শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Bengali Culture

  • ডাঃ হৈমবতী সেন – বাল্যবিবাহ থেকে চিকিৎসক হওয়ার অ-রূপকথা

    ডাঃ হৈমবতী সেন – বাল্যবিবাহ থেকে চিকিৎসক হওয়ার অ-রূপকথা

    ১৮০০ শতকের ক্যাম্পবেল মেডিকেল স্কুল অধুনা এন আর এস… ছাত্রদের তুমুল বিক্ষোভ, পিকেটিং চলছে। মেয়েদের হোস্টেলে চলছে ইঁট-পাটকেল, ঢিল ছোঁড়া। মিঃ গিব্বন পুলিশ ডাকবেন… এই আন্দোলনের কারণ, এক মহিলা ছাত্রী ফাইনাল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। আর ১/২ নং কম পেয়ে ২য় গোপালচন্দ্র দত্ত। সোনার মেডেলের দাবিদার একজন মহিলা ছাত্রী? এ অসম্ভব ব্যাপার, এ হতে দেওয়া যায়…

  • চারণকবি মুকুন্দদাস ও সেকালের স্বদেশী যাত্রা

    চারণকবি মুকুন্দদাস ও সেকালের স্বদেশী যাত্রা

    মঞ্চ ঘিরে গ্রামবাসীদের ভিড়। যাত্রাপালা দেখে সকলের রক্ত উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছে। প্রধান অভিনেতার একের পর এক গান দোলা দিচ্ছে তাঁদের হৃদয়ে। ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত হচ্ছে ক্ষোভ। স্বদেশী গানে মথিত রাতের আকাশ। ‘ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে, / মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে। কিংবা ‘বান এসেছে মরা গাঙে খুলতে হবে নাও। তোমরা এখনো ঘুমাও।’…

  • রেবতীভূষণ

    রেবতীভূষণ

    চলচ্চিত্র প্রযোজক বি এন সরকারের অনুরোধে বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম অ্যানিমেশান ছবি ‘মিচকে পটাশ’এর চরিত্রায়ণ রেবতীভূষণেরই। ছবি আঁকার পাশাপাশি ছড়া লেখা, গান বাজনা, সাঁতারেও রেবতীভূষণের বিপুল উৎসাহ আজীবনের। তাঁর রচিত ছড়ার সঙ্কলনটির নাম “ছড়ানো বই”।

  • বেস্ট ফ্রেন্ড

    বেস্ট ফ্রেন্ড

    “দেখি তো পেপার্সগুলো! এক্সামটা কেমন হল?….. এ কী! খাতায় এসব কী লেখা! ‘আই লাভ শ্রেয়সী‘……মানে? পাশে আবার দুটো হার্ট আঁকা। বলি এসব হচ্ছেটা কী?”স্টাডি রুমে বসে সবে অফিসের ফাইলগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেছি। গিন্নীর আচমকা চিৎকারে পিলে চমকে যাওয়ার জোগাড় আর কী….!ডাবলু স্কুল থেকে ফিরে খাওয়া দাওয়া করে এখন একটু কার্টুন দেখছে, ওর প্রিয় গোপাল…

  • বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৯)

    বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৯)

    এতরকম দুর্বিপাকের মধ্যেও সততনানান অনুশীলনে ছিল বাঙালি নিরত।।বিষ্ণুচরণ ঘোষ হঠযোগী ব্যায়ামবিদ বাংলার,স্বদেশে বিদেশে খ্যাত যোগচর্চা তাঁর।।শরীরনির্মাণের ব্রতে ছিল অপূর্ব তাঁর নিষ্ঠা —কলিকাতাতে যোগ শিক্ষালয় করিলেন প্রতিষ্ঠা।।বুকের ওপর তুলে হেলায় হাতি কিংবা গাড়িবিখ্যাত সেই রেবা রক্ষিত ছাত্রী ছিলেন তাঁরই।এছাড়াও শরীরচর্চায় হয়েছিলেন কৃতীনীলমণি দাস, মনোহর আইচ, মনোতোষ রায় প্রভৃতি।। ★★★★★★★★ ক্ষমতা হস্তান্তর শেষে দিল্লিতে তখননূতন কেন্দ্ৰীয় সরকার…

  • বিশ্বাস, ভক্তি, প্রাপ্তি ও কিছু প্রশ্ন

    বিশ্বাস, ভক্তি, প্রাপ্তি ও কিছু প্রশ্ন

          পুরাকালে, যেন বহু জন্মের আগে, সুর ও অসুর, সৎ ও অসৎ, দু’টি পক্ষ ক্ষীরসমুদ্র মন্থন করেছিল অমৃত কুম্ভের সন্ধানে। সেই মহামন্থনের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল হলাহল, যা ধারণ করে নীলকণ্ঠ হলেন মহাশিব। আর অমৃত? সে যে শত সাধনার ধন! সবটুকু কালকূট কেবল মহাদেবের জন্য নির্ধারিত হলেও মৃত সঞ্জীবনী সুধা অমৃতের ভাগ ছাড়তে তো দিতি বা…

  • বাঙালি-বিয়ের প্রথা এবং পরম্পরার প্রেক্ষাপট

    বাঙালি-বিয়ের প্রথা এবং পরম্পরার প্রেক্ষাপট

    একজন পুরুষ অথবা একজন নারী যখন সজ্ঞানে নিজেদের জন্য জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গিনী নির্বাচন করবে তার মধ্যে ধর্ম কেন এসে নাক গলাবে এ নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্য, পরম্পরা, বিশ্বাস, ইতিহাস, শিকড়, পুরুষানুক্রম এই রকম কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন চলে এসেছে তখন অন্য সব আধুনিকতার যুক্তিগুলি পিছু হটেছে। রয়ে গেছে যা আমাদের চিয়ায়ত,…

  • বাংলা গানের উজ্বল কারিগরেরা (পর্ব – ৩)

    বাংলা গানের উজ্বল কারিগরেরা (পর্ব – ৩)

    সলিল চৌধুরী ও অনল চট্টোপাধ্যায় ‘বাংলা গানের উজ্জ্বল কারিগরেরা’ শীর্ষক আলোচনার দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিকে গীতিকার-সুরকারদের সম্বন্ধে বলা শুরু করে সেই সময়কার একজন বিশিষ্ট সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব সুধীন দাশগুপ্ত সম্বন্ধে কিছুটা লেখার চেষ্টা করেছি। এই পর্বের শুরুতে গীতিকার সুরকার হিসেবে বাংলা বেসিক গানের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র