Category: কবিতা

নাগরিক বৃষ্টি
এখানে বৃষ্টি আদরে সোহাগে আবেগে-আবেশে, রাগে-অনুরাগে মাটিরে রাখে না ধরে। বাজিয়ে নূপুর টইটম্বুর দীঘির জলে, আপন ছন্দে আপনি বিভোর – আনমনা সেই বরষা কিশোরী শালুকের সাথে খেলে না এখানে, সারসের সাথে মেলে না ডানা। এখানে মগন শিল্পী বরষা খেলে না রঙের খেলা, জলরঙা ছবি আঁকে না সে আর দিগন্ত জোড়া ক্যানভাসে তার; বিদায় নিয়েছে মেঘমল্লার,…

মৃন্ময়ীকে
কত কিছু বলতে ইচ্ছে করে পারি না, থেমে যাই থমকে দাঁড়াই দাঁড়িয়ে টোকা মারি দরজায় দরজায় কেউ খোলে না খুললেই দেশদ্রোহী দূর থেকে নজর রাখে ড্রোন কমেন্ট সেকশনে ঘৃণার আগুনে পুড়তে পুড়তে এই কঙ্কালসার ছিবড়ে প্রেমটুকুও শিকার হয় শ্লীলতাহানির প্রত্যেকেই ঘৃণার কথা শুনতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই একটা বড়োসড়ো যুদ্ধের যোদ্ধা হতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই চেয়েছিল দ্রোহের আগুনে…

আমাদের লুপ্ত সব বোধ
তোমারকরতলে রাখি হীরণ্যগর্ভ মাটি,প্রসবিনী হও —দয়াবান মেঘ আর উন্মুখ সূর্যের প্রসন্নতা নিয়ে। এখানে করোটির ভিতর অদ্ভুত লিখনথেমে আছে,পূণ্যশ্লোক অসমাপ্ত — জাগাও আমাদের লুপ্ত সব বোধমেধার ভিতর জন্মদাগ রেখে যায়।খুঁজেছি তাকে,খুঁজেই চলেছিস্তব্ধতার পাশে জাগিয়ে রেখেছি এই চোখএকাকী — এখনও দেখিনি তাকেআমার ভিতরপ্রতিদিন যে শুধু আমাকেই লেখে !তার সে ছায়া মুখব্রহ্মান্ড জলে ভেসে যায়। উৎকর্ণ আছিশব্দের অতীত…

দুটি কবিতা
অলৌকিক কখনও চাঁদ মুসলমান কখনও চাঁদ হিঁদুকখনও হাটবারের পরে হাটচালাতে ইঁদুরহন্যে হয়ে খাদ্য খুঁজে, বিফল হয়ে রেগেরুটির মতো চাঁদকে খোঁজে চাঁদ ঢাকলে মেঘে কখনও চাঁদ দেখতে গিয়ে তোমায় দেখে ফেলাস্বপ্ন এবং স্বপ্নভঙ্গ – এমনতরো খেলারশুরুও নেই শেষও নেই; শেষ না থাকাই শ্রেয়তবুও চাঁদ স্পর্শ করার স্পর্ধা স্মরণীয় চাঁদ ছুঁয়েছো চাঁদ পেড়েছো চাঁদের তাতে কিআমরা বরং…

বঙ্গজীবনের পাঁচালি- চোদ্দ শতক (১০)
পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের প্রদেশ হবার পরেবাঙলা ভাষার দাবি ওঠে সেই একই বৎসরে।কী ভাবে হয়েছিল বাংলাভাষার অধিকার হরণ —আগেই আমরা দিয়েছি তার কিছু কিছু বিবরণ।উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাজভাষা —এই ঘোষণায় বাঙালিদের বাড়ছিল হতাশা।।বাংলাই হবে রাষ্ট্রভাষা — পাক সরকারের উদ্দেশেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সমাবেশেএই দাবি তোলা হয় আর একে করেন সমর্থনশহিদুল্লাহ, মনসুর আহমেদ প্রমুখ বিদ্বজ্জন।।রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম…

বন্দরের কাল হল শেষ
বিদ্যালয়গুলি,সম্মানিত জ্ঞানবৃদ্ধের মতো,পলিত কেশ, লোল চর্ম,দৃষ্টি অস্বচ্ছ, স্মৃতিও তথৈবচ, অথচ,তাদের সামনে গেলেইঅজান্তেই মাথাটা নুয়ে আসে।ঘরের দেওয়ালগুলো লোনাধরাসেখান থেকে জল গড়িয়ে নামে, যার স্বাদশিশুর কান্নার মতো নোনতা। ব্ল্যাকবোর্ডগুলো যারা ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলত,ঘোড়ারা এসে খেয়ে গেছে তাদের,চকগুলো টেবিলে,যেন কবরে শুয়ে থাকা শব্দহীন হাড়,ধরার হাতগুলো ঘোড়াদের ক্ষুরে ছিন্নভিন্ন ;নৈরাশ্য, নৈরাশ্যের কালো সুড়ঙ্গের মধ্যেতলিয়ে যাচ্ছে শিশিক্ষু মুখগুলি,ক্লাসরুমে বসে…

শূন্য কলরোল
মঞ্চ গড়ে এই আয়োজনসুরক্ষাকে আগলে রাখে বিধিবদ্ধ ঋণমিষ্টি সুবাস নাই বা মিলুকচলতে থাকুক ভুলের খেলাজল খায় না প্লাস্টিক ফুল মজলিসটি বেজায় পোক্ত – ফায়দারা শৌখিন। তীব্র ভাবে আঁকড়ে ধ’রে তারই অংশ হইসুযোগ বুঝে ঘৃণা ছুড়িআড়াল পেলে লুকাই সুখযদিও উদ্ধৃতিরা বড়োই সাধারণচিরাচরিত স্বভাবখানা –বরাবরই বয়ে বেড়ায় কালের বোঝামানোন্নয়ন করে না সমর্থন। তোমার দেশ তোমার বেশ সাজুক…

রক্তকরবীর খোঁজে
তার কলস্বর শুনতে পাই রোজ —বুকের মধ্যে ছোট যে নদী, তিরতিরেবয়ে যায় পঙ্ক্তির ভিতর দিয়ে।সে নদীখাত দিয়ে বয়ে গেছে কত কত জলআশৈশব, শ্লেট-পেন্সিল, ছেঁড়া হাফপ্যান্ট। বালি নিয়ে খেলতে খেলতে কখনফুটে উঠেছি কাশের বনে,চন্দ্রাহত জ্যোৎস্নায়।শিখে নিয়েছি,রূপে নয় ভালোবাসায় ভোলানোরমন্ত্রলিপি, তোমার গানআনন্দ-বেদনায়, ভাঙনে নির্মাণে। আজ, এই প্রতারক সময়েজমে উঠেছে যখন চারিদিকে আবর্জনার স্তূপ,মরে বেঁচে থাকা এই রুদ্ধ…


