Tag: Bengali Literature

মেঘদূত ভাবানুবাদ (পর্ব – ৯)
পূর্বকথনঃ–ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো অধর। হরিণনয়না, ক্ষীণকটি, নিম্ননাভি। যক্ষের কাজে ঘটে প্রমাদ। মন চলে যায় নিজ কক্ষের বাতায়নপথে। তার কর্মশৈথিল্যে ক্রুদ্ধ কুবের ধৈর্য হারালেন। নির্বাসন দিলেন অলকা থেকে রামগিরি আশ্রমে ।একাকী যক্ষ চলে এলেন সেই আশ্রমে। ক্ষীণদেহ, প্রিয়াবিযুক্ত। কণকবলয় হাত থেকে যাচ্ছে খুলে। ঘনিয়ে এল নীল নব মেঘমালা নিয়ে আষাঢ় মাস। জনপদে যবে প্রবেশিবে তুমি ব্রহ্মাবর্তনাম, দেখিবে ক্ষাত্রসংঘাতক্ষত কুরুক্ষেত্র ধাম। শতদলপরে বর্ষণসম তব, রাজন্যগণে বিদ্ধ করেন অর্জুন পান্ডব। স্বজনের প্রতি প্রীতি পরবশ বলরাম, ত্যজিয়াছিলেন রেবতীলোচন বিম্বিতসুরাপান সরস্বতীর স্বাদু জলপানে তৃপ্ত তাঁহারই সম, বাহিরে কৃষ্ণ, অন্তরে শুচি হইও হে অনুপম। কনখল থেকে নাতিদূরস্থ হিমালয় অবতীর্ণা গঙ্গাসমীপে যাইও হে মেঘ, জহ্নুমুনির কন্যা। একশত ষাট সগরতনয় যাহার পুণ্যপরশে,…

২২শে শ্রাবণ
ঊনআশি বছর আগে বর্ষণ মুখরিত সেই শ্রাবণ দিনটিতে কলকাতা তথা অবিভক্ত বাংলায় সূর্য অস্তমিত হয়েছিল দুপুর বারোটা দশ মিনিটে। এত বড় মাপের সূর্যাস্ত বাঙালির মননে চেতনায় আর আসেনি। চলে গেছিলেন রবীন্দ্রনাথ । একটি জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে বৈভবে, সমৃদ্ধিতে স্বাবলম্বী করে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠা দিয়ে, বিপুল কর্মমুখর একটি পূর্ণ জীবনের পরিক্রমা শেষে অমৃতপথযাত্রী হয়েছিলেন তিনি। বাইশে…

ক্রীড়নক
“তাঁরে জেনে তাঁর পানে চাহি, মৃত্যুরে লঙ্ঘিতে পারো, অন্য পথ নাহি।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য, মৃত্যু। তাকে অতিক্রম করে যুগে যুগে দেশে দেশে, হাসিমুখে বিপ্লবীরা নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করে, হয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়ী। “আপনি মারছেন কেন? গুলি করুন।” “এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আপনারাই এখানে বহিরাগত, আপনারা চলে যান।” পুলিশের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের এমন আরও অনেক সদর্প…

দিনান্তবেলায় শেষের ফসল…
পাহাড়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের প্রেম তো সেই ছোটোবেলা থেকেই । তাই পাহাড় খুব টানতো তাঁকে। আর মংপু ছিল রবীন্দ্রনাথের খুব প্রিয় পাহাড়ি জায়গা। সেখানে তাঁর স্নেহের মৈত্রেয়ীর বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করছেন এইবার নিয়ে চতুর্থবার। ১৯৪০শের ৫ই মে তারিখে সেখানে একটি ছোটো উৎসবের আয়োজন করা হল। রবীন্দ্রনাথের আশি-তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান। জন্মদিন দুদিন আগেই সেরে নেওয়ার কারন, দু’এক…

পরানের সাথে খেলিব আজিকে-১
মৃত্যুরাখালের গর্বের শেষ নেই। যে জীবন নিয়ে মানুষের এতো অহমিকা, স্বজন-পরিজন সংসারের তৃপ্ত আবহ, অর্থ-কীর্তি-সচ্ছলতার উত্তুঙ্গ মিনার, তা’কে এক ফুঁয়ে সে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। তার সামনে নত হয়ে থাকে রাজার রাজা, ভিখারির ভিখারি, সম্মান-অসম্মানের ভিতে গড়া অনন্ত নক্ষত্রবীথি, পাবকের পবিত্র অগ্নি থেকে মৃত্যুরাখাল কাউকে রেহাই দেয়না। সে তো ভাবতেই পারেনা একটা রক্তমাংসের মানুষ সদানন্দ…

