Category: কবিতা

কোথায় এসেছিলাম কী রেখে যাব
মিথ্যে বললে চড় খেতে হত,গুরুজন ও শিক্ষকের প্রতি আনুগত্য ছিল নিষ্প্রশ্ন,সাত সমুদ্র তেরো নদীর রূপকথা ছিল,যোগ্যকে সম্মান করার সহবৎ,জ্যান্ত ট্যাংরা কুড়ি টাকা কেজিতে,সঞ্চয়িতা আর সঞ্চিতা ছিল ধর্মগ্রন্থ। একটি প্রবাদ শুধু যোগসূত্র।আগে ছিল আভিধানিক,এখন প্রয়োগে প্রকৃষ্ট উদাহরণ –চোরের মায়ের বড় গলা।চোখের আড়ালে হিমবাহরা গলে চলেছে,সমুদ্রে জল বাড়ছে সারাক্ষণ;অনুভূমিক বাসস্থান দ্রুত কমছে,সব নবনির্মাণ বিপজ্জনকভাবে উল্লম্ব;সৃষ্টি ফিরছে ধ্বংসের…

শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র শর্ম্মাকে নিবেদিত দুটি কবিতা
কে যায় ? তিনি হেঁটে চলেছেন। দৃপ্ত পদক্ষেপ। ইস্পাতের মতো দৃঢ় শিরদাঁড়া, সোজা। মাথা উঁচু। সূর্যের দিকে হেঁটে যাওয়া দীর্ঘতম বৃক্ষের মতো।

কীট-দষ্ট ফুল
মৌন পাহাড়ের পাশে সাজিয়ে রাখি শান্ত নদীটিকে।মন্ত্রের মতো ভোর,শান্ত অবগাহনপায়ে পায়ে মখমলি সবুজ, আরআকাশে গভীর সমুদ্রের নীল। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা নয়,কাশ্মীর ফেরি করে এ স্বপ্ন, স্বপ্নের মতো ছবি। মনে পড়ে,পহেলগাঁওয়ের ইয়াসিনকে,নিজের খাবার থেকে এক টুকরো ‘গিরদা’ হাতে দিয়ে বলেছিল,‘মেহেমাননওয়াজি’ কাকে বলে জানে ওরাবলেছিল,‘আল্লাহ সবার,সন্ত্রাস নয়’।ফিরানের ভেতর কাংড়ির কাঠকয়লার ব্যথাতুর আগুনদেখেছিলাম ওর চোখে। সামনে লিডার।পশ্চিম আকাশে সূর্য…

স্বাধীনতা
১স্বাধীনতা ছাড়া এতসুখ পেতাম কোথায় ? ধ’রে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবনতুবা মেরে হিন্দুস্থান ‘তোর বাপের দেশে গিয়ে কথা বলরাতদুপুরে সবুজ আলো, ‘মাইরি বলছি, এক্কেবারে ডাঁশা। খুলে ফেলো দেখি তালা’।গাছের ডালে ডালে ঢিল বেঁধে টাঙিয়ে দিয়েছি ইচ্ছে গুলো। “জয় শ্রীরাম অথবা আল্লাহ আকবর” – সব দোষ ওই লালমুখোদের … ফাটাও গলা। “সারে জাঁহাসে আচ্ছা”। হা হা, স্বাধীনতা…

স্বরাজ-যাপন
গিন্নি তুমি পালিয়ে কোথায় গেলে,জানো না, আজ বিশেষ প্রিয় দিন?জমিয়ে কড়া চা-টা বানাও ভোরেজানো তো, আজ হয়েছি স্বাধীন? বিশাল ভিড়ে লাইনে ঘেমে নেয়েঅনেক কষ্টে মাংস পেলাম আজ,কষিয়ে রাঁধো, ফাটিয়ে লঙ্কা দিয়েজানো তো আজ পেয়েছি স্বরাজ? সাতটা মঞ্চে ভাষণ দিয়ে ফিরেঘরেই দেখি, পতাকা তোলা বাকি,আরে ছাড়ো, পাবলিক কী বোঝে..তারা জানে, দিলাম কেমন ফাঁকি? সকালবেলায় প্রভাতফেরীর হাঁটা,ফিরেই…

চলিয়াছি গৃহপানে…
[২৫ জুলাই , ১৯৪১ সাল। দিনটি শুক্রবার। সাতসকালেই আশ্রমবাসীরা সমবেত কণ্ঠে এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’ গাইতে গাইতে রবীন্দ্রনাথকে অর্ঘ্য অর্পণ করল। শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলেছেন কবি। আর কোনদিন ফিরবেন না , বোধ হয় বুঝতে পেরেছেন তিনি। যাওয়ার আগে মোটরগাড়িতে চেপে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সবার সঙ্গে দেখা করলেন, গাড়িতে করেই গোটা আশ্রম ঘোরানো হলো…

প্রাণধারা
অমলের করুণ মুখ আরো বেশি শুকনো দেখায়।পাঁচমুড়া পাহাড়ের ঠিকানা সে কবেই গেছে জেনে;প্রেমহীন মানুষের অত্যাচারেকত যে শামলী নদী শুকিয়েছে এক শতাব্দীতে।সুধাও আসে না নিয়ে কুসুমের সাজিখানি তার। অরণ্যের শ্যামছায়া সরে গেছে আরো কত দূরে।অনাবৃত পথেঘাটেপথ হাঁটে যেই সব অসংখ্য মানুষঅশান্ত ও যান্ত্রিক- তাদের এখনবিরহমিলন নেই, সুখদুঃখ স্পষ্ট নয় আর।অভাবিত বিলাস ও বাসনার পাশে –স্থবির মাছিরা…



