শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Category: কবিতা

  • ভেঙে যায় শব্দের অহঙ্কার 

    ভেঙে যায় শব্দের অহঙ্কার 

    পোস্টঅফিসের মোড়ে হঠাৎ দেখলাম তাঁকেশব্দহীন জটলায়। ব্যস্ত শহর।গাড়ির হর্ন।পথচারীর হন্তদন্ত হেঁটে যাওয়া —সমস্ত কোলাহল অতিক্রম করে বক্তব্য রাখছেন তিনিনির্বাক ঈশারার অমোঘ সংকেতে।সামনে ফেস্টুন হাতেশব্দের জগৎ থেকে নির্বাসিত নাগরিক ভিড়।প্রতিবাদ আর প্রত্যয়ের অভিব্যক্তি মুহুর্মুহু জেগে উঠছেশব্দকে অতিক্রম করে যাওয়া ভাষাহীন মুখে। ওরা দেখেনিচারপাশের সব আলো যেন নিভে এলোঅন্ধকার জনারণ্যে জেগে রইল সেই নিঃশব্দ ভিড়আরমৃত জোনাকির মতো…

  • একটি অবিস্মরণীয় কবিতার জন্ম

    একটি অবিস্মরণীয় কবিতার জন্ম

    ৯ মে, ১৯৩৮‌। ফ্লোরেন্স শহরের Teatro Comunale এ এক মহা আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে মিলিত হবে ইতিহাসের দুই কুখ্যাত নায়ক। একটু আগেই ফ্লোরেন্সের Via del Corso দিয়ে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেছেন কবির ভাষায় “un messo infernale” নরকের এক দূত। উন্মত্ত আলালা আলালা ধ্বনির সঙ্গে স্বর সংগতি রেখে আর্ণো নদীর রাগী ঢেউগুলি তীরভূমিতে আছড়ে…

  • রক্ত রাগের রাঙা রব

    রক্ত রাগের রাঙা রব

    [অনুবাদে ফিলিস্তিনি কবি রাফিফ জিয়াদাহ’র কবিতা ] [প্রাক-কথনঃ রাফিফ জিয়াদাহ একজন ফিলিস্তিনি কবি, লন্ডনের স্বনামধন্য কিংস কলেজের অধ্যাপিকা। ‘We Teach Life, Sir’ এবং ‘Shades of Anger’-এর মতো তাঁর কবিতাগুলো প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সারা বিশ্বে ভাইরাল হয়ে ওঠে। তাঁর সরাসরি পাঠে কবিতা ও সঙ্গীতের এক আবেগময় মিশ্রণ শোনা যায়, যা শ্রোতাকে আন্দোলিত করে। প্রথম…

  • কোথায় এসেছিলাম কী রেখে যাব

    কোথায় এসেছিলাম কী রেখে যাব

    মিথ‍্যে বললে চড় খেতে হত,গুরুজন ও শিক্ষকের প্রতি আনুগত‍্য ছিল নিষ্প্রশ্ন,সাত সমুদ্র তেরো নদীর রূপকথা ছিল,যোগ‍্যকে সম্মান করার সহবৎ,জ‍্যান্ত ট‍্যাংরা কুড়ি টাকা কেজিতে,সঞ্চয়িতা আর সঞ্চিতা ছিল ধর্মগ্রন্থ। একটি প্রবাদ শুধু যোগসূত্র।আগে ছিল আভিধানিক,এখন প্রয়োগে প্রকৃষ্ট উদাহরণ –চোরের মায়ের বড় গলা।চোখের আড়ালে হিমবাহরা গলে চলেছে,সমুদ্রে জল বাড়ছে সারাক্ষণ;অনুভূমিক বাসস্থান দ্রুত কমছে,সব নবনির্মাণ বিপজ্জনকভাবে উল্লম্ব;সৃষ্টি ফিরছে ধ্বংসের…

  • দুটি কবিতা

    দুটি কবিতা

    অবিরল সমুদ্রে চলেছে মেয়েটি কাদের কথায় যাচ্ছে নুনে বিষ হতে? বুকে বাঁধা নৌকা- ঘন্টাধ্বনি… একসময় শরীর জমে শঙ্খ

  • শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র শর্ম্মাকে নিবেদিত দুটি কবিতা

    শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র শর্ম্মাকে নিবেদিত দুটি কবিতা

    কে যায় ? তিনি হেঁটে চলেছেন। দৃপ্ত পদক্ষেপ। ইস্পাতের মতো দৃঢ় শিরদাঁড়া, সোজা। মাথা উঁচু। সূর্যের দিকে হেঁটে যাওয়া দীর্ঘতম বৃক্ষের মতো।

  • অনুবাদে এক গুচ্ছ লোরকা

    অনুবাদে এক গুচ্ছ লোরকা

    [প্রাককথনঃ ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার জীবনকাল ১৮৯৮ থেকে ১৯৩৬। সালভাদোর দালির অন্তরঙ্গ বন্ধু , নাট্যকার কবি – যাকে স্পেনের উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তি গুলি করে মেরেছিলো। সুনীল গাঙ্গুলির একটা কবিতাও আছে – কবির মৃত্যু। শহীদ লোরকার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায় নি। কিন্তু তার কবিতা রয়ে গেছে। কালের স্রোতের শীর্ষে। রবিচক্রের এই পর্বে রইল ভূমিকাসহ লোরকার চারটি কবিতার…

  • কীট-দষ্ট ফুল

    কীট-দষ্ট ফুল

    মৌন পাহাড়ের পাশে সাজিয়ে রাখি শান্ত নদীটিকে।মন্ত্রের মতো ভোর,শান্ত অবগাহনপায়ে পায়ে মখমলি সবুজ, আরআকাশে গভীর সমুদ্রের নীল। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা নয়,কাশ্মীর ফেরি করে এ স্বপ্ন, স্বপ্নের মতো ছবি। মনে পড়ে,পহেলগাঁওয়ের ইয়াসিনকে,নিজের খাবার থেকে এক টুকরো ‘গিরদা’ হাতে দিয়ে বলেছিল,‘মেহেমাননওয়াজি’ কাকে বলে জানে ওরাবলেছিল,‘আল্লাহ সবার,সন্ত্রাস নয়’।ফিরানের ভেতর কাংড়ির কাঠকয়লার ব্যথাতুর আগুনদেখেছিলাম ওর চোখে। সামনে লিডার।পশ্চিম আকাশে সূর্য…

  • স্বাধীনতা

    স্বাধীনতা

    ১স্বাধীনতা ছাড়া এতসুখ পেতাম কোথায় ? ধ’রে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবনতুবা মেরে হিন্দুস্থান ‘তোর বাপের দেশে গিয়ে কথা বলরাতদুপুরে সবুজ আলো, ‘মাইরি বলছি, এক্কেবারে ডাঁশা। খুলে ফেলো দেখি তালা’।গাছের ডালে ডালে ঢিল বেঁধে টাঙিয়ে দিয়েছি ইচ্ছে গুলো। “জয় শ্রীরাম অথবা আল্লাহ আকবর” – সব দোষ ওই লালমুখোদের … ফাটাও গলা। “সারে জাঁহাসে আচ্ছা”। হা হা, স্বাধীনতা…

  • স্বরাজ-যাপন

    স্বরাজ-যাপন

    গিন্নি তুমি পালিয়ে কোথায় গেলে,জানো না, আজ বিশেষ প্রিয় দিন?জমিয়ে কড়া চা-টা বানাও ভোরেজানো তো, আজ হয়েছি স্বাধীন? বিশাল ভিড়ে লাইনে ঘেমে নেয়েঅনেক কষ্টে মাংস পেলাম আজ,কষিয়ে রাঁধো, ফাটিয়ে লঙ্কা দিয়েজানো তো আজ পেয়েছি স্বরাজ? সাতটা মঞ্চে ভাষণ দিয়ে ফিরেঘরেই দেখি, পতাকা তোলা বাকি,আরে ছাড়ো, পাবলিক কী বোঝে..তারা জানে, দিলাম কেমন ফাঁকি? সকালবেলায় প্রভাতফেরীর হাঁটা,ফিরেই…