শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Bengali Culture

  • ঋত্বিক – একটি অসমাপ্ত উপাখ্যান

    ঋত্বিক – একটি অসমাপ্ত উপাখ্যান

    বাঙালি ঋত্বিক ঘটক নামের একজন মানুষকে নিয়ে কিছুটা মাতামাতি করে বটে , কিন্তু সেটা বোধহয় তারা যতটা তাঁর সৃষ্টির প্রতি আগ্রহ আছে বলে করে, তার চেয়ে বেশি করে তাঁর বেপরোয়া বেহিসেবী, আপোষহীন জীবনযাপনের প্রতি একধরনের ঔৎসুক্যের জন্য। ঋত্বিকের জীবনযাপন সম্বন্ধে প্রচুর গল্প, কাহিনি, অতিকথা এবং মিথ, বাঙালির মুখে মুখে ফেরে। সেই ঋত্বিকের কিছু কিছু উক্তি…

  • আমার ঋত্বিক

    আমার ঋত্বিক

    “সিগারেট ?”“না থাক। বিড়িটাই ঠিক আছে। ওটাই কাজ করবে । ““হুইস্কি – স্কচ ?”“বুকের লোম উঠে যাবে।”মুখ ফিরিয়ে পড়ন্ত বিকেলের দিকে নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকা। ছলাৎছল্‌ ছলাৎছল্‌। মন দরিয়ায় নাও বাইয়া কেডা যায়! কোথা যায়!এক ঝটকায় বিড়িটা ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া। জ্বলন্ত ছাই ছিটকে পড়ল মাটিতে। অট্টহাসি। বারুদের গন্ধ। নিজেকেই বিদ্রুপ। নিস্তব্ধতা। গোধূলির আলো মুখে পড়ে। যেন…

  • নিঃশব্দ চিৎকার

    নিঃশব্দ চিৎকার

    “এ শহরে এত দুঃখ কেন?” পৃথিবী নাম্নী জনপদের প্রতি, প্রতি-প্রজন্মের শিশু দৃষ্টির অন্তর্দর্শনে সৃষ্ট, এক শিশু সারল্যে ভরা অন্তরের সহজ প্রশ্ন আজও প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছে ক্রমান্বয়ে… তবুও সময় এ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয় বার বার…দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে এ প্রশ্ন সময়ের কাছে! ভবা’র অন্তরে লুকিয়ে থাকা কাঞ্চন “বাড়ি থেকে পালিয়ে” এ প্রশ্ন করেছিল কোনো এক…

  • ঋত্বিক ঘটকের সারা জীবনের চলচ্চিত্র-প্রয়াসের তালিকা

    ঋত্বিক ঘটকের সারা জীবনের চলচ্চিত্র-প্রয়াসের তালিকা

    (শ্রীমতী সুরমা ঘটকের লেখা “ ঋত্বিক”বই থেকে সংগৃহীত, সংগ্রাহক: শ্রী সোমেন দে) (ছবিটি সেই সময়ে মুক্তি পায় নি । মূল নেগেটিভ হারিয়ে যায় । ডুপ্লিকেট নেগেটিভ থেকে একটি প্রিন্ট বানানো হয় পুনা এফ টি আই আই এর উদ্যোগে । ঋত্বিক ঘটকের মৃত্যুর দেড় বছর পরে ১৯৭৭ সালে, নির্মাণের পঁচিশ বছর পর ১৯৭১ সালে মুক্তি পেয়েছিল…

  • চিত্তপ্রয়াণ – একটি জাতির শোকাশ্রু

    চিত্তপ্রয়াণ – একটি জাতির শোকাশ্রু

    দার্জিলিঙে ১৯২৫ সালের ১৬ই জুন আকস্মিকভাবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনাবসান হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ৫৫ বছরও পূর্ণ হয়নি। মৃত্যুর আগের দু সপ্তাহের ও অব্যবহিত পরের মুহূর্তগুলির স্মৃতিচারণ করে ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, দেশবন্ধুজায়া বাসন্তী দেবীর নাকি ইচ্ছা ছিল যে দার্জিলিংয়েই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হোক। কিন্তু তাঁর অগণিত অনুরাগীদের মনোভাব ছিল অন্যরকম :- “এই পাহাড়ে দেশটিতে…

