শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Robichakro

  • হন্যমান স্বদেশ ও একজন কবি

    হন্যমান স্বদেশ ও একজন কবি

    ঊনিশশো পঁচাত্তর সালে প্রথম হরমন্দির সাহিব পরিসরের একপাশে প্রায় লুকিয়ে থাকা জালিয়াঁওয়ালাবাগের ভাঙাচোরা গলিতে পা রেখেছিলুম। ভিতরে কোটা’র লালপাথরের অমরজ্যোতি ছাড়া আর কোনও নির্মাণ ছিলো না। সামান্য কেয়ারি করা কিছু তৃণভূমি, নিস্তব্ধ পদচারণায় অন্যমনস্ক কিছু মানুষ। অন্যপ্রান্তে একটি শুকিয়ে যাওয়া কুঁয়োর উপর ধূসর ছত্রির আচ্ছাদন। পর পর জীর্ণ দেওয়াল জোড়া অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন। থ্রি নট থ্রি…

  • গায়ক রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সংরক্ষিত কন্ঠ

    গায়ক রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সংরক্ষিত কন্ঠ

    আমাদের একটি দুঃখ কোনোদিন যাবেনা, যে দাপুটে কণ্ঠে ১৮৯৬ খৃস্টাব্দে বিডন স্কোয়ারে কংগ্রেসের অধিবেশনে যুবক রবীন্দ্রনাথ বিনা মাইক্রোফোনে শুধু জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিয়ানো বাদনের সঙ্গে ‘বন্দে-মাতরম’ গানটি গেয়ে প্রায় দশহাজার দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ এবংউদ্দীপ্ত করেছিলেন, সেই কন্ঠটিকে কোনো প্রযুক্তি দিয়ে ধরে রাখা যায় নি।কিম্বা ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে যে কণ্ঠের গান শুনে ’রবিরশ্মি’ বইয়ের লেখক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সভা…

  • আমি, আমরা আর রবীন্দ্রনাথ

    আমি, আমরা আর রবীন্দ্রনাথ

    এই লেখার কেন্দ্রে চার সদস্য রয়েছে – আমি, আমরা, তুমি এবং রবীন্দ্রনাথ। বাজার ছাড়া সমাজের সর্বত্র, এমনকি এই পত্রিকাতেও এই চার চরিত্র হাত ধরাধরি করেই আছে। বাজারে অবশ্য কেউ কারুর নয়। চলুন, ঢুকে পড়া যাক এই চার সদস্যের মাঝখানে। শুরুতে যে কথাটা ব’লে নেওয়া ভালো, তা হলো, ব্যক্তি যেমন নিজের ‘আমি’কে খুঁজছে প্রতি মুহুর্তে, তেমনি…

  • রবীন্দ্রনাথের ব্যতিক্রমী দুটি গ্রীষ্মসঙ্গীত

    রবীন্দ্রনাথের ব্যতিক্রমী দুটি গ্রীষ্মসঙ্গীত

    গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে আলোচনার জন্য বেছে নিলাম দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত।রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি পর্যায়ের ২৮৩ গানের মধ্যে গ্রীষ্ম উপপর্যায়ের গানের সংখ্যা মাত্র ১৬। যেখানে বর্ষাসঙ্গীত ও বসন্তসঙ্গীতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১৪ ও ৯৬। রবীন্দ্রনাথ গ্রীষ্মের গান লিখতে শুরু করেন ৫৮ বছর বয়স থেকে।রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে গ্রীষ্মঋতুকে প্রত্যক্ষ করেছেন মূলত দুটি দৃষ্টিকোন থেকে। কখনও কখনও গ্রীষ্মকে তিনি অনুভব…

  • রক্তকরবীর খোঁজে

    রক্তকরবীর খোঁজে

    তার কলস্বর শুনতে পাই রোজ —বুকের মধ্যে ছোট যে নদী, তিরতিরেবয়ে যায় পঙ্‌ক্তির ভিতর দিয়ে।সে নদীখাত দিয়ে বয়ে গেছে কত কত জলআশৈশব, শ্লেট-পেন্সিল, ছেঁড়া হাফপ্যান্ট। বালি নিয়ে খেলতে খেলতে কখনফুটে উঠেছি কাশের বনে,চন্দ্রাহত জ্যোৎস্নায়।শিখে নিয়েছি,রূপে নয় ভালোবাসায় ভোলানোরমন্ত্রলিপি, তোমার গানআনন্দ-বেদনায়, ভাঙনে নির্মাণে। আজ, এই প্রতারক সময়েজমে উঠেছে যখন চারিদিকে আবর্জনার স্তূপ,মরে বেঁচে থাকা এই রুদ্ধ…

