Tag: Jibananda

বিপন্ন বিস্ময়
শব্দরাজি ছুটিয়া বেড়ায়। হৃদয়ে, শোনিতে, মজ্জায়, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে। তাহার নিস্তার নাই। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় সম্মোহিত পাঠকের অনুরূপ অবস্থা। কিয়ৎকাল ভাবনায় প্রতিভাত হইতে পারে, স্বাভাবিক জীবনে আগ্রহ হউক। এক্ষণে জ্ঞানলাভ আবশ্যিক হইয়া পড়ে, স্বাভাবিক বলিতে কী প্রতীয়মান হয়? আর পাঁচজন যেমন করিয়া বাঁচিয়া রহিয়াছেন, প্রত্যহ বাজার করিয়া, রান্না চড়াইয়া, সন্তানের জন্ম দিয়া, অতঃপর সন্তান প্রতিপালনহেতু কর্ম…

বিচ্ছিন্নতাবোধের চিত্রকর জীবনানন্দ
বাংলা আধুনিক কবিতার ইতিহাসে জীবনানন্দ দাশ এক অনন্য, স্বতন্ত্র এবং গভীরতম সৃষ্টিশীল প্রতিভা। রবীন্দ্রযুগের পর যে নতুন কাব্যভাষা, নতুন চেতনা এবং নতুন সংবেদনশীলতার সূচনা হয়েছিল, তার সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক জীবনানন্দ দাশ। তাঁকে প্রায়ই বলা হয় “নির্জনতার কবি”, “রূপসী বাংলার কবি”, কিংবা “রহস্যময়তার কবি”। কিন্তু তাঁর কাব্যচেতনাকে সবচেয়ে যথার্থভাবে ব্যাখ্যা করে যে অভিধা, তা হলো—তিনি বিচ্ছিন্নতাবোধের…

জীবনানন্দ
দ্রোহের আগুনে পুড়ছিল জীর্ণতা ,স্থবির আঁধার, স্বপ্ন, পুরাণ কথা,বিনির্মাণের তীব্র সে ঝঙ্কারশব্দে পয়ারে বেজেছিল বোধে তাঁর। ক্রমশ একাকী নিজেরই মুদ্রাদোষে ,নির্জনতার সেতার রক্তকোষে,ভাঙনের তীরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেনস্থির আঁধারের বুকে বনলতা সেন । ধানসিড়ি আজও পউষের জ্যোৎস্নায়,পৃথিবী প্রবীণ মিরুজিন নদীতীরে,তবুও রক্ত-রণ-উন্মাদনায়ঘুরে ঘুরে ফেরে আপন নষ্ট নীড়ে। হাজার বছর জোনাকির মতো জ্বলে,মহাপৃথিবীর মৃতদের কলরোলেনিহিত সত্য মৌন অন্ধকার –…

শব্দহীন জ্যোৎস্নার ভিতর
কবি জীবনানন্দ দাশ স্মরণে কার্তিকের জ্যোৎস্নার ভিতরে তিনি আজ। কুয়াশার বুকে বেজে চলেছে একটানা কোমল গান্ধার। এখন সন্ধে। অনেক বাদামি পাতা ঘাসের ভিতরে ক্লান্তিকে পাশে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে কোনোদিন ফিরবে না বলে তার নিজস্ব নির্মাণে। এই আলো অন্ধকারে তিনি এসে দাঁড়ালেন। আজ তিনি একান্তই নিজের সঙ্গে, একা। কী এক ইশারা মনে রেখে অনেক নিঃশব্দ কথোপকথনে…

বনলতা ও বিষমবাহু ত্রিভুজের গল্প – ২
অমৃতলালের বৈঠকখানায় বেতের সোফায় বসে মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকা কালো মানুষটি লাবণ্য-কে দেখেছিলেন। সত্যানন্দ দাশের পুত্রকে বিদেশে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য অর্থ লগ্নি করতে প্রস্তুত থাকা জনৈক সম্ভাব্য কন্যার পিতাকে নিরাশ করে জীবনানন্দ লাবণ্যকে বিবাহ করাই মনস্থ করেন। যেমন জানা যায়, লাবণ্য বিবাহ করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু জেঠামশাইয়ের আগ্রহে তিনি ১৯৩০ সালের ৯ই মে ঢাকার…