  • ভেঙে যায় শব্দের অহঙ্কার 

    ভেঙে যায় শব্দের অহঙ্কার 

    পোস্টঅফিসের মোড়ে হঠাৎ দেখলাম তাঁকেশব্দহীন জটলায়। ব্যস্ত শহর।গাড়ির হর্ন।পথচারীর হন্তদন্ত হেঁটে যাওয়া —সমস্ত কোলাহল অতিক্রম করে বক্তব্য রাখছেন তিনিনির্বাক ঈশারার অমোঘ সংকেতে।সামনে ফেস্টুন হাতেশব্দের জগৎ থেকে নির্বাসিত নাগরিক ভিড়।প্রতিবাদ আর প্রত্যয়ের অভিব্যক্তি মুহুর্মুহু জেগে উঠছেশব্দকে অতিক্রম করে যাওয়া ভাষাহীন মুখে। ওরা দেখেনিচারপাশের সব আলো যেন নিভে এলোঅন্ধকার জনারণ্যে জেগে রইল সেই নিঃশব্দ ভিড়আরমৃত জোনাকির মতো…

  • বাঙালি জাতিসত্তা ও অস্মিতা

    বাঙালি জাতিসত্তা ও অস্মিতা

    সম্প্রতি বাঙালির জাতিসত্তা ও বাঙালি অস্মিতা শব্দবন্ধদুটি প্রায়শই উঠে আসছে সংবাদের শিরোনামে। বলা বাহুল্য, কারণটা মূলত রাজনৈতিক। বর্তমান সময়ে বাঙালির জাতিগত সফলতা-অসফলতা ও সুনাম-দুর্নামকে সামনে রেখে ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা। এই প্রসঙ্গে বিশেষত দুটি প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রথমত, জাতিসত্তা ও অস্মিতা কি? দ্বিতীয়ত, আজকের সময়ে এই শব্দ দুটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কাছে বাঙালিকে…

  • কাহিনী দুটো, প্রশ্ন একটাই

    কাহিনী দুটো, প্রশ্ন একটাই

    রবীন্দ্রনাথের সব থেকে আলোচিত, বহু পঠিত এবং অবশ্যই বিতর্কিত দুটি উপন্যাস হচ্ছে –‘ঘরে-বাইরে’ এবং ‘চার অধ্যায়’। বই দুটি প্রকাশের সময়েই বিতর্কের ঝড় উঠেছিল, আজও তর্ক শেষ হয়নি। সেদিন রবীন্দ্রনাথের আত্মপক্ষ সমর্থন সবাইকে সন্তুষ্ট করেনি, আজও অনেককেই করে না। এই দুটি উপন্যাসকে কেন্দ্র করে তৎকালীন রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি নিয়ে অনেক আলোচনার অবকাশ আছে যা আজও…

  • ধর্ম ও জিরাফ

    ধর্ম ও জিরাফ

    যে ত সর্বাণি কর্মাণি ময়ি সংন্যস্য মৎপরাঃঅনন্যেনৈব যোগেন মাং ধ্যায়ন্ত উপাসতে।।তেষামহং সমুদ্ধর্তা মৃত্যুসংসারসাগরাৎভবামি ন চিরাৎ পার্থ ময্যাবেশিতচেতসাম।। যে সকল মানুষ সমস্ত কর্ম আমাতে সমর্পণ করিয়া থাকেন, আমাকে আশ্রয় করিয়া অনন্য যোগ সহকারে আমার ধ্যানে নিরত হইয়া উপাসনা করিয়া থাকেন, হে পার্থ, আমি আমার উপর স্থির-চিত্ত সেই সকল মানুষকে, এই মৃত্যুসঙ্কুল সংসার সাগর হইতে অচিরেই উদ্ধার…

  • রেলপথের পাঁচালী 

    রেলপথের পাঁচালী 

    বাঙালির কাছে দুর্গা পুজোর সঙ্গে রেলগাড়ির সম্পর্ক অনেকটা বিয়েবাড়ির সঙ্গে লুচি ভাজার গন্ধের সম্পর্কের মতো। পুজো মানেই বাড়ি ফেরা, আবার পুজো মানেই বাড়ি ছেড়ে দাও ছুট। পুজো কাছাকাছি এলেই, উত্তরে না দক্ষিণে, পাহাড়ে না সমুদ্রে, নাকি স্রেফ শিমুলতলা, মধুপুর, কারমাটার, যাওয়া হবে এবার তাই নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে পলিটবুরোর মিটিং । মোদ্দা কথা পুজো মানেই একদল…