Tag: Bengali Culture

বাংলায় বোমার আবির্ভাব: সাত শহীদ, চার দেশদ্রোহী ও দুই নিরপরাধ নারী
“ইহা বড়ই আনন্দের বিষয় যে, একটি চমৎকার ধরনের বোমা তৈয়ার হইতেছে। ইহার নাম ‘কালীমায়ীর বোমা’। ইহা পরীক্ষা করিয়া দেখা হইতেছে এবং পরীক্ষা সফল হইলে ইহা প্রতি গৃহে রাখিতে হইবে। এই বোমা এতই হালকা যে, একজন লোক ইহা এক হাতে লইয়া চলিতে পারে, ইহাতে অগ্নিসংযোগ করিতে হয় না ও অল্প আয়াসেই ইহাকে ভূমিতে নিক্ষেপ করিলে বিকট…

গণচেতনার কবিয়াল শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
‘সরস্বতী, বিদ্যেবতী / তোমায় দিলাম খোলা চিঠি / একটু দয়া করো মা-গো বুদ্ধি যেন হয়, / এসব কথা লিখছি তোমায় নালিশ করে নয়।’ সনৎ সিংহের সেই গানটি আমাদের শৈশবে শুনে শুনে মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। গানের প্রতিটি কথা শুনে মনে হতো, আরে এ তো আমারই কথা বলছে! ইতিহাসের সন তারিখ ভুলে যাওয়া, মাথায় না ঢোকা অঙ্ক—…

দুই কবি ও এক তরুণ গায়ক
প্রভাসতীর্থে এলেন দুই কবি। একজন প্রবীণ, অপরজন নবীন। প্রবীণ পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, নবীন কবি জয় গোস্বামী। অনুষ্ঠানটির শিরোনামও ছিল “দুই কবি”।

স্বরাজ-যাপন
গিন্নি তুমি পালিয়ে কোথায় গেলে,জানো না, আজ বিশেষ প্রিয় দিন?জমিয়ে কড়া চা-টা বানাও ভোরেজানো তো, আজ হয়েছি স্বাধীন? বিশাল ভিড়ে লাইনে ঘেমে নেয়েঅনেক কষ্টে মাংস পেলাম আজ,কষিয়ে রাঁধো, ফাটিয়ে লঙ্কা দিয়েজানো তো আজ পেয়েছি স্বরাজ? সাতটা মঞ্চে ভাষণ দিয়ে ফিরেঘরেই দেখি, পতাকা তোলা বাকি,আরে ছাড়ো, পাবলিক কী বোঝে..তারা জানে, দিলাম কেমন ফাঁকি? সকালবেলায় প্রভাতফেরীর হাঁটা,ফিরেই…

“কোথায় আলো, কোথায় ওরে আলো?”
যে প্রশ্নটা প্রায়শই আমাদের মনে ভাবনার উদ্রেক করে তা হল, দেশের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও শিক্ষাব্যবস্থার সম্পর্কটা ঠিক কী রকম হওয়া কাঙ্খিত? আমরা জানি, এই দুটিই জাতির পক্ষে অপরিহার্য এবং আপাতদৃষ্টিতে ধারা দুটির চলন সমান্তরাল রেখার মতো হওয়াই কাম্য। কিন্তু অন্য দিক দিয়ে অস্বীকার করার উপায় নেই যে দেশের শিক্ষা পরিকাঠামো দেশের শাসনব্যবস্থার অঙ্গ। শিক্ষাব্যবস্থার আধার…

রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ বছর
“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি বিচিত্র ছলনাজালে, হে ছলনাময়ী..” . —–রবীন্দ্র -জীবনে শেষ বছর। মর্ত্য থেকে বিদায় নেবার এক বৎসর আগে কবির গলায় ক্লান্তির সুর। সুদীর্ঘ জীবনের পথ-পরিক্রমায় তিনি হারিয়েছেন মাতা পিতা পত্নী পুত্রকন্যা সন্তানতুল্য নিকটাত্মীয় এবং বহু প্রিয় বন্ধুকে। বিদেশী বন্ধুদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে অন্তরঙ্গ দীনবন্ধু এনড্রুজ, যিনি বলে ছিলেন… my…

চলিয়াছি গৃহপানে…
[২৫ জুলাই , ১৯৪১ সাল। দিনটি শুক্রবার। সাতসকালেই আশ্রমবাসীরা সমবেত কণ্ঠে এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’ গাইতে গাইতে রবীন্দ্রনাথকে অর্ঘ্য অর্পণ করল। শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলেছেন কবি। আর কোনদিন ফিরবেন না , বোধ হয় বুঝতে পেরেছেন তিনি। যাওয়ার আগে মোটরগাড়িতে চেপে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সবার সঙ্গে দেখা করলেন, গাড়িতে করেই গোটা আশ্রম ঘোরানো হলো…

ধর্মমোহ
আমি ব্রাত্য, আমি মন্ত্রহীন, দেবতার বন্দীশালায় আমার নৈবেদ্য পৌঁছল না। পূজারী হাসিমুখে মন্দির থেকে বাহির হয়ে আসে, আমাকে শুধায়, “দেখে এলে তোমার দেবতাকে?” আমি বলি, “না।” অবাক হয়ে শুনে বলে, “জানা নেই পথ?” আমি বলি, “না।” প্রশ্ন করে “কোনো জাত নেই বুঝি তোমার?” আমি বলি, “না।” ” রবীন্দ্রনাথ / পত্রপুট উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া বলেই ধর্মটাকে…

ইতিহাস
রত্না এসে ওষুধটা রামকিঙ্করের সামনে রেখে বলল — “খেয়ে নাও এটা”। রামকিঙ্কর অন্য কথা ভাবছিলেন, কারণ তিনি জানেন, অসুখের কথা ভেবে সুখ নেই । অসুখ তাঁর সারবার নয়। তিনি ভাবছিলেন তাঁর আরদ্ধ সেই বিরাট কাজের কথা— যা, তিনি শেষ করে যেতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই হয়তো তাঁকে মরতে হবে । রামকিঙ্কর ইতিহাসবেত্তা। আরও অনেক ইতিহাসবিদের…

হে মহাজীবন, একবার এসো ফিরে…
ক্যালেন্ডারের পাতায় পয়লা জুলাই দিনটি প্রতি বছর তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দিনটা তো তাঁর চলে যাবার দিনও বটে। একই দিনে জন্ম এবং মৃত্যু— এমনই এক অদ্ভুত সমাপতন। আশি বছরের একটি অনন্য জীবন। ঠাকুমা আদর করে নাম রেখেছিলেন ‘ভজন’। ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র তাঁর নাম দিয়েছিলেন ‘বিধান’, যিনি উত্তরকালের একমেবাদ্বিতীয়ম ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়। পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও…
