শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Poetry

  • আমাদের লুপ্ত সব বোধ

    আমাদের লুপ্ত সব বোধ

    তোমারকরতলে রাখি হীরণ্যগর্ভ মাটি,প্রসবিনী হও —দয়াবান মেঘ আর উন্মুখ সূর্যের প্রসন্নতা নিয়ে। এখানে করোটির ভিতর অদ্ভুত লিখনথেমে আছে,পূণ্যশ্লোক অসমাপ্ত — জাগাও আমাদের লুপ্ত সব বোধমেধার ভিতর জন্মদাগ রেখে যায়।খুঁজেছি তাকে,খুঁজেই চলেছিস্তব্ধতার পাশে জাগিয়ে রেখেছি এই চোখএকাকী — এখনও দেখিনি তাকেআমার ভিতরপ্রতিদিন যে শুধু আমাকেই লেখে !তার সে ছায়া মুখব্রহ্মান্ড জলে ভেসে যায়। উৎকর্ণ আছিশব্দের অতীত…

  • “তবু অশুভ বাক্য নয়…”

    “তবু অশুভ বাক্য নয়…”

    “আমি খুবই দারিদ্র্য! কিছু সাহায্য করুন।”সাহায্যপ্রার্থী মানুষটি লোকমুখে শুনিয়াছিল, বিদ্যাসাগর মহাশয় মহাপন্ডিত এবং অতি দানশীল, ওঁনাকে প্রভাবিত করিতে কিঞ্চিত প্রমিত ভাষার অবলম্বন করিয়াছে। কিন্তু পেটে বিদ্যা না থাকিলে যাহা হয়, বিশেষ্য বিশেষণে গোল বাধিয়া গেল। ইহাতে ফল যাহা অবশ্যম্ভাবী, তাহাই ঘটিল। বিদ্যাসাগর মহাশয় ভর্ৎসনা করিয়া কহিলেন “তা আপনার আ-কার দেখেই বোঝা যাচ্ছে।”এই গল্পটি মহাজনের জীবনের…

  • দুটি কবিতা

    দুটি কবিতা

    অলৌকিক কখনও চাঁদ মুসলমান কখনও চাঁদ হিঁদুকখনও হাটবারের পরে হাটচালাতে ইঁদুরহন্যে হয়ে খাদ্য খুঁজে, বিফল হয়ে রেগেরুটির মতো চাঁদকে খোঁজে চাঁদ ঢাকলে মেঘে কখনও চাঁদ দেখতে গিয়ে তোমায় দেখে ফেলাস্বপ্ন এবং স্বপ্নভঙ্গ – এমনতরো খেলারশুরুও নেই শেষও নেই; শেষ না থাকাই শ্রেয়তবুও চাঁদ স্পর্শ করার স্পর্ধা স্মরণীয় চাঁদ ছুঁয়েছো চাঁদ পেড়েছো চাঁদের তাতে কিআমরা বরং…

  • বন্দরের কাল হল শেষ

    বন্দরের কাল হল শেষ

    বিদ্যালয়গুলি,সম্মানিত জ্ঞানবৃদ্ধের মতো,পলিত কেশ, লোল চর্ম,দৃষ্টি অস্বচ্ছ, স্মৃতিও তথৈবচ, অথচ,তাদের সামনে গেলেইঅজান্তেই মাথাটা নুয়ে আসে।ঘরের দেওয়ালগুলো লোনাধরাসেখান থেকে জল গড়িয়ে নামে, যার স্বাদশিশুর কান্নার মতো নোনতা। ব্ল্যাকবোর্ডগুলো যারা ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলত,ঘোড়ারা এসে খেয়ে গেছে তাদের,চকগুলো টেবিলে,যেন কবরে শুয়ে থাকা শব্দহীন হাড়,ধরার হাতগুলো ঘোড়াদের ক্ষুরে ছিন্নভিন্ন ;নৈরাশ্য, নৈরাশ্যের কালো সুড়ঙ্গের মধ্যেতলিয়ে যাচ্ছে শিশিক্ষু মুখগুলি,ক্লাসরুমে বসে…

  • রবীন্দ্রনাথের গান ও সত্যজিৎ রায় – কিছু কথা

    রবীন্দ্রনাথের গান ও সত্যজিৎ রায় – কিছু কথা

    অতি সম্প্রতি ‘রবিচক্র’-এর আন্তর্জালিক পত্রিকার পাতায় শ্রীমতী পূর্ণা মুখোপাধ্যায়ের সুলিখিত প্রবন্ধ ‘সত্যজিতের মননে রবীন্দ্রনাথ’ পড়ে কিছু মন্তব্য করতে বসে দেখছি তার আকার একটা স্বতন্ত্র লেখার দাবি করছে। কারণ সত্যজিৎ রায়ের সংগীত-ভাবনা সম্পর্কে তাঁর বলা আর অনেক না-বলা কথাও আমার ভাবনায় উঠে আসছে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে দু-চার কথা বলতে এই পোস্টের অবতারণা। সংগীত সম্পর্কে আদৌ…

