শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Bengali Literature

  • আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন [প্রথম পর্ব]

    আমার সুভাষচন্দ্র : কৈশোর ও যৌবনস্মৃতির অনুবর্তন [প্রথম পর্ব]

    কবি সত্যেন দত্তের প্রয়াণে রচিত রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবিতাটির কয়েকটি ছত্র এ-রকমঃ- “আজো যারা জন্মে নাই তব দেশে,/ দেখে নাই যাহারা তোমারে, তুমি তাদের উদ্দেশে/ দেখার অতীত রূপে আপনারে করে গেলে দান/ দূর কালে। তাহাদের কাছে তুমি নিত্য গাওয়া গান/ মূর্তিহীন!…” অনাগত কালের কাছে এই ‘নিত্য গাওয়া গান’ হয়ে থেকে যাওয়া যে খুব সহজ ব্যাপার নয়।…

  • চৈতন্যের খোঁজে

    চৈতন্যের খোঁজে

    “নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাসওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস”…এ বিশ্বাসের খন্ডন হলো না আজও। বিশ্বাসকে ধারণ করেই অনুকরণের অনাবিল আনন্দে ভেসে আছি আমরা। যুগ যুগ ধরে এ চর্চাই আমাদের মজ্জায় মজ্জায় প্রোথিত হয়েছে। বর্তমান সময়ের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় দাঁড়িয়েও অনুসরণে বিশ্বাস নেই আমাদের, অনুকরণই অতি সহজ পথ। অতি সহজ পথে চলতে গিয়েই ভুলতে বসেছি নিজেদের ঐতিহ্য এবং…

  • নাজেহাল

    নাজেহাল

    পরিমলবাবু ওষুধের বাক্স থেকে নিয়মমাফিক আজকের ওষুধগুলো বের করে টেবিলের উপর রাখলেন। তাঁর বয়স সত্তরের কাছাকাছি। বয়সের অসুখগুলো হাত ধরাধরি করে তাঁর সঙ্গী। হাই ব্লাডপ্রেসার, সুগার, কোলেস্টেরল, হার্ট আর লিভারের অসুখ। ঝকঝকে ফয়েল থেকে আঙুলের চাপ দিয়ে ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলগুলো বের করে ফেললেন পরিমলবাবু।আড়াই বছরের নাতি পিকু, দাদুর কাজকর্ম নিরীক্ষণ করছিল মন দিয়ে। এবার প্রশ্ন…

  • গোলাপি পাথর

    গোলাপি পাথর

    দুপাশ দিয়ে বড় বড় গাছগুলো, জঙ্গলের ভেতরে রাস্তা ঢেকে রেখেছে। রাতের অন্ধকারে জয়ন্ত-র মনে হচ্ছে, একটা লম্বা কালো সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকে গেছে। হাল্কা বৃষ্টির মতো হচ্ছে। তাপমাত্রা ঝপ করে চার পাঁচ ডিগ্রি কমে গেল। শীত-শীত শিরশিরানি বোধ জয়ন্তকে আলতো নাড়া নিয়ে যায়, স্টিয়ারিং একটু কেঁপে উঠল। হঠাৎ গাড়ির জিপিএস ট্র্যাকার বলে ওঠে, “ভিজিবিলিটি উইল বি…

  • অপসাদ

    অপসাদ

    গ্রীষ্মের আনতনয়না গোধূলি। নদীর গা ছাড়া স্রোতে আলসি নাওয়ের দুলুনি। দিনান্তের সমাপন সুরে পৃথিবী থমকে আছে — ঢালু আলোয় ঢেউ খেলছে দুজন ছায়া। ওরা দুজন।: কি হলো ?: না তেমন কিছু না।: তাহলে ? মুড অফ – ঝগড়া করেছো ?: অপ্রস্তুত লাগছে।: হঠাৎ ?: শেষ বেলাকার এই ক্ষণিক সৌন্দর্যের সামনে বসে মনে হয়, হাউ মাচ…

