শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Bengali Literature

  • দু এক মুহূর্ত শুধু রৌদ্রের সিন্ধুর কোলে … তুমি আর আমি

    দু এক মুহূর্ত শুধু রৌদ্রের সিন্ধুর কোলে … তুমি আর আমি

    ‘এই যে শ্রীমতী চিত্রিতা এই দিকে … হ্যাঁ এই টেবিলে। বসুন। নমস্কার । আমি ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।’ = ‘অ্যাঁ! সে দিন তো বলেছিলেন তারাপদ না কি যেন ?’ ‘বাহ। ধন্য আপনার স্মৃতি শক্তি। একটু পরীক্ষা করে দেখলুম। আসলে সেদিন এমন মেঘমেদুর মুখচ্ছবি দেখেছিলেম যে ভাবিনি আমার সাধারণ তারাপদ নামটি আপনার মনে থাকবে। একটি বুড়ো আঙুলের ছবি আপনি…

  • শীতল একখানি

    শীতল একখানি

    আমার শিশু দেখা এবং বারবার দেখার অভ্যেসটা আমাকে ভরাট করেছে সারাজীবন ৷ হ্যাঁ – এ বিষয়ে মোটামুটি নিঃসন্দেহ আমি ৷ কবে থেকে নিজের সম্বন্ধে এমন নিঃসন্দেহ হওয়ার শুরু আমি জানি না ৷ তবে শিশুরা যখনই মিশেছে আমার সঙ্গে – গল্প তৈরি করে গেছে ৷ একটি সুতোর টানে মালা হয়ে কণ্ঠে ঝোলে গল্পগুলো ৷ মালাটাকে যখন…

  • স্নেহ

    স্নেহ

    নীলকান্ত মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে যখন বেরিয়ে এলো, তখন তার মুখে অপ্রতিভ হাসিটা ঝুলে আছে, সে জানেও না, ঠিক এরকমই একটা হাসি নিয়ে তার বাবা ও তার একমাত্র পিসির বড়লোক শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঁচ বছরের নীলকান্তর হাত ধরে বেরিয়ে এসেছিলেন। পিসির সঙ্গে সেই তাদের শেষ দেখা। কিন্তু ছোট্ট নীলকান্তর এখনও একটা জিনিষ স্পষ্ট মনে আছে,…

  • দু’টি অনু গল্প

    দু’টি অনু গল্প

    (১) কিচমিচ, ম্যাও, ভৌ আর ঠাকুদ্দা কিচমিচ বড্ডো ছটফটে দুষ্টু পাখি। পিরিক পিরিক ক’রে এসে কিসের আনন্দে কে জানে অকারণে একটু ঠুক লাগিয়ে পালালো। ধুর, খালি খালি এইসব। অমনি মুখ গোঁজ হয়ে গেল তো ম্যাও বুড়োর! মাছটা ফেলে রেখে, খাবো না যা বলে বসে আছে। ভৌভৌ খাচ্ছিলো বসে পাশে, বলল –— অ্যাই অত রাগের কি…

  • কমরেড

    কমরেড

    এই গল্পটি ১৯৫০ সালে লেখা হলেও আজকের প্রেক্ষাপটে তা আপাতদৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। কিন্তু মনোযোগ দিয়ে পড়লে দেখা যায়—এই গল্প আমাদের বুঝিয়ে দেয় কেন এবং কীভাবে আমাদের দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের একদা দীপ্তিমান গৌরব ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হয়েছে স্বার্থের জলাজ্বরে, দলীয় রাজনীতির ক্ষুদ্র কলহে ও ব্যক্তিগত সুবিধাবাদের অন্ধকারে।

  • আমার ঋত্বিক

    আমার ঋত্বিক

    “সিগারেট ?”“না থাক। বিড়িটাই ঠিক আছে। ওটাই কাজ করবে । ““হুইস্কি – স্কচ ?”“বুকের লোম উঠে যাবে।”মুখ ফিরিয়ে পড়ন্ত বিকেলের দিকে নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকা। ছলাৎছল্‌ ছলাৎছল্‌। মন দরিয়ায় নাও বাইয়া কেডা যায়! কোথা যায়!এক ঝটকায় বিড়িটা ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া। জ্বলন্ত ছাই ছিটকে পড়ল মাটিতে। অট্টহাসি। বারুদের গন্ধ। নিজেকেই বিদ্রুপ। নিস্তব্ধতা। গোধূলির আলো মুখে পড়ে। যেন…

  • ঋত্বিকের চিত্রনামা

    ঋত্বিকের চিত্রনামা

    এই কাহিনী ঋত্বিক ঘটকের।ঋত্বিকের জন্ম ঢাকায় ৪ নভেম্বর ১৯২৫; মৃত্যু কলকাতায় ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬। ইহলোক যখন ছাড়লেন, বয়সটা তদুপযুক্ত নয়। বেহিসেবি জীবনে অর্থকষ্টে রোগে ভুগে জীবনদীপ আস্তে আস্তে নিভে আসছিল। তবে পঞ্চাশোর্ধে বনং ব্রজেৎ উপমাটা ঠিক খাটবে না, কেননা তাঁর বেপরোয়া মেজাজ, এলোমেলো প্রকাশ, অতীতের আকৃতি এবং সংযমের ন্যূনতা সমস্ত মিলিয়ে বাঙালি মন থেকে তাঁর…

  • ঘুণ

    ঘুণ

    ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l ভোট ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l তামঝাম ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l রোশনাই ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l রক্ত মুখ ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l উৎসব ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l পিশাচ ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l খুন ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l বলাৎকার ভাবো ভাবোভাবা প্র্যাকটিস করো l সমন্বয়…

  • চিত্তপ্রয়াণ – একটি জাতির শোকাশ্রু

    চিত্তপ্রয়াণ – একটি জাতির শোকাশ্রু

    দার্জিলিঙে ১৯২৫ সালের ১৬ই জুন আকস্মিকভাবে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনাবসান হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ৫৫ বছরও পূর্ণ হয়নি। মৃত্যুর আগের দু সপ্তাহের ও অব্যবহিত পরের মুহূর্তগুলির স্মৃতিচারণ করে ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, দেশবন্ধুজায়া বাসন্তী দেবীর নাকি ইচ্ছা ছিল যে দার্জিলিংয়েই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হোক। কিন্তু তাঁর অগণিত অনুরাগীদের মনোভাব ছিল অন্যরকম :- “এই পাহাড়ে দেশটিতে…

  • লেখক

    লেখক

    ফটফটে সাদা রঙের একটা বাগান বাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে হাজির হলেন সিদোনির স্বামী l এসেই “কেউ আছেন, কেউ আছেন গো বাড়িতে” বলে, বাইরে থেকেই বিরাট ডাকাডাকি l বিকেল বিকেল ওরা পৌঁছেছে এখানে l মোরাম বিছানো পথ l চারিদিকে অন্ধকার করে এসেছে বাগানের গাছের সমারোহে l বাড়িতে একটা পুরোনো ম্যানশনের ছোঁয়া l সিদোনির মনে হলো হয়তো…