শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Poetry

  • যুগপুরুষ

    যুগপুরুষ

    “Vivekananda’s words are great music, phrases in the style of Beethoven, stirring rhythms like the march of Handel choruses.” – Romain Rolland স্বামী বিবেকানন্দ আগ্নেয় লাভা হৃদয়ে ধরেছ তুমিচোখ থেকে নামে গেরুয়া মন্দাকিনী,আজও হাত রাখো যেখানে জন্মভূমিস্থবিরতা ছুঁয়ে পড়ে আছে দুঃখিনী। তোমার ভিতরে তানপুরা হাতে দেশঅপমানিতের কান্নার মীড় বোনে ,দীপকে জ্বালায় ক্রোধ-বহ্নির রেশশব্দে শব্দে বিপ্লব…

  • বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৫)

    বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৫)

    চল্লিশের দশক বাংলায় আগত যখনআরো কিছু কথা তার শুন সভাজন।।শিক্ষায় নবীন নেতার হইল অভ্যুদয়–কর্মক্ষেত্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।।উপাচার্য পদে যাঁর বিশাল অবদান,শ্যামাপ্রসাদ, আশুতোষের তিনি সুসন্তান।। বিশ্ববিদ্যাচর্চাকেন্দ্র করিতে স্থাপননব নব বিভাগের করিলেন পত্তন —ফলিত পদার্থবিদ্যা ও তথ্যপ্রযুক্তিচৈনিক, তিব্বতীয় ভাষা, ইসলামিক সংস্কৃতি।।প্রতিষ্ঠা লভিলেন এবার বঙ্গসরস্বতী —বাংলায় গবেষণাপত্র পেল অনুমতি।।শ্যামাপ্রসাদ রবীন্দ্রনাথকে জানান আহ্বানবাংলায় দীক্ষান্ত ভাষণ করিতে প্রদান।।এ ছাড়াও শ্যামাপ্রসাদ নিলেন…

  • লিমেরিক

    লিমেরিক

    রসাত্মক খেউড় থেকে রূপান্তরের গল্প এবংএক ডজন লিমেরিক লিমেরিক বলা যেতে পারে একধরণের চুটকি ছড়া মুখ্যত হাস্য এবং ব্যঙ্গরসাত্মক। পাঁচটি লাইনে গড়া এই পঞ্চপদীর প্রথম , দ্বিতীয় এবং পঞ্চম লাইনে একই অন্তমিল এবং তৃতীয় ও চতুর্থ লাইনে আলাদা অন্তমিল এবং তারা আকারে এবং মাত্রায় কিছুটা ছোট। অর্থাৎ মিলের বিন্যাস ক ক খ খ ক ।…

  • বঙ্গজীবনের পাঁচালী : চোদ্দ শতক (৪)

    বঙ্গজীবনের পাঁচালী : চোদ্দ শতক (৪)

    বিশের দশকের এক নতুন বিস্ময় –পর্দায় মানুষ নাচে, করে অভিনয় ।।বিনোদনে ছায়াছবি নবীন মাধ্যম,কত গুণী নট ও স্রষ্টা ঢালি নিজ শ্রমগড়িল এ তিলোত্তমা শিল্প-সুষমায়,সকলের উল্লেখের নাহিকো উপায়।।শতকের প্রথমেই সিনেমার আগমন,ছায়াছবি বাণীহীন ছিল যে তখন।।সে যুগেও নির্দেশনা, পরিবেশনায়বাঙালি কৃতীর দান লক্ষ করা যায়।। ধীরেন্দ্রনাথ, হীরালাল আর বীরেন সরকার,হিমাংশু রায় আদি নাম কত বলি আর ।।তিরিশের দশকে…

  • প্রতিবেশী

    প্রতিবেশী

    মানুষই মানুষ মারে মানুষের মতোমানুষই পুড়িয়ে দেয় মানুষের ঘর,যেখানে অনেক লোক ভয়ে অনুগতসেখানে যায়না পাওয়া জীবন্ত স্বর। যেখানে সকল লোক হুজুগ-বিলাসীমতের অমিল হ’লে নেভাবেই শ্বাস,সেখানে সুস্থ কোনো ছাত্র বা চাষীতাকিয়ে বুঝতে পারে মিথ্যে আকাশ। যেখানে ধর্ম মানে তুমি-আমি আঁকাপথের বিভেদ হ’লে সজোরে আঘাতসেখানে কীসের এত উল্লাসে থাকা!প্রতিমা মুণ্ডুহীন—নেমে আসে রাত। যেখানে হিন্দু কবি হয়ে ওঠে…

