শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Bengali Literature

  • তারাশঙ্কর – এক আকাশ তারার আলো

    তারাশঙ্কর – এক আকাশ তারার আলো

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, নিজের আলোয় নিজেই পরিচিত ও সুখ্যাত। কথাসাহিত্যে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পর খ্যাতির চূড়ায় তাঁর অনায়াস আরোহন……যে কোনো সাহিত্যপ্রিয় বাঙালির মনে তাঁর অনিবার্য উপস্থিতি, ভাবনায় তাঁর স্বছন্দ বিচরণ। তাঁর সাহিত্য প্রতিভার সম্যক ও সামগ্ৰিক মূল্যায়ন বেশ কঠিন কাজ, সে কাজ এখনও যে সম্পূর্ণ হয়েছে তা নয়। আমার মতো আনাড়ির…

  • হনন মুহূর্ত

    হনন মুহূর্ত

    বাইরে বৃষ্টির শব্দ হলেই সুমন্ত্র চোখ বুজে তার আওয়াজ শোনে। মনে হয় উস্তাদ আলি আকবর খানের সেতারে দেশ রাগ বাজছে। সুরের ভিতর সে যেন বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার শব্দ আলাদা করে শুনতে পায়। জলপাইগুড়ির কলেজে চাকরি নিয়ে এসে সে ফারাকটা আরও ভালো করে বুঝেছে। কলকাতার বৃষ্টির মধ্যে যেমন একটা ছাপোষা গৃহস্থের বিরক্তি আছে, এখানে বৃষ্টি তা…

  • আরব সাগর তীরের সাহিত্য বাসরে সুনীল, সন্তোষকুমার, সমরেশ এবং শরৎচন্দ্র

    আরব সাগর তীরের সাহিত্য বাসরে সুনীল, সন্তোষকুমার, সমরেশ এবং শরৎচন্দ্র

    বিস্মৃতিচারণা (পাঁচ) সালটা ১৯৭৬। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শতবর্ষ পূরণের উদযাপন উপলক্ষ্যে সুদূর বোম্বাইতে বসেছে বাংলা সাহিত্যের তিন দিন ব্যাপী রাজসূয় সাহিত্য বাসর। তখনও বাণিজ্য নগরী দেশী নামকরণে মুম্বাই হয়ে যায়নি আর বঙ্গ সাহিত্যেরও এমন নক্ষত্রবিহীন ম্যাড়ম্যাড়ে দুর্দশাগ্রস্ত হালচাল হয়নি। প্রখ্যাত ‘দেশ’ সম্পাদক সাগরময় ঘোষের কণিষ্ঠ ভ্রাতা স্বনামধন্য প্রবাসী সাংবাদিক সলিল ঘোষের আহ্বানে…

  • ‘রাঢ় বঙ্গের কবি’ পৌঁছলেন একশ’ পঁচিশে

    ‘রাঢ় বঙ্গের কবি’ পৌঁছলেন একশ’ পঁচিশে

    ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ। রবীন্দ্রনাথ ত্রিশের কোঠা না-পেরোনো বাংলা সাহিত্যের উজ্বল জ্যোতিষ্ক হিসেবে চিহ্নিত। ‘মানসী’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’ ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ ইতিমধ্যেই তাঁকে তরুণ কবি হিসেবে খ্যাতি এনে দিয়েছে; তখনো পর্যন্ত তাঁর দুটি মাত্র উপন্যাস ‘বৌ ঠাকুরাণীর হাট’ ও ‘রাজর্ষি’ প্রকাশিত। সদ্য বিশোর্ধ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তখনও ভাগ্যান্বেষণে ভ্রাম্যমাণ, সেভাবে লেখনী ধারণ করেননি। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বছর পাঁচেকের…

  • রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর (প্রথম পর্ব)

    রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর (প্রথম পর্ব)

