Tag: Poetry

চলিয়াছি গৃহপানে…
[২৫ জুলাই , ১৯৪১ সাল। দিনটি শুক্রবার। সাতসকালেই আশ্রমবাসীরা সমবেত কণ্ঠে এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’ গাইতে গাইতে রবীন্দ্রনাথকে অর্ঘ্য অর্পণ করল। শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলেছেন কবি। আর কোনদিন ফিরবেন না , বোধ হয় বুঝতে পেরেছেন তিনি। যাওয়ার আগে মোটরগাড়িতে চেপে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সবার সঙ্গে দেখা করলেন, গাড়িতে করেই গোটা আশ্রম ঘোরানো হলো…

প্রাণধারা
অমলের করুণ মুখ আরো বেশি শুকনো দেখায়।পাঁচমুড়া পাহাড়ের ঠিকানা সে কবেই গেছে জেনে;প্রেমহীন মানুষের অত্যাচারেকত যে শামলী নদী শুকিয়েছে এক শতাব্দীতে।সুধাও আসে না নিয়ে কুসুমের সাজিখানি তার। অরণ্যের শ্যামছায়া সরে গেছে আরো কত দূরে।অনাবৃত পথেঘাটেপথ হাঁটে যেই সব অসংখ্য মানুষঅশান্ত ও যান্ত্রিক- তাদের এখনবিরহমিলন নেই, সুখদুঃখ স্পষ্ট নয় আর।অভাবিত বিলাস ও বাসনার পাশে –স্থবির মাছিরা…

নাগরিক বৃষ্টি
এখানে বৃষ্টি আদরে সোহাগে আবেগে-আবেশে, রাগে-অনুরাগে মাটিরে রাখে না ধরে। বাজিয়ে নূপুর টইটম্বুর দীঘির জলে, আপন ছন্দে আপনি বিভোর – আনমনা সেই বরষা কিশোরী শালুকের সাথে খেলে না এখানে, সারসের সাথে মেলে না ডানা। এখানে মগন শিল্পী বরষা খেলে না রঙের খেলা, জলরঙা ছবি আঁকে না সে আর দিগন্ত জোড়া ক্যানভাসে তার; বিদায় নিয়েছে মেঘমল্লার,…

মৃন্ময়ীকে
কত কিছু বলতে ইচ্ছে করে পারি না, থেমে যাই থমকে দাঁড়াই দাঁড়িয়ে টোকা মারি দরজায় দরজায় কেউ খোলে না খুললেই দেশদ্রোহী দূর থেকে নজর রাখে ড্রোন কমেন্ট সেকশনে ঘৃণার আগুনে পুড়তে পুড়তে এই কঙ্কালসার ছিবড়ে প্রেমটুকুও শিকার হয় শ্লীলতাহানির প্রত্যেকেই ঘৃণার কথা শুনতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই একটা বড়োসড়ো যুদ্ধের যোদ্ধা হতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই চেয়েছিল দ্রোহের আগুনে…

আমাদের লুপ্ত সব বোধ
তোমারকরতলে রাখি হীরণ্যগর্ভ মাটি,প্রসবিনী হও —দয়াবান মেঘ আর উন্মুখ সূর্যের প্রসন্নতা নিয়ে। এখানে করোটির ভিতর অদ্ভুত লিখনথেমে আছে,পূণ্যশ্লোক অসমাপ্ত — জাগাও আমাদের লুপ্ত সব বোধমেধার ভিতর জন্মদাগ রেখে যায়।খুঁজেছি তাকে,খুঁজেই চলেছিস্তব্ধতার পাশে জাগিয়ে রেখেছি এই চোখএকাকী — এখনও দেখিনি তাকেআমার ভিতরপ্রতিদিন যে শুধু আমাকেই লেখে !তার সে ছায়া মুখব্রহ্মান্ড জলে ভেসে যায়। উৎকর্ণ আছিশব্দের অতীত…

“তবু অশুভ বাক্য নয়…”
“আমি খুবই দারিদ্র্য! কিছু সাহায্য করুন।”সাহায্যপ্রার্থী মানুষটি লোকমুখে শুনিয়াছিল, বিদ্যাসাগর মহাশয় মহাপন্ডিত এবং অতি দানশীল, ওঁনাকে প্রভাবিত করিতে কিঞ্চিত প্রমিত ভাষার অবলম্বন করিয়াছে। কিন্তু পেটে বিদ্যা না থাকিলে যাহা হয়, বিশেষ্য বিশেষণে গোল বাধিয়া গেল। ইহাতে ফল যাহা অবশ্যম্ভাবী, তাহাই ঘটিল। বিদ্যাসাগর মহাশয় ভর্ৎসনা করিয়া কহিলেন “তা আপনার আ-কার দেখেই বোঝা যাচ্ছে।”এই গল্পটি মহাজনের জীবনের…

দুটি কবিতা
অলৌকিক কখনও চাঁদ মুসলমান কখনও চাঁদ হিঁদুকখনও হাটবারের পরে হাটচালাতে ইঁদুরহন্যে হয়ে খাদ্য খুঁজে, বিফল হয়ে রেগেরুটির মতো চাঁদকে খোঁজে চাঁদ ঢাকলে মেঘে কখনও চাঁদ দেখতে গিয়ে তোমায় দেখে ফেলাস্বপ্ন এবং স্বপ্নভঙ্গ – এমনতরো খেলারশুরুও নেই শেষও নেই; শেষ না থাকাই শ্রেয়তবুও চাঁদ স্পর্শ করার স্পর্ধা স্মরণীয় চাঁদ ছুঁয়েছো চাঁদ পেড়েছো চাঁদের তাতে কিআমরা বরং…

বন্দরের কাল হল শেষ
বিদ্যালয়গুলি,সম্মানিত জ্ঞানবৃদ্ধের মতো,পলিত কেশ, লোল চর্ম,দৃষ্টি অস্বচ্ছ, স্মৃতিও তথৈবচ, অথচ,তাদের সামনে গেলেইঅজান্তেই মাথাটা নুয়ে আসে।ঘরের দেওয়ালগুলো লোনাধরাসেখান থেকে জল গড়িয়ে নামে, যার স্বাদশিশুর কান্নার মতো নোনতা। ব্ল্যাকবোর্ডগুলো যারা ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলত,ঘোড়ারা এসে খেয়ে গেছে তাদের,চকগুলো টেবিলে,যেন কবরে শুয়ে থাকা শব্দহীন হাড়,ধরার হাতগুলো ঘোড়াদের ক্ষুরে ছিন্নভিন্ন ;নৈরাশ্য, নৈরাশ্যের কালো সুড়ঙ্গের মধ্যেতলিয়ে যাচ্ছে শিশিক্ষু মুখগুলি,ক্লাসরুমে বসে…

রবীন্দ্রনাথের গান ও সত্যজিৎ রায় – কিছু কথা
অতি সম্প্রতি ‘রবিচক্র’-এর আন্তর্জালিক পত্রিকার পাতায় শ্রীমতী পূর্ণা মুখোপাধ্যায়ের সুলিখিত প্রবন্ধ ‘সত্যজিতের মননে রবীন্দ্রনাথ’ পড়ে কিছু মন্তব্য করতে বসে দেখছি তার আকার একটা স্বতন্ত্র লেখার দাবি করছে। কারণ সত্যজিৎ রায়ের সংগীত-ভাবনা সম্পর্কে তাঁর বলা আর অনেক না-বলা কথাও আমার ভাবনায় উঠে আসছে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে দু-চার কথা বলতে এই পোস্টের অবতারণা। সংগীত সম্পর্কে আদৌ…

