Tag: Bengali Literature

হে মহাজীবন, একবার এসো ফিরে…
ক্যালেন্ডারের পাতায় পয়লা জুলাই দিনটি প্রতি বছর তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দিনটা তো তাঁর চলে যাবার দিনও বটে। একই দিনে জন্ম এবং মৃত্যু— এমনই এক অদ্ভুত সমাপতন। আশি বছরের একটি অনন্য জীবন। ঠাকুমা আদর করে নাম রেখেছিলেন ‘ভজন’। ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র তাঁর নাম দিয়েছিলেন ‘বিধান’, যিনি উত্তরকালের একমেবাদ্বিতীয়ম ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়। পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও…

কবে কখন কোন বর্ষার গান
এ বছর সময় মতই বর্ষা এসেছে এই বঙ্গে। আর আমরা যখন দেখতে পাচ্ছি আকাশে ঠিক তেমনি মেঘেরই আনা গোনা চলছে, যে মেঘ দেখে রবি ঠাকুর লিখেছিলেন – ‘রহিয়া রহিয়া বিপুল মাঠের পরে/ নব তৃণদলে বাদলের ছায়া পড়ে……’, তখন চারিদিকের সব রকম মালিন্য, ক্লেদ, বিপন্নতা উপেক্ষা করে আমাদের পুরাতন হৃদয় একটু হলেও পুলকে দুলে উঠছে বৈকি।…

এলোমেলো যা মনে এলো
(১) “কাহৈরি ঘিণি মেলি । অচ্ছহু কীস ।বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ।।আপনার মাংসেঁ হরিণা বৈরী ।খনহ ন ছাড় অ ভুকু অহেরী ।।” চর্যাপদ। মাত্র ১০০০ বছর আগের বাংলা ভাষা ।আজ মৃত, বাঙালি এই ভাষায় আজ কথা বলে না, এমনকি ভাষাবিদ ছাড়া অন্যে বোঝেও না। অর্থাৎ এ ভাষার মৃত্যু হয়েছে এবং মাত্র ১০০০ বছরের মধ্যে ।৬০০-৬৫০…

সেদিন যে রাগিণী গেছে থেমে…
“ও পারেতে বিষ্টি এল,ঝাপসা গাছপালা।এ পারেতে মেঘের মাথায়— .একশো মানিক জ্বালা।বাদলা হাওয়ায় মনে পড়েছেলেবেলার গান—‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,নদেয় এল বান।” একদা জীবনপ্রভাতে, বহুশ্রুত, বহুপঠিত এই কবিতার পংক্তিগুলি আজ জীবনের অস্তাচলপ্রান্তে এসে যখন মনে মনে আবৃত্তি করি তখন বুকের ভিতর হুহু করে ওঠে। শুধু ছেলেবেলার নয়, জীবনের সব পর্বে সব মুহূর্তে থেমে যাওয়া সমস্ত গান যেন…

বাংলা গানের উজ্বল কারিগরেরা (পর্ব ৬)
কোনো নিবিড় অরণ্যভূমিতে, যেখানে বৃহদায়তন বনস্পতিরা ডালপালা ছড়িয়ে আকাশ ঢেকে রাখে, সেখানেও বনানীর ফাঁক-ফোকর দিয়ে আসা সূর্যের আলোর ছোঁয়া, মাটিতে মাঝারি বা ছোট গাছ, এমনকি লতাগুল্মেরও জন্ম দিয়ে, তাতে ফুল ফুটিয়ে, ফল ফলিয়ে অরণ্যের শোভা বাড়িয়ে তোলে।

স্বপ্ন
(১) এতক্ষণে চারপাশটা একটু খালি হওয়াতে কাজে বেশি করে মন দিতে পারলো অর্ণব। চার মাসের প্রজেক্টের অন্তিম পর্ব চলছে। নামী ইন্সুরেন্স কোম্পানির নতুন পেমেন্ট অ্যাপ বানানোর বরাত পেয়েছে অর্ণবদের আই টি কোম্পানি। এই ইন্সুরেন্স কোম্পানির বাজার-চলতি জনপ্রিয় প্রোডাক্টগুলোর প্রিমিয়াম যাতে সহজে খুব নিশ্চিত ভাবে অনলাইনে পেমেন্ট করা যায় তার প্রজেক্ট। সফলভাবে এই পেমেন্ট পোর্টাল চালু…

বিষধর
“গতর নড়ে না মোটে! পুরুষ মানুষ এত বেলা অবধি বিছনায় না গড়িয়ে, একটু বাজারের দিকে গেলে তো পারো।” সকাল সকাল লবঙ্গর ঝাঁজে ঘুম ভাঙে মনতোষের। “জন্মানোর পর, তোর জিভে কি একটু মধু দেয় নি কেউ?” কথাটা মনে মনেই বলে মনতোষ। লবঙ্গর মুখের ওপর কথা ফোটানোর সাহস বা সুযোগ, কোনটাই নেই। কিছু বলা অর্থ, আগুনে ঘি…

আমাদের লুপ্ত সব বোধ
তোমারকরতলে রাখি হীরণ্যগর্ভ মাটি,প্রসবিনী হও —দয়াবান মেঘ আর উন্মুখ সূর্যের প্রসন্নতা নিয়ে। এখানে করোটির ভিতর অদ্ভুত লিখনথেমে আছে,পূণ্যশ্লোক অসমাপ্ত — জাগাও আমাদের লুপ্ত সব বোধমেধার ভিতর জন্মদাগ রেখে যায়।খুঁজেছি তাকে,খুঁজেই চলেছিস্তব্ধতার পাশে জাগিয়ে রেখেছি এই চোখএকাকী — এখনও দেখিনি তাকেআমার ভিতরপ্রতিদিন যে শুধু আমাকেই লেখে !তার সে ছায়া মুখব্রহ্মান্ড জলে ভেসে যায়। উৎকর্ণ আছিশব্দের অতীত…

“তবু অশুভ বাক্য নয়…”
“আমি খুবই দারিদ্র্য! কিছু সাহায্য করুন।”সাহায্যপ্রার্থী মানুষটি লোকমুখে শুনিয়াছিল, বিদ্যাসাগর মহাশয় মহাপন্ডিত এবং অতি দানশীল, ওঁনাকে প্রভাবিত করিতে কিঞ্চিত প্রমিত ভাষার অবলম্বন করিয়াছে। কিন্তু পেটে বিদ্যা না থাকিলে যাহা হয়, বিশেষ্য বিশেষণে গোল বাধিয়া গেল। ইহাতে ফল যাহা অবশ্যম্ভাবী, তাহাই ঘটিল। বিদ্যাসাগর মহাশয় ভর্ৎসনা করিয়া কহিলেন “তা আপনার আ-কার দেখেই বোঝা যাচ্ছে।”এই গল্পটি মহাজনের জীবনের…

রবীন্দ্রসঙ্গীত সাধনার স্বাধীনতা
কত রাজা আসে যায়, ইতিহাসে চিহ্নহীন তার পদ ধ্বনি বেজে বেজে চলে …। ( ফেরারি ফৌজ, প্রেমেন্দ্র মিত্র) ‘স্বপন দেখিছে রাধারানী, আহা স্বপন দেখিছে রাধারানী’। না । রাধারানী নন – স্বপ্ন দেখছিল দুখিরাম। সে ভারি খুবসুরত খোয়াব, জীবন ধন্য করা খোশখেয়াল। অক্ষাংশ – 22.5422 আর দ্রাঘিমাংশ – 88.3442 যেখানে কাটাকুটি করেছে স্বপ্নের শুরু ঐখানে। পাঠক…
