Tag: Robichakro

এত হাসি আছে জগতে তোমার…
একটি অসমর্থিত রসিকতা ঘুরে বেড়ায় পশ্চিম বঙ্গের আনাচে কানাচে। কিম্বদন্তী রাজনীতিবিদ শ্রদ্ধাস্পদ জ্যোতি বসু – হাসতেন না। সে সময়ের বাঙলা দেশের রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে শেখ মুজিবরের কন্যা নাম বললেন ‘শেখ হাসিনা’। জবাবে শ্রী জ্যোতি বসু না কি বলে ছিলেন ‘শেখবার কিছু নেই আমিও হাসিনা’। দুখিরামের মনে আছে এ রকম একটি পত্র যুদ্ধের অবতারণা…

বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৭)
সোনার বাংলার ইতিহাসের প্রসঙ্গে এখনধর্ম-আন্দোলনের কথা করিব বর্ণন।।ধর্মচর্চার সঙ্গে সঙ্গে জগতের কল্যাণরামকৃষ্ণ মিশনের ছিল বিশেষ অভিজ্ঞান।।শতকের শুরুতে হলে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ,ছিল স্বাস্থ্যচেতনা ও চিকিৎসার অভাব —বিবেকানন্দের নির্দেশে তাঁর শিষ্যগণদুর্গতদের সেবায় রত ছিলেন অনুক্ষণ।।কলকাতার পথঘাট ও পল্লী জঞ্জাল পরিকীর্ণ,ঝাড়ু হাতে নিবেদিতা সেথা হন অবতীর্ণ।।সদানন্দের সঙ্গে তিনি অকুণ্ঠিত চিতেচিকিৎসার পরিষেবা দেন পল্লীতে পল্লীতে।।দুর্ভিক্ষের প্রকোপে উত্তরবঙ্গে, বৈদ্যনাথেরামকৃষ্ণ সংঘের…

গল্পপাঠের আসর- অকূল দরিয়া
এবারের সংখ্যায় শ্রুতিপাঠে সম্প্রতি প্রকাশিত অসামান্য একটি ছোটগল্প ‘অকূল দরিয়া’র সংযোগ রবিচক্রের পাঠক শ্রোতাদের জন্য। গল্পটির লেখক ও কথক সৌরভ হাওলাদার, গানে কাঞ্চন বন্দ্যোপাধ্যায়।নিজের দেশ গ্রাম হারিয়ে আসা সর্বস্বান্ত এক বৃদ্ধের কবি জসীমুদ্দিনের গানের সুরের স্পর্শে আপন মনোজগতকে ফিরে পাবার এক মর্মস্পর্শী কাহিনি। [গল্প শুনতে নিচের ইউটিউব বোতামে ক্লিক করুন। কোন কারণে, বোতামটি আসতে দেরী…

হাসির সাতকাহন ও বাঙালি
মানুষের অভিব্যক্তির সর্বোত্তম প্রকাশ হাসিতে। প্রফুল্লতা, আনন্দ, উচ্ছ্বাস হইতে শুরু করিয়া বেদনা, যন্ত্রণা, দুঃখ পর্যন্ত নানা আঙ্গিকের হাসির রকমফেরে আবেগের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যে হাসিতে জানে, হাসিকে মূলধন করিয়া বন্ধুত্বের বন্ধনীতে বাঁধা পড়ে। হাসির স্বপক্ষে সর্বাপেক্ষা বড় যুক্তি বোধহয় ইহাই যে হাসির আবেদন সার্বজনীন, দেশ-কাল, এমনকি ভাষা-নিরপেক্ষ। দেশ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে…

“ঐ আলোকমাতাল স্বর্গসভার পুষ্পাঞ্জলি”
Maria Sklodowaska তখন নিতান্তই ছোট, খেলার সঙ্গিনীদের সঙ্গে চলেছেন পোল্যান্ডের ওয়ার্সর পথে। এমন সময় এক বৃদ্ধা তাঁর কাছটিতে এসে বললেন, “খুকু তোমার হাতখানি দেখি তো।”বালিকা তাঁর ছোট্ট নরম হাতখানি বৃদ্ধার দৃষ্টির সামনে মেলে ধরতে বৃদ্ধা সবিস্ময়ে তাকে বললেন, “কি অদ্ভুত তোমার হাতখানি! পরে আশীর্বাদ করে বলেন, “ভবিষ্যতে তুমি জগদ্বরেণ্য হবে।” মাদাম কুরির জীবনে এটাই প্রথম…

বটতলা থেকে কলেজ স্ট্রিট – বাংলা বইয়ের পথচলা
ন্যাথিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড সাহেবের ‘ অ্যা গ্রামার অফ দি বেংগলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ ছাপা হয়েছিল ১৭৭৮ সালে। বইটি ইংরেজিতে হলেও তাতে রামায়ন, মহাভারত, বিদ্যাসুন্দর ইত্যাদি বাংলা বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল বাংলা হরফে। সেই হরফ তৈরি করেছিলেন উইলকিনসন নামের এক সাহেব। কিন্তু তারও বছর পাঁচেক আগে উইলিয়াম বোলটস নামের এক সাহেব অনেক পরিশ্রম করে বাংলা হরফ তৈরি…

নবজাগরণের আলোয় কৃষ্ণনগর ও মহারাজ শ্রীশচন্দ্র রায়
উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধে, বাঙলার নবজাগরণের উষা লগ্নে, সমাজ যে যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী আলোড়িত হয়েছিল তারমধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল ১৮২৮ খ্রীষ্টাব্দে রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠা এবং তার পরবর্তী কার্যক্রম। প্রাচীন সনাতন হিন্দু ধর্মকে হাজারো কুসংস্কার আর আচার বিচারের নিগড় থেকে মুক্ত করে সুসংস্কৃত রূপে তুলে ধরাই ছিল তাঁর অন্তরের আকাঙ্ক্ষা। এরই সূত্র…

কোবরা যাযাবরী
সকালের রিকিঝিকি রোদ্দুর এসে পড়েছে মুখে রূপমতীর। লম্বা চোটির শেষে হরে-গুলাবি পারান্ধি দুলিয়ে এঁকে বেঁকে মেয়েটি চলেছে কুঁয়া থেকে পানি আনতে। তার সবুজ চোখদুটিতে পান্নার ঝিলিক লক্ষ্য করে বুড়ি যুগ্নি। এই এক ছোড়ি, তরোয়ালের ফলার মত। মনে মনে নিজের যৌবনে ফিরে যায় যুগ্নি, সেই তুরতুর ছুটে চলা, ঝুমঝুম ছোটবেলার মাইলের পর মাইল বালিয়ারী পেরোনো দিনগুলিতে।…


