠের পরে/ নব তৃণদলে বাদলের ছায়া পড়ে……’, তখন চারিদিকের সব রকম মালিন্য, ক্লেদ, বিপন্নতা উপেক্ষা করে আমাদের পুরাতন হৃদয় একটু হলেও পুলকে দুলে উঠছে বৈকি।…

সেদিন যে রাগিণী গেছে থেমে…
“ও পারেতে বিষ্টি এল,ঝাপসা গাছপালা।এ পারেতে মেঘের মাথায়— .একশো মানিক জ্বালা।বাদলা হাওয়ায় মনে পড়েছেলেবেলার গান—‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,নদেয় এল বান।” একদা জীবনপ্রভাতে, বহুশ্রুত, বহুপঠিত এই কবিতার পংক্তিগুলি আজ জীবনের অস্তাচলপ্রান্তে এসে যখন মনে মনে আবৃত্তি করি তখন বুকের ভিতর হুহু করে ওঠে। শুধু ছেলেবেলার নয়, জীবনের সব পর্বে সব মুহূর্তে থেমে যাওয়া সমস্ত গান যেন…
