Category: লেখক
চড়ক ও চৈত্র-সেল
পুনরায় চৈত্র আসিয়া পড়িল। বাংলার মানুষের শীত এবং বসন্তের আতিশয্য কাটিতে না কাটিতে যাবতীয় দাবদাহর প্রতিশ্রুতি লইয়া তিনি প্রকৃতি মঞ্চে আবির্ভূত হন। বাজারে নতুন পঞ্জিকা আসিয়া গিয়াছে। পলাশ শিমূলের রঙে রুদ্ররূপের প্রস্তুতিও অনুভূত হয়। কিছুকাল পূর্বেও গাজন সন্ন্যাসীদিগের সুর করিয়া “বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে, মহাদেব” শব্দবন্ধ পাড়ার অলিতে গলিতে ধ্বনিত হইত। গৃহস্থ বাড়ি হইতে…
রাঙিয়ে দিয়ে যাও গো…
অনেকদিন ধরেই মনের মধ্যে কিছু অস্বস্তি উঁকি মারছে। ষাটের দশকের শুরু থেকেই বহুবার শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসব আমাকে টেনে নিয়ে গেছে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর হল মনে হচ্ছিল এমন করে আর ‘আমার যাওয়া তো নয় যাওয়া’। পরিস্থিতি বেশ মনে করিয়ে দিচ্ছিল, এমন উৎসবের সঙ্গে এই দেহ আর মনটাকে মেলানো যাচ্ছে না। কিন্তু অনেক মধুর মুহূর্তে এখনও ‘গীতবিতান’…
চারণকবি মুকুন্দদাস ও সেকালের স্বদেশী যাত্রা
মঞ্চ ঘিরে গ্রামবাসীদের ভিড়। যাত্রাপালা দেখে সকলের রক্ত উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছে। প্রধান অভিনেতার একের পর এক গান দোলা দিচ্ছে তাঁদের হৃদয়ে। ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত হচ্ছে ক্ষোভ। স্বদেশী গানে মথিত রাতের আকাশ। ‘ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে, / মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে। কিংবা ‘বান এসেছে মরা গাঙে খুলতে হবে নাও। তোমরা এখনো ঘুমাও।’…
সাতকোশিয়ার সাতকাহন
উড়ানটাই জীবন। বাকি সময়টা সেই জীবনের জন্য অপেক্ষা করা। জুতোকে বিরাম দিতে নেই। এদিক ওদিক বেড়ানোর স্মৃতি নেড়েচেড়ে এই মুহূর্তে অপেক্ষা করি আবার কবে জুতোটা পায়ে উঠবে। গারদের মেয়াদ সবার বুকেই চেপে বসছে প্রতিদিন। শুধু প্রকৃতির কাছে সমর্পণ, নানা জায়গার উড়ান স্মৃতি নিয়ে জীবনের সাত কাহন গড়ে ওঠে। ভূতের রাজার জুতো পাইনি তো গুপীবাঘার মতো।…
রেবতীভূষণ
চলচ্চিত্র প্রযোজক বি এন সরকারের অনুরোধে বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম অ্যানিমেশান ছবি ‘মিচকে পটাশ’এর চরিত্রায়ণ রেবতীভূষণেরই। ছবি আঁকার পাশাপাশি ছড়া লেখা, গান বাজনা, সাঁতারেও রেবতীভূষণের বিপুল উৎসাহ আজীবনের। তাঁর রচিত ছড়ার সঙ্কলনটির নাম “ছড়ানো বই”।
বেস্ট ফ্রেন্ড
“দেখি তো পেপার্সগুলো! এক্সামটা কেমন হল?….. এ কী! খাতায় এসব কী লেখা! ‘আই লাভ শ্রেয়সী‘……মানে? পাশে আবার দুটো হার্ট আঁকা। বলি এসব হচ্ছেটা কী?”স্টাডি রুমে বসে সবে অফিসের ফাইলগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেছি। গিন্নীর আচমকা চিৎকারে পিলে চমকে যাওয়ার জোগাড় আর কী….!ডাবলু স্কুল থেকে ফিরে খাওয়া দাওয়া করে এখন একটু কার্টুন দেখছে, ওর প্রিয় গোপাল…
হারানো সুর
যে সুরেমাটির কোলে সুপ্ত বীজে প্রাণের পরশ লাগেফুলকলিদের ঘুম ভেঙে যায় নবীন অনুরাগে যে সুরেশিমুল পলাশ রঙিন হয়ে গায় ফাগুনের গানমাঝির গলায় ওই শোনা যায় ভাটিয়ালির টান যে সুরেভোরের আলো ফোটার সাথে পাখিরা গান গায়আপন মনে উদাস বাউল একতারা বাজায় যে সুরেঝরনা নামে পাহাড় হতে যৌবনেরই রাগেঅলির গানে ফুলের মনে খুশির ছোঁয়া লাগে যে সুরেপদ্মদীঘির…
বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৯)
এতরকম দুর্বিপাকের মধ্যেও সততনানান অনুশীলনে ছিল বাঙালি নিরত।।বিষ্ণুচরণ ঘোষ হঠযোগী ব্যায়ামবিদ বাংলার,স্বদেশে বিদেশে খ্যাত যোগচর্চা তাঁর।।শরীরনির্মাণের ব্রতে ছিল অপূর্ব তাঁর নিষ্ঠা —কলিকাতাতে যোগ শিক্ষালয় করিলেন প্রতিষ্ঠা।।বুকের ওপর তুলে হেলায় হাতি কিংবা গাড়িবিখ্যাত সেই রেবা রক্ষিত ছাত্রী ছিলেন তাঁরই।এছাড়াও শরীরচর্চায় হয়েছিলেন কৃতীনীলমণি দাস, মনোহর আইচ, মনোতোষ রায় প্রভৃতি।। ★★★★★★★★ ক্ষমতা হস্তান্তর শেষে দিল্লিতে তখননূতন কেন্দ্ৰীয় সরকার…
বিশ্বাস, ভক্তি, প্রাপ্তি ও কিছু প্রশ্ন
পুরাকালে, যেন বহু জন্মের আগে, সুর ও অসুর, সৎ ও অসৎ, দু’টি পক্ষ ক্ষীরসমুদ্র মন্থন করেছিল অমৃত কুম্ভের সন্ধানে। সেই মহামন্থনের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল হলাহল, যা ধারণ করে নীলকণ্ঠ হলেন মহাশিব। আর অমৃত? সে যে শত সাধনার ধন! সবটুকু কালকূট কেবল মহাদেবের জন্য নির্ধারিত হলেও মৃত সঞ্জীবনী সুধা অমৃতের ভাগ ছাড়তে তো দিতি বা…