বাইশে শ্রাবণের কবিতা
তোমার সুরে আকাশজুড়ে ঘন আড়ম্বর মেঘ ডাকছে যেন যুগান্তরে … তামসী-নীল সমুদ্র মুখর গীতবিতানে বৃষ্টি ভেঙে পড়ে। বৃষ্টি পড়ে সে কোন শ্রাবণের স্মৃতিতে বাজে তোমার মল্লার, সে সুর যেন স্বপ্ন নির্জনে নিষাদ ছোঁয়া নীরব হাহাকার। প্রমত্ততা স্বেচ্ছাচারী মেঘে তোমার সুরে তখন উঠি জেগে , মেঘের পরে মেঘ ঘনিয়ে আসে প্রলয় মাতে ভরা সর্বনাশে। বজ্রপাতে মেঘের…

তারাশঙ্কর – এক আকাশ তারার আলো
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, নিজের আলোয় নিজেই পরিচিত ও সুখ্যাত। কথাসাহিত্যে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পর খ্যাতির চূড়ায় তাঁর অনায়াস আরোহন……যে কোনো সাহিত্যপ্রিয় বাঙালির মনে তাঁর অনিবার্য উপস্থিতি, ভাবনায় তাঁর স্বছন্দ বিচরণ। তাঁর সাহিত্য প্রতিভার সম্যক ও সামগ্ৰিক মূল্যায়ন বেশ কঠিন কাজ, সে কাজ এখনও যে সম্পূর্ণ হয়েছে তা নয়। আমার মতো আনাড়ির…

হনন মুহূর্ত
বাইরে বৃষ্টির শব্দ হলেই সুমন্ত্র চোখ বুজে তার আওয়াজ শোনে। মনে হয় উস্তাদ আলি আকবর খানের সেতারে দেশ রাগ বাজছে। সুরের ভিতর সে যেন বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার শব্দ আলাদা করে শুনতে পায়। জলপাইগুড়ির কলেজে চাকরি নিয়ে এসে সে ফারাকটা আরও ভালো করে বুঝেছে। কলকাতার বৃষ্টির মধ্যে যেমন একটা ছাপোষা গৃহস্থের বিরক্তি আছে, এখানে বৃষ্টি তা…

আরব সাগর তীরের সাহিত্য বাসরে সুনীল, সন্তোষকুমার, সমরেশ এবং শরৎচন্দ্র
বিস্মৃতিচারণা (পাঁচ) সালটা ১৯৭৬। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শতবর্ষ পূরণের উদযাপন উপলক্ষ্যে সুদূর বোম্বাইতে বসেছে বাংলা সাহিত্যের তিন দিন ব্যাপী রাজসূয় সাহিত্য বাসর। তখনও বাণিজ্য নগরী দেশী নামকরণে মুম্বাই হয়ে যায়নি আর বঙ্গ সাহিত্যেরও এমন নক্ষত্রবিহীন ম্যাড়ম্যাড়ে দুর্দশাগ্রস্ত হালচাল হয়নি। প্রখ্যাত ‘দেশ’ সম্পাদক সাগরময় ঘোষের কণিষ্ঠ ভ্রাতা স্বনামধন্য প্রবাসী সাংবাদিক সলিল ঘোষের আহ্বানে…

‘রাঢ় বঙ্গের কবি’ পৌঁছলেন একশ’ পঁচিশে
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ। রবীন্দ্রনাথ ত্রিশের কোঠা না-পেরোনো বাংলা সাহিত্যের উজ্বল জ্যোতিষ্ক হিসেবে চিহ্নিত। ‘মানসী’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’ ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ ইতিমধ্যেই তাঁকে তরুণ কবি হিসেবে খ্যাতি এনে দিয়েছে; তখনো পর্যন্ত তাঁর দুটি মাত্র উপন্যাস ‘বৌ ঠাকুরাণীর হাট’ ও ‘রাজর্ষি’ প্রকাশিত। সদ্য বিশোর্ধ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তখনও ভাগ্যান্বেষণে ভ্রাম্যমাণ, সেভাবে লেখনী ধারণ করেননি। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বছর পাঁচেকের…
