শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Poetry

  • দুই কবি ও এক তরুণ গায়ক

    দুই কবি ও এক তরুণ গায়ক

    প্রভাসতীর্থে এলেন দুই কবি। একজন প্রবীণ, অপরজন নবীন। প্রবীণ পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, নবীন কবি জয় গোস্বামী। অনুষ্ঠানটির শিরোনামও ছিল “দুই কবি”।

  • কীট-দষ্ট ফুল

    কীট-দষ্ট ফুল

    মৌন পাহাড়ের পাশে সাজিয়ে রাখি শান্ত নদীটিকে।মন্ত্রের মতো ভোর,শান্ত অবগাহনপায়ে পায়ে মখমলি সবুজ, আরআকাশে গভীর সমুদ্রের নীল। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা নয়,কাশ্মীর ফেরি করে এ স্বপ্ন, স্বপ্নের মতো ছবি। মনে পড়ে,পহেলগাঁওয়ের ইয়াসিনকে,নিজের খাবার থেকে এক টুকরো ‘গিরদা’ হাতে দিয়ে বলেছিল,‘মেহেমাননওয়াজি’ কাকে বলে জানে ওরাবলেছিল,‘আল্লাহ সবার,সন্ত্রাস নয়’।ফিরানের ভেতর কাংড়ির কাঠকয়লার ব্যথাতুর আগুনদেখেছিলাম ওর চোখে। সামনে লিডার।পশ্চিম আকাশে সূর্য…

  • স্বাধীনতা

    স্বাধীনতা

    ১স্বাধীনতা ছাড়া এতসুখ পেতাম কোথায় ? ধ’রে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবনতুবা মেরে হিন্দুস্থান ‘তোর বাপের দেশে গিয়ে কথা বলরাতদুপুরে সবুজ আলো, ‘মাইরি বলছি, এক্কেবারে ডাঁশা। খুলে ফেলো দেখি তালা’।গাছের ডালে ডালে ঢিল বেঁধে টাঙিয়ে দিয়েছি ইচ্ছে গুলো। “জয় শ্রীরাম অথবা আল্লাহ আকবর” – সব দোষ ওই লালমুখোদের … ফাটাও গলা। “সারে জাঁহাসে আচ্ছা”। হা হা, স্বাধীনতা…

  • স্বরাজ-যাপন

    স্বরাজ-যাপন

    গিন্নি তুমি পালিয়ে কোথায় গেলে,জানো না, আজ বিশেষ প্রিয় দিন?জমিয়ে কড়া চা-টা বানাও ভোরেজানো তো, আজ হয়েছি স্বাধীন? বিশাল ভিড়ে লাইনে ঘেমে নেয়েঅনেক কষ্টে মাংস পেলাম আজ,কষিয়ে রাঁধো, ফাটিয়ে লঙ্কা দিয়েজানো তো আজ পেয়েছি স্বরাজ? সাতটা মঞ্চে ভাষণ দিয়ে ফিরেঘরেই দেখি, পতাকা তোলা বাকি,আরে ছাড়ো, পাবলিক কী বোঝে..তারা জানে, দিলাম কেমন ফাঁকি? সকালবেলায় প্রভাতফেরীর হাঁটা,ফিরেই…

  • চলিয়াছি গৃহপানে…

    চলিয়াছি গৃহপানে…

    [২৫ জুলাই , ১৯৪১ সাল। দিনটি শুক্রবার। সাতসকালেই আশ্রমবাসীরা সমবেত কণ্ঠে এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’ গাইতে গাইতে রবীন্দ্রনাথকে অর্ঘ্য অর্পণ করল। শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলেছেন কবি। আর কোনদিন ফিরবেন না , বোধ হয় বুঝতে পেরেছেন তিনি। যাওয়ার আগে মোটরগাড়িতে চেপে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সবার সঙ্গে দেখা করলেন, গাড়িতে করেই গোটা আশ্রম ঘোরানো হলো…

