Tag: Bengali Literature

বিলীন হওয়ার আগে
সুস্বাস্থ্য ধানের মতো আমাদের জীবনগুলোআরো বেশি সোনালি হতে পারতো।শুকনো নদী পেতে পারতো আরেকটু জল,আকাশ হতে পারতো আর একটু নীল।রুদ্ধ দরজাগুলোতে মাঝে মাঝে শুনিঝোড়ো হাওয়ার অভিঘাত!অথচ ভয়ের মুখোশ পরে বসে আছি।মাঝিভাই নৌকা ভিড়াও-কূলে কূলে ভেসে থাকার বিলাসিতা আর নয়,চলে যাব মাঝদরিয়ায়।দুরন্ত ঢেউয়ের ঝুঁটি চেপে ধরবশিশুর মতো হেসে হেসেবিলীন হয়ে যাওয়ার আগেসমুদ্র-দানোকে শান্ত করার স্পর্ধা দেখিয়েমিশে যাওয়া…

“এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম…”
সুখ কি তাহলে সোনার হরিণ, যার পিছে দৌড়ে মরি? প্রেম কি মিছে? ভালোবাসা কি ছলনা? আমরা কি চাই? কারে চাই? আমরা যাহা চাই ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না। তাই কি এত অশান্তি? এত হায় হায়, মান অভিমান, চোখের জল?কবি যাই বলুন, আমরা সাধারন মানুষ, প্রেম ভালোবাসা, মায়া-মোহের বিচিত্র এই ইন্দ্রজাল আমাদের কাছে…

দুখিরামের অবাক পৃথিবী দর্শন
कुछ कफस की तिलियों से छन रहा है नूर सा,कुछ फ़ैज़ा कुछ हसरत-ए-परवाज़ की बातें करो। — फ़िराक़ गोरखपुरी কটা গরাদ, মধ্যে দিয়ে চুইয়ে আসে আলো,মুক্ত আকাশ, আর কিছুটা ওড়ার কথা বলো। দুখিরাম তার নাতি ক্ষুদ্র জীবনে দু/একবার জেলে/লক আপে গিয়েছে।এবার একটি স্বাভাবিক হিরণ্ময় নীরবতা। চলচ্চিত্রের ভাষায় একে freez shot-ও বলা যেতে পারে।ক্যামেরা গড়ালে পরে…

বাপ
গাছের ডালে দোলনা টাঙিয়ে দোল দিচ্ছে সদ্যজাত শিশুটিকে নয়না l আর একটি হনুমান ছানার মত তার বুকের কাছে লেপ্টে রয়েছে l রাস্তায় ঘর সংসার নয়নার l এর মধ্যেই সে একটা পথের হোটেল চালায় l পথের হোটেল মানে লজঝরে টেবিল, ঝজ্ঝরে চেয়ার, প্যাকিং বাক্স কেটে তৈরী l বসতে গেলে যদি পেরেক ফুটে যায় তাই রেক্সিন বিছানো…

মেঘদূত ভাবানুবাদ (পর্ব – ১০)
পূর্বকথনঃ–ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো অধর।…

স্বাধীনতা, তুমি কোন্ পথে?
স্বাধীনতা! লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্ত-রঞ্জিত স্বাধীনতা। কত কত একনিষ্ঠ দেশসাধকের বুকের মধ্যে প্রতিনিয়ত স্পন্দন তোলা স্বাধীনতা। হাজার হাজারকবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-দার্শনিকের মননসাধনায় জারিত স্বাধীনতা। কত কত নাম-না-জানা ইতিহাসে স্থান-না-পাওয়াদের সংগ্রামের ফসল স্বাধীনতা। এ’ স্বাধীনতা বড় যত্নে, বড় আদরে, বড় শ্রদ্ধায় লালন করারই তো কথা ছিল। কথা ছিল ওই নাম-না-জানাদের সামনের সারিতে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার। কিন্তু আমরা সেই একাগ্রতা নিয়ে,…

পেয়েছি ডাক, চলেছি আমি তাই
ছুটির দরখাস্ত তো অনেক আগেই দাখিল করেছেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু ২২ শ্রাবণ ১৩৪৭-এ বসে আর ঠিক একটা বছর পরে ওই দিনটিতেই তাঁর ছুটি মঞ্জুর হবে কেই বা জানত! কেই বা সেদিন ভেবেছিল, কুহেলিকা উদ্ঘাটন করে সূর্যের মতো নূতনের আর প্রকাশ ঘটাতে আসবে আর একটাই মাত্র ২৫ বৈশাখ। ছুটিটা তো তাঁর মিলেইছিল, কিন্তু তাঁর আগে কড়ায়-গণ্ডায় পাওনাটা…

পরানের সাথে খেলিব আজিকে- ২
” হে রুদ্র, তোমার দুঃখরূপ, তোমার মৃত্যুরূপ দেখিলে আমরা দুঃখ ও মৃত্যুর মোহ হইতে নিষ্কৃতি পাইয়া তোমাকেই লাভ করি…. তোমার সেই ভীষণ আবির্ভাবের সম্মুখে দাঁড়াইয়া যেন বলিতে পারি, আবিরাবীর্ম এধি, রুদ্র বত্তে দক্ষিণং মুখং তেন মাং পাহি নিত্যম।”(মাঘ উৎসবের ভাষণ থেকে, ১৩১৪ সাল) কবির ছোটো ছেলে শমীন্দ্র বেড়াতে গিয়েছিলেন মুঙ্গেরে, কবির এক বন্ধুর বাড়িতে। এগারো…

প্রবৃত্তি ও পরিবার
১ ঘরটা প্রায় সারাদিনই বন্ধ থাকে। দরজা, জানলা, আলমারির পাল্লা, নেভা সুইচের সারি, স্নানঘরে শুকনো খটখটে মেঝে, বন্ধ স্টপককের পিছনে থমকে থাকা জল আর তার সমোচ্চশীলতার চাপ – এমনকি শামুকশিশুও আনমনে ঘোরে না, ফেরে না, অনুভবহীনতার সে ফাঁকা জমিতে। এসব সময়েই জন্মদিনের ঘুম ভাঙায় একাধিক ব্যাঙ্কের নানাবিধ বৈধ শুভেচ্ছা – হ্যাপি বার্থডে – তোমার ভবিষ্যৎ…