  • দেবীপাট ও জলজঙ্গল

    দেবীপাট ও জলজঙ্গল

    নীরবতাই ভাষা সেখানে। শব্দ মানে ট্রেসপাস। দেবীর রাজত্ব। যতোদূর চোখ যায়। শাল, সেগুন, গামার, সিসু, কেঁদ, কদম, পলাশ, শিমুল। দেবতারা সারি সারি বনস্পতি সেজে দাঁড়িয়ে আছেন। লালমাটির পথ ওঠে পড়ে। বের, করমের ডাল গায়ে এসে পড়বে এদিকওদিক করলেই। দেবরিগড় অভয়ারণ্যের পথ চলে গেছে চউরাসিমল পর্যন্ত। একুশ কিমি। বড়াখাণ্ডিয়া আর চউরাসিমলের মাঝেই দেখা যাবে জঙ্গলসংসারের ছোটো…

  • “রব নে মিলাদি জোড়ি”

    “রব নে মিলাদি জোড়ি”

    সে প্রায় বারো বছর আগের কথা। এ কাহিনি উড়িষ্যার জগন্নাথের। রঙ কষ্টিপাথরের থেকে এই সামান্য এক পোঁচ কম হবে। সরু একফালি গোঁফ, পেতে আঁচড়ানো চুল, সদাহাস্যমান। পরিষ্কার বাংলা বলত, স্পেশালিটি ছিল গোল গোল উচ্চারণ। যেমন, বাজার কে বলত বজার। সেবার জগন্নাথের প্রথম ইংল্যান্ড আগমন। এবং অচিরেই বিকেলের কিছু দুস্প্রাপ্য ঝালমুড়ি আর উইকএন্ডে ডাল-ভাতের সুবাদে আমি…

  • সালতামামি

    সালতামামি

    বঙ্গদেশে শীত আসিয়া পড়িল। সম্বৎসর উষ্ণতা ও আর্দ্রতা লইয়া বিব্রত বাঙ্গালী, আবহাওয়ার এই তৃপ্তি উপভোগ করিবার উপলক্ষে, তাহার যাবতীয় গরম পোশাক জমাইয়া রাখিয়াছেন। কিছুকাল পূর্বেও গৃহস্থ বাড়ির অঙ্গনে প্রাক শীতের দ্বিপ্রাহরিক রৌদ্রকরজ্জ্বল অঘ্রাণ সুখ গায়ে মাখিয়া, তোরঙ্গ উদ্ঘাটিত রঙিন পশমের রকমারি শাল, সোয়াটার, কমফর্টার, দস্তানা, হনুমানটুপি ইত্যাদি শোভা পাইত। ধুনুরিদের টঙ্কারে পুরান লেপ, নূতন হইত।…

  • সাহিত্যে নোবেল, না-নোবেল, রবীন্দ্রনাথ এবং অন্যান্য

    সাহিত্যে নোবেল, না-নোবেল, রবীন্দ্রনাথ এবং অন্যান্য

    (স্মরণীয় – ১০ ডিসেম্বর নোবেল পুরস্কার প্রদান দিবস) ১৫ নভেম্বর, ১৯১৩। রবীন্দ্রনাথ তাঁর আশ্রমসচিব নেপাল রায় এবং কয়েকজন কাছের জনকে নিয়ে সন্ধের দিকে পারুল বনের দিকে চলেছেন। পথে একজন পিয়ন তাঁকে একটি জরুরি টেলিগ্ৰাম দেন এবং তিনি যথারীতি জোব্বার পকেটে ঢুকিয়ে নেন। সে দিন খুব হাওয়ার রাত। খোয়াইজুড়ে রাস পূর্ণিমার গোল হলুদ চাঁদ উঠেছে। চাঁদের…

  • ও মোর মাহুত বন্ধু রে…

    ও মোর মাহুত বন্ধু রে…

    প্রতিমা বড়ুয়া। লোকগীতির রাজকন্যা। শুধু লোকগীতির রাজকন্যাই নন, আক্ষরিক অর্থেও তিনি ছিলেন রাজকন্যা। তাঁর জন্ম হয়েছিল এক রাজপরিবারে। অসম রাজ্যের গৌরীপুরে। ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর। অসমের প্রান্তিক শহর। অনবদ্য, শান্ত, সুন্দর শহর। একদা এই গৌরীপুর ছিল ছোট্ট দেশীয় রাজ্য। প্রায় ৯০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে তার বিস্তার। মাটিয়াবাগে টিলার উপর রাজবাড়ি। নাম ‘মাটিয়াবাগ প্যালেস’। গৌরীপুরের রাজবাড়ির ইতিহাস…