  • ক্ষমা কোরো, কবি

    ক্ষমা কোরো, কবি

    কি আশ্চর্য!কখনোই হারিয়ে যাও না।একশো চৌষট্টি বৈশাখ পার করেএখনো ফিরে ফিরে আসোপঁচিশের ভোরে, গলির মোড়ে,কৃষ্ণচূড়ার আঁচে, সেঁকে দাওস্যাঁতলা নন্দিন পদাবলীআমাদের।ঝড়ে, বৃষ্টিতে, বজ্রপাতেবাঁচার তাগিদে মিথ্যাপাতেকখনোই ভেঙে পড়ো না।তিরাশি শ্রাবন পার করেএখনো ফিরে ফিরে আসোহাঁটু জলে, বাইশের মেঘের ঢলে,বাড়ি ফিরে কৃষ্ণকলিযেখানে বাসন মেজে চলে।কবিতায়, গানেতর্ক, বিতর্কের দর্পবাণেতোমায় ছুঁতে চেয়েছি কতবার।অল্প থেকে অল্পতর হয়েশুধু লজ্জা পেয়েছি প্রতিবার।আজ মুখ…

  • “ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা…

    “ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা…

    ছুটি হইয়াছে। সারাদিনের বৈচিত্র্য বিহীন কাজের উপান্তে পুরুষটি নিজ স্থান হইতে বাটির উদ্দেশে বাহির হইল। শরীরে এখনও নিরাপত্তা রক্ষীর বেশ। এক নিমেষ দেখিলে নিতান্তই বেমানান প্রতীয়মান হয়। তথাপি তাহার আনন্দে কৃপণতা নাই। সঙ্গে থাকা পানীয় জলের বোতলটি বাজাইতে বাজাইতে চলিয়াছে। প্রকান্ড শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিপণি ক্ষেত্রটির শেষ প্রান্তে পোশাক পরিবর্তনের স্থান। বর্তমানে কর্তব্যরত প্রহরী সদ্য মুক্ত…

  • স্বর্ণযুগের বেতার নাটক

    স্বর্ণযুগের বেতার নাটক

    ‘আকাশবাণী কলকাতা। আজকের নাটক…।’ এটুকু শোনার পরই বাংলার শহর ও গ্রামে লক্ষ লক্ষ রেডিওর সামনে অজস্র শ্রোতা নড়েচড়ে বসতেন। শুক্রবার রাত আটটায় সেই নাটক সম্প্রচারিত হতো। গ্রামের চায়ের দোকানে কিংবা চণ্ডীমণ্ডপে অথবা বাড়ির দালানে রেডিওর সামনে শ্রোতারা নাটক শোনার জন্য থাকতেন অধীর প্রতীক্ষায়। শহরেও একই চিত্র। বড়লোকের ড্রয়িংরুমে কিংবা বারো ঘর এক উঠোনের বাড়ির ছাদে…

  • অ-কাব্যিক

    অ-কাব্যিক

    আপনি শান্তিনিকেতনের ছাত্র হয়ে এসব বলছেন? কিন্তু রবীন্দ্রনাথের আশাবাদের উপর নির্ভর করেই যে আমরা এগিয়ে চলেছি! “যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর গীতাঞ্জলির মূর্তিকে অনায়াসে দলে দিয়ে চলে যান, আত্মদেবায়নের গরিমা ভেঙেচুরে মানুষের অবচেতন অস্তিত্বের ছবি আঁকেন, সে-রবীন্দ্রনাথই বরং আমায় বেশি টানে “। এই প্রজ্ঞাময় উচ্চারণ পাঁচের দশকের যে কবির, তিনিই তো অনায়াসে একসময়ে অকপট বলে উঠবেন,” রবীন্দ্রনাথের…

  • রম‍্যাণি বীক্ষ‍্য

    রম‍্যাণি বীক্ষ‍্য

    দুখিরাম এই সদ্য সাড়ে তিনশো খানেক “পাত্র পাত্রী চাই” বিজ্ঞাপন পড়ে উঠল। এটি তাঁর অবসর কালীন রবিবাসরীয় যাপন। বাংলা ভাষা শেখা ইস্তক যে বহুল প্রচারিত ঢক্কা নিনাদ সংবাদ পত্রটি – সে রোজ দাঁতে কাটে, তাতেই প্রতি রবিবার আলাদা কয়েকটি পাতা সংযোজিত হয়। সেখানে পুত্র গৌরবান্বিত আর কন্যা দায়গ্রস্ত মা বাবারা আইন মাফিক স্বজন সন্ধানে ইস্তাহার…