Author: Editor

ব্রাত্যজন
শ্রী দেবব্রত বিশ্বাস, চিরঞ্জীবেষু সেদিন মৃত্যু কণ্ঠ রুদ্ধ গানের ভিতর,বরফের মতো ধ্বনিহীন নীল অভিমানী স্বর,ভিতরে ভিতরে স্তব্ধ গানের স্থির কল্লোলতার ছিঁড়ে যাওয়া যেন তানপুরা শূন্য অতল। ব্রাত্যজনের রুদ্ধ তখন রবীন্দ্রনাথ,মৌন খসিয়ে নেমে আসছিল অনন্ত রাত। এই স্তব্ধতা ক্ষান্ত বজ্র-মেঘ গর্জনে,ভাটিয়ালি সুর ভাঁটার টানেতে দূর থেকে দূরে,বৃষ্টিক্লান্ত মেঘ ভাঙা জল নীলাঞ্জনের,জল তার গানে রেশ রেখে যায়…

বিলীন হওয়ার আগে
সুস্বাস্থ্য ধানের মতো আমাদের জীবনগুলোআরো বেশি সোনালি হতে পারতো।শুকনো নদী পেতে পারতো আরেকটু জল,আকাশ হতে পারতো আর একটু নীল।রুদ্ধ দরজাগুলোতে মাঝে মাঝে শুনিঝোড়ো হাওয়ার অভিঘাত!অথচ ভয়ের মুখোশ পরে বসে আছি।মাঝিভাই নৌকা ভিড়াও-কূলে কূলে ভেসে থাকার বিলাসিতা আর নয়,চলে যাব মাঝদরিয়ায়।দুরন্ত ঢেউয়ের ঝুঁটি চেপে ধরবশিশুর মতো হেসে হেসেবিলীন হয়ে যাওয়ার আগেসমুদ্র-দানোকে শান্ত করার স্পর্ধা দেখিয়েমিশে যাওয়া…

রবীন্দ্রসঙ্গীত
আগরপাড়ার প্রভাসতীর্থের সভাঘরে ২২ মে ২০২২ তারিখে আয়োজিত রবিচক্রের রবীন্দ্র-স্মরণ সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথের গানে শ্রীমতী মিতা কুন্ডু ও শ্রী দ্বৈপায়ন গোস্বামী। [শিল্পীর অন্যান্য অনুষ্ঠান]

‘ন্যায়দন্ড’
রাজপ্রাসাদের হর্ষ উল্লাস থমকে গেল, যে মুহূর্তে দুর্যোধন, সদ্য দাসীতে রূপান্তরিত হয়ে যাওয়া রাজকুলবধূ দ্রৌপদীকে, সর্বসমক্ষে হাজির করার হুকুম জারি করলেন। একটু আগেও পাশাখেলা নিয়ে সভাঘরে তুমুল উত্তেজনা ঘিরে ছিল। একটা করে দান পড়ছে আর যুধিষ্ঠির একে একে হারাচ্ছেন, তার ঐশ্বর্য। কৌরবপক্ষের সমস্ত সমর্থক এই আদেশ-এ যেন স্তম্ভিত হয়ে যায়। অবশেষে দুঃশাসন দ্বারা সেই তুলনারহিত…

“এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম…”
সুখ কি তাহলে সোনার হরিণ, যার পিছে দৌড়ে মরি? প্রেম কি মিছে? ভালোবাসা কি ছলনা? আমরা কি চাই? কারে চাই? আমরা যাহা চাই ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না। তাই কি এত অশান্তি? এত হায় হায়, মান অভিমান, চোখের জল?কবি যাই বলুন, আমরা সাধারন মানুষ, প্রেম ভালোবাসা, মায়া-মোহের বিচিত্র এই ইন্দ্রজাল আমাদের কাছে…

বিয়ের পদ্য – বাঙালির একটি অবলুপ্ত রীতি
বাঙালিয়ানার অবক্ষয় বা ক্রমাবলুপ্তির প্রকৃত কারণটি কি বাহিরের নয়, আমাদের অন্তরের? প্রশ্ন তুলেছেন লেখক।

দুখিরামের অবাক পৃথিবী দর্শন
कुछ कफस की तिलियों से छन रहा है नूर सा,कुछ फ़ैज़ा कुछ हसरत-ए-परवाज़ की बातें करो। — फ़िराक़ गोरखपुरी কটা গরাদ, মধ্যে দিয়ে চুইয়ে আসে আলো,মুক্ত আকাশ, আর কিছুটা ওড়ার কথা বলো। দুখিরাম তার নাতি ক্ষুদ্র জীবনে দু/একবার জেলে/লক আপে গিয়েছে।এবার একটি স্বাভাবিক হিরণ্ময় নীরবতা। চলচ্চিত্রের ভাষায় একে freez shot-ও বলা যেতে পারে।ক্যামেরা গড়ালে পরে…

উত্তমকুমার সমীপে
সত্তরের দশকের প্রায় মধ্যভাগ। তখনও কলেজের গন্ডী পেরোইনি। একদিকে উত্তমকুমার, অন্যদিকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে চলেছেন। বাকি সব মহীরুহসম শিল্পীদের কুর্নিশ করেও বলি, এক বিরাট সংখ্যক বাঙালির মতো এই দুজনকে নিয়ে আমাদের আবেগের আতিশয্য ছিল বেশি। তা, হেমন্তবাবুকে দেখা, একাধিক বার তাঁর গান শোনা, হয়ে গেছে। কিন্ত মহানায়কের সাক্ষাৎ দর্শন? তার সুলুক সন্ধান তখনও…

বাপ
গাছের ডালে দোলনা টাঙিয়ে দোল দিচ্ছে সদ্যজাত শিশুটিকে নয়না l আর একটি হনুমান ছানার মত তার বুকের কাছে লেপ্টে রয়েছে l রাস্তায় ঘর সংসার নয়নার l এর মধ্যেই সে একটা পথের হোটেল চালায় l পথের হোটেল মানে লজঝরে টেবিল, ঝজ্ঝরে চেয়ার, প্যাকিং বাক্স কেটে তৈরী l বসতে গেলে যদি পেরেক ফুটে যায় তাই রেক্সিন বিছানো…