  • নবজাতক

    নবজাতক

    বৃষ্টির অ্যাবস্ট্র্যাক্ট প্রচ্ছদ ছিঁড়ে জেগে উঠছো তুমি,মেঘের কিনারে ঝুলে থাকে ক্ষুধানিবৃত্তির আলো,সেই দীপ্তি যেন অনিবার চৈতন্য মন্থনের।সমস্ত দুর্বিপাকের মধ্য থেকে কীভাবেটেনে আনো নতুন পথের দিশা!ফিউশনে জেগে ওঠে অনন্ত পরমাণুর মহিমা,ভিজে মাটির ভিতরে সতেজ ভ্রুণের ঘ্রাণেমাতৃত্বের নিমগ্ন প্রত্যাশার আনন্দ!অভিসন্ধির বিবর্ণ আগাছার বাড়বাড়ন্ত-এগিয়ে চলতে গেলে পায়ে জড়ায়অবাঞ্ছিত গুল্মলতা! মনে হয় কোনও হনন মুহূর্ত এসেনীল মৃত্যুর মতো জড়িয়ে…

  • একগুচ্ছ হাইকু

    একগুচ্ছ হাইকু

    [জাপানি হাইকু-র ছন্দ, অক্ষর মেনে চলে না, চলে দল বেঁধে অর্থাৎ syllabic। তিনটি পঙক্তিতে বিন্যস্ত:প্রথম পঙক্তিতে ৫টি দল , ২য় তে ৭টি দল,৩য় পঙক্তিতে ৫টি দল , মোট ১৭টি দল থাকে । সেই অর্থে হাইকুকে বাংলায় দলবৃত্ত ছন্দও বলা যেতে পারে যদিও অধিকাংশ হাইকু লেখক নিজের নিজের মর্জি অনুযায়ী লেখেন।] [A Japanese poem of seventeen…

  • বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (১)

    বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (১)

    [এটি বাঙালির একশো বছরের অর্থাৎ বঙ্গাব্দের চতুর্দশ শতকের ইতিহাসের একটি ধারাবিবরণী। গ্রামীন কথকতার আসরে যেভাবে সাধারণত পাঁচালি গান পরিবেশিত হয়, এটি তার উপযোগী করে রচনা করা হয়েছিল এই শতকের শুরুতে। পাঁচালির মাঝে মাঝে যাতে বিশিষ্ট রচয়িতাদের কবিতা বা গান সংযোজন করা যায়, তার দিকে লক্ষ রেখেই পাদটীকায় বিভিন্ন গানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঠ্য রচনা…

  • ফাঁদ

    ফাঁদ

    ১ মাস্টারমশাই শিখিয়েছিলেন কীভাবে ভয় পেতে হয়মা বাবা বাড়ির বড়োরাও সকাল বিকেল সন্ধ্যা পাখিপড়া করে মুখস্থ করিয়েছিলেন ভয় পাওয়ার ইতিবাচক ফলাফল…. পাশের বাড়ির অকেজো লোকটা জীবন দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিল ভয় না পেলে সমাজ সংসার কীভাবে তলিয়ে যায় স্পর্ধার আকাশে…… প্রত্যেকটা বস সদর্পে ঘোষণা করেছে,“ভয়, না পেলে বেরিয়ে যাও।” ভয় পেতে পেতে কবেই হারিয়ে ফেলেছি ভাষা…

  • বিলীন হওয়ার আগে

    বিলীন হওয়ার আগে

    সুস্বাস্থ্য ধানের মতো আমাদের জীবনগুলোআরো বেশি সোনালি হতে পারতো।শুকনো নদী পেতে পারতো আরেকটু জল,আকাশ হতে পারতো আর একটু নীল।রুদ্ধ দরজাগুলোতে মাঝে মাঝে শুনিঝোড়ো হাওয়ার অভিঘাত!অথচ ভয়ের মুখোশ পরে বসে আছি।মাঝিভাই নৌকা ভিড়াও-কূলে কূলে ভেসে থাকার বিলাসিতা আর নয়,চলে যাব মাঝদরিয়ায়।দুরন্ত ঢেউয়ের ঝুঁটি চেপে ধরবশিশুর মতো হেসে হেসেবিলীন হয়ে যাওয়ার আগেসমুদ্র-দানোকে শান্ত করার স্পর্ধা দেখিয়েমিশে যাওয়া…