  • প্রাণধারা

    প্রাণধারা

    অমলের করুণ মুখ আরো বেশি শুকনো দেখায়।পাঁচমুড়া পাহাড়ের ঠিকানা সে কবেই গেছে জেনে;প্রেমহীন মানুষের অত্যাচারেকত যে শামলী নদী শুকিয়েছে এক শতাব্দীতে।সুধাও আসে না নিয়ে কুসুমের সাজিখানি তার। অরণ্যের শ্যামছায়া সরে গেছে আরো কত দূরে।অনাবৃত পথেঘাটেপথ হাঁটে যেই সব অসংখ্য মানুষঅশান্ত ও যান্ত্রিক- তাদের এখনবিরহমিলন নেই, সুখদুঃখ স্পষ্ট নয় আর।অভাবিত বিলাস ও বাসনার পাশে –স্থবির মাছিরা…

  • নাগরিক বৃষ্টি

    নাগরিক বৃষ্টি

    এখানে বৃষ্টি আদরে সোহাগে আবেগে-আবেশে, রাগে-অনুরাগে মাটিরে রাখে না ধরে। বাজিয়ে নূপুর টইটম্বুর দীঘির জলে, আপন ছন্দে আপনি বিভোর – আনমনা সেই বরষা কিশোরী শালুকের সাথে খেলে না এখানে, সারসের সাথে মেলে না ডানা। এখানে মগন শিল্পী বরষা খেলে না রঙের খেলা, জলরঙা ছবি আঁকে না সে আর দিগন্ত জোড়া ক্যানভাসে তার; বিদায় নিয়েছে মেঘমল্লার,…

  • বৃষ্টি

    বৃষ্টি

    অসময়ের ঝিরঝিরে বৃষ্টি কাজ বাড়িয়ে দেয় কতো! যে স্মৃতিগুলো যত্ন করে সময়ের রোদে শুকোতে দেওয়া ছিল – ব্যস্ত পায়ে তাদের তুলে আনা, আবার মনের জানালাগুলোও তাড়াহুড়ো করে বন্ধ করা দরকার, নয়তো বৃষ্টির ছাঁটে যে ভিজবে পুরো মনটাই– কি করে শুকোবো তাকে? এমনকি স্মৃতির নাড়াচাড়ায় মিহি এলাচ পোড়ার গন্ধ পাই এখনও… একদিন বলেছিলে… হাঁটবো হাত ধরে…

  • মৃন্ময়ীকে

    মৃন্ময়ীকে

    কত কিছু বলতে ইচ্ছে করে পারি না, থেমে যাই থমকে দাঁড়াই দাঁড়িয়ে টোকা মারি দরজায় দরজায় কেউ খোলে না খুললেই দেশদ্রোহী দূর থেকে নজর রাখে ড্রোন কমেন্ট সেকশনে ঘৃণার আগুনে পুড়তে পুড়তে এই কঙ্কালসার ছিবড়ে প্রেমটুকুও শিকার হয় শ্লীলতাহানির প্রত্যেকেই ঘৃণার কথা শুনতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই একটা বড়োসড়ো যুদ্ধের যোদ্ধা হতে চেয়েছিল প্রত্যেকেই চেয়েছিল দ্রোহের আগুনে…

  • আমাদের লুপ্ত সব বোধ

    আমাদের লুপ্ত সব বোধ

    তোমারকরতলে রাখি হীরণ্যগর্ভ মাটি,প্রসবিনী হও —দয়াবান মেঘ আর উন্মুখ সূর্যের প্রসন্নতা নিয়ে। এখানে করোটির ভিতর অদ্ভুত লিখনথেমে আছে,পূণ্যশ্লোক অসমাপ্ত — জাগাও আমাদের লুপ্ত সব বোধমেধার ভিতর জন্মদাগ রেখে যায়।খুঁজেছি তাকে,খুঁজেই চলেছিস্তব্ধতার পাশে জাগিয়ে রেখেছি এই চোখএকাকী — এখনও দেখিনি তাকেআমার ভিতরপ্রতিদিন যে শুধু আমাকেই লেখে !তার সে ছায়া মুখব্রহ্মান্ড জলে ভেসে যায়। উৎকর্ণ আছিশব্দের অতীত…