  • শূন্য কলরোল

    শূন্য কলরোল

    মঞ্চ গড়ে এই আয়োজনসুরক্ষাকে আগলে রাখে বিধিবদ্ধ ঋণমিষ্টি সুবাস নাই বা মিলুকচলতে থাকুক ভুলের খেলাজল খায় না প্লাস্টিক ফুল মজলিসটি বেজায় পোক্ত – ফায়দারা শৌখিন। তীব্র ভাবে আঁকড়ে ধ’রে তারই অংশ হইসুযোগ বুঝে ঘৃণা ছুড়িআড়াল পেলে লুকাই সুখযদিও উদ্ধৃতিরা বড়োই সাধারণচিরাচরিত স্বভাবখানা –বরাবরই বয়ে বেড়ায় কালের বোঝামানোন্নয়ন করে না সমর্থন। তোমার দেশ তোমার বেশ সাজুক…

  • গায়ক রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সংরক্ষিত কন্ঠ

    গায়ক রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সংরক্ষিত কন্ঠ

    আমাদের একটি দুঃখ কোনোদিন যাবেনা, যে দাপুটে কণ্ঠে ১৮৯৬ খৃস্টাব্দে বিডন স্কোয়ারে কংগ্রেসের অধিবেশনে যুবক রবীন্দ্রনাথ বিনা মাইক্রোফোনে শুধু জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিয়ানো বাদনের সঙ্গে ‘বন্দে-মাতরম’ গানটি গেয়ে প্রায় দশহাজার দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ এবংউদ্দীপ্ত করেছিলেন, সেই কন্ঠটিকে কোনো প্রযুক্তি দিয়ে ধরে রাখা যায় নি।কিম্বা ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে যে কণ্ঠের গান শুনে ’রবিরশ্মি’ বইয়ের লেখক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সভা…

  • রক্তকরবীর খোঁজে

    রক্তকরবীর খোঁজে

    তার কলস্বর শুনতে পাই রোজ —বুকের মধ্যে ছোট যে নদী, তিরতিরেবয়ে যায় পঙ্‌ক্তির ভিতর দিয়ে।সে নদীখাত দিয়ে বয়ে গেছে কত কত জলআশৈশব, শ্লেট-পেন্সিল, ছেঁড়া হাফপ্যান্ট। বালি নিয়ে খেলতে খেলতে কখনফুটে উঠেছি কাশের বনে,চন্দ্রাহত জ্যোৎস্নায়।শিখে নিয়েছি,রূপে নয় ভালোবাসায় ভোলানোরমন্ত্রলিপি, তোমার গানআনন্দ-বেদনায়, ভাঙনে নির্মাণে। আজ, এই প্রতারক সময়েজমে উঠেছে যখন চারিদিকে আবর্জনার স্তূপ,মরে বেঁচে থাকা এই রুদ্ধ…

  • ক্ষমা কোরো, কবি

    ক্ষমা কোরো, কবি

    কি আশ্চর্য!কখনোই হারিয়ে যাও না।একশো চৌষট্টি বৈশাখ পার করেএখনো ফিরে ফিরে আসোপঁচিশের ভোরে, গলির মোড়ে,কৃষ্ণচূড়ার আঁচে, সেঁকে দাওস্যাঁতলা নন্দিন পদাবলীআমাদের।ঝড়ে, বৃষ্টিতে, বজ্রপাতেবাঁচার তাগিদে মিথ্যাপাতেকখনোই ভেঙে পড়ো না।তিরাশি শ্রাবন পার করেএখনো ফিরে ফিরে আসোহাঁটু জলে, বাইশের মেঘের ঢলে,বাড়ি ফিরে কৃষ্ণকলিযেখানে বাসন মেজে চলে।কবিতায়, গানেতর্ক, বিতর্কের দর্পবাণেতোমায় ছুঁতে চেয়েছি কতবার।অল্প থেকে অল্পতর হয়েশুধু লজ্জা পেয়েছি প্রতিবার।আজ মুখ…

  • দুটি কবিতা

    দুটি কবিতা

    প্রার্থনা এই তো ছিল হালকা খবর, তাও লুকিয়ে মিথ্যে কথা!রাগ আসে না খুব সহজে— তাই নিদারুণ বিনম্রতা। দিন কেটে যায় অসম্ভবে, খোঁজ রাখি তাই অন্ধরাতে,কেউ জানেনা সবাই থাকে, রাত্রে আমার প্রার্থনাতে। এই তো জীবন একটা মোটে,রাখব ধ’রে যতই হারাও—সময় পেলেই খোঁজ নেব তাইআমায় যতই উপেক্ষা দাও। আমায় যতই যাও এড়িয়ে হাত তুলে তাও বলব আছি,উল্টোদিকের…