Tag: Bengali Literature

ক্রমবর্দ্ধমান বিষাক্ত ক্ষত
প্রাগৈতিহাসিক যুগ হইতে মানব সভ্যতার অন্তহীন পথ পরিক্রমণ। যূথবদ্ধ গুহাবাসী তৎকালীন মানব, অন্যান্য পশুদিগের ন্যায় নিজ অস্তিত্ব সংরক্ষণেই কালাতিপাত করিয়াছে। প্রতিদিনের খাদ্য সংগ্রহ হইতে, আপন গোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিম্বা অন্যান্য প্রজাতির আক্রমণ হইতে রক্ষা এবং পরবর্তী প্রজন্মকে পৃথিবীতে আনয়ন এবং প্রতিপালন করিয়া নিজ নিজ বংশধারা সচল রাখিবার নূন্যতম কার্যটুকু নির্বাহ করিয়া আসিয়াছে। ইহা পৃথিবীর অপরাপর…

ধর্মমোহ
আমি ব্রাত্য, আমি মন্ত্রহীন, দেবতার বন্দীশালায় আমার নৈবেদ্য পৌঁছল না। পূজারী হাসিমুখে মন্দির থেকে বাহির হয়ে আসে, আমাকে শুধায়, “দেখে এলে তোমার দেবতাকে?” আমি বলি, “না।” অবাক হয়ে শুনে বলে, “জানা নেই পথ?” আমি বলি, “না।” প্রশ্ন করে “কোনো জাত নেই বুঝি তোমার?” আমি বলি, “না।” ” রবীন্দ্রনাথ / পত্রপুট উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া বলেই ধর্মটাকে…

ভাবনা কাহারে বলে?
[প্রাককথনঃ – এই লেখায় কোন শব্দ কী অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটা পরিষ্কার করে নেওয়া যাক। এখানে বুদ্ধি, হৃদয়, মন, সংস্কার প্রভৃতি শব্দগুলি এসেছে। বুদ্ধি জিনিসটা হৃদয় ও মনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত হলেও ধর্মে আলাদা। বুদ্ধি একাধারে মন ও হৃদয়ের ধারক। বুদ্ধি তার ব্যাপক কর্মকাণ্ডের জন্য একটা শক্তপোক্ত ভাঁড়ার রক্ষা করে। এই ভাঁড়ারটি হল স্মৃতি। এই…

সন্দেহ
সবাই বড় পুকুরের পাশে কাঁঠাল গাছটার তলায় জড়ো হয়েছে। এখনও ঝুলছে কমলির দেহটা, হাওয়াতে দুলছে মৃদু মৃদুl শেতল বাউড়ি গাছটা থেকে হাতকয়েক দুরে বসেl সত্যি, শেষতক কমলি যে ব্যাপারটা এত দুরে নিয়ে যাবে, ভাবতেও পারেনি শেতলl সকলের সেই এক প্রশ্ন, কি হযেছিল শেষমেষ ?? নাও, বোঝাও এখন জনে জনে। আরে বাবা যার গেল তার গেল,…

ইতিহাস
রত্না এসে ওষুধটা রামকিঙ্করের সামনে রেখে বলল — “খেয়ে নাও এটা”। রামকিঙ্কর অন্য কথা ভাবছিলেন, কারণ তিনি জানেন, অসুখের কথা ভেবে সুখ নেই । অসুখ তাঁর সারবার নয়। তিনি ভাবছিলেন তাঁর আরদ্ধ সেই বিরাট কাজের কথা— যা, তিনি শেষ করে যেতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই হয়তো তাঁকে মরতে হবে । রামকিঙ্কর ইতিহাসবেত্তা। আরও অনেক ইতিহাসবিদের…

নাথ হে, প্রেম পথে সব বাধা…
জয় তব বিচিত্র আনন্দ, হে কবি জয় তোমার করুণা। (ফোঁস, ফোঁ ……স, ফোঁস) ‘তোর কি ব্যাপার বল তো অমিত ? তখন থেকে দেখছি খালি দীর্ঘ নিশ্বাসে ফুলদানীর ফুল কাঁপিয়ে দিচ্ছিস। বলি হয়েছেটা কি?’ ‘তুই বৈকুণ্ঠের খাতা পড়েছিস?’ ‘কে বৈকুণ্ঠ? আমাদের অফিসে তো কেউ নেই। ও কি হেড অফিসের লোক। তাছাড়া সে তার খাতায় কি লিখেছে…

“সেপার বাংলা” নিবাসী ক্লিনটন বি সিলি
বাংলার অগ্রগণ্য কিছু সাহিত্যিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বুধমন্ডলী। আর ছিলেন এক ভিনদেশী, ছিপছিপে ঋজু চেহারার উজ্বল গৌরবর্ণ মানুষ, যাঁর পরণে ছিল হালকা গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবী ও সাদা পায়জামা, কাঁধে ছিল খদ্দরের শান্তিনিকেতনী ঝুলি, সৌম্যকান্ত মুখমন্ডলে হালকা দাড়ি। স্বাভাবিকভাবেই সব অতিথিদের মধ্যে দর্শক ও শ্রোতৃমন্ডলীর কৌতুহলের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি… বাংলা সাহিত্যের মেলায়…

মৃন্ময়ীকে
কত কিছু বলতে ইচ্ছে করে পারি না, থেমে যাই থমকে দাঁড়াই দাঁড়িয়ে টোকা মারি দরজায় দরজায় কেউ খোলে না খুললেই দেশদ্রোহী দূর থেকে নজর রাখে ড্রোন কমেন্ট সেকশনে ঘৃণার আগুনে পুড়তে পুড়তে এই কঙ্কালসার ছিবড়ে প্রেমটুকুও শিকার হয় শ্লীলতাহানির প্রত্যেকেই ঘৃণার কথা শুনতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই একটা বড়োসড়ো যুদ্ধের যোদ্ধা হতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই চেয়েছিল দ্রোহের আগুনে…