    অনাদি কাল হতে মানুষের মনে ঈশ্বর ভাবনা বা ঈশ্বর চেতনা এক জটিল প্রপঞ্চের মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে। মানুষ ঈশ্বরের স্বরূপ সন্ধান করেছে তার মানবজন্মের প্রায় শুরু থেকেই। বুঝতে চেয়েছে “ঈশ্বর” কী? জানতে চেয়েছে, তার সর্বব্যাপী অনুসন্ধিৎসা দিয়ে সে জানতে চেয়েছে, ঈশ্বর আসলে ঠিক কী? নিত্যের মধ্যে এক অনিত্য, নাকি অনিত্যের মধ্যে এক সর্ব-চেতন নিত্য! ঈশ্বর কি…

  • উন্মূলন

    উন্মূলন

    অদূরে কোর্ট-বাড়িটা নানা লোকের ভিড়ে আর তাদের আওয়াজে গমগম করছে। এ-পাশটায় মাঠে টেবিল পেতে বসা কিছু লোকজন খাতাপত্র লেখায় ব্যস্ত, তাদের ঘিরেও থোকা থোকা কিছু লোকের ভিড়। আর এক পাশে কিছু খাবারের দোকানের ছাউনি, তার সামনে কাঠের বেঞ্চি পাতা । সেই দোকানের সারি যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানে একটা গাবগাছের ঝাঁকড়া ছায়া, লোকজনের ভীড় কম। সেই…

  • আগে একবার জিজ্ঞেস করলেই …

    আগে একবার জিজ্ঞেস করলেই …

    প্রতিবার রহস্য করে গল্প শুরু করার কোন মানে হয় না। এবার শুরুতেই বলে নেওয়া যাক এই গল্পের নিষ্প্রাণ নায়ক একটি ‘কামড়ানো কাঁঠাল ছাপ’ আমিফোন। তবে নায়ক ? না খলনায়ক ? না শেষ পর্যন্ত কোন বিবেকের ভূমিকায় সে আছে সেটা ঠিক বোঝা গেল না। আপাতত আমরা যাব দীননাথ দন্ডপাটের শোবার ঘরে। ভয় নেই। লেখক নিতান্ত ধম্মোভীরু…

  • দুটি কবিতা

    দুটি কবিতা

    দৃষ্টিকোণ  কিছুটা সুযোগ পেলে সকলেই জাল ছুঁড়ে মারে যেভাবে হাত পা বেঁধে পশুর শিকার হয় বনে, তবুও অনেক দেহ পিষে গিয়ে বেঁচে যেতে পারে বাকিরা আটক হয় না জেনেই শুধু প্রয়োজনে। অপর শিবির থেকে যে কথাটা অপরাধমুখী— একই কথা নিজ মুখে স্বাভাবিক মনে হলো যাঁর, তাঁরাই তো আজীবন অকারণে রয়ে যাবে সুখী তাঁদের আয়নাটাও মাঝে…

  • মহাকবি কালিদাসকৃত মেঘদূতের ভাবানুবাদ (পর্ব-৭)

    মহাকবি কালিদাসকৃত মেঘদূতের ভাবানুবাদ (পর্ব-৭)

    পূর্বকথনঃ–ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো অধর।…

  • হারিয়ে যাওয়া অভিজ্ঞান

    হারিয়ে যাওয়া অভিজ্ঞান

    ঋষি বিশ্বামিত্র ও অপ্সরা মেনকার কন্যা শকুন্তলা, জন্মলগ্নেই পিতা মাতার দ্বারা পরিত্যক্ত। আশ্রয় দিলেন আরেক ঋষি, কণ্ব। অনসূয়া, প্রিয়ম্বদা সহ আরও অনেক আশ্রমিকের সঙ্গে মনোরম তপোবনে বেড়ে ওঠে শকুন্তলা। আবাল্য লালিত মানবিকবোধ নিয়ে বহির্জগতের সঙ্গে তার সাক্ষাত ঘটে, রাজা দুষ্যন্তের হাত ধরে। প্রেমিক রাজার সাহচর্যে কিছুদিন তপোবনের পরিচিত স্থানেই দিন কাটে শকুন্তলার। অতঃপর রাজকার্যে দুষ্যন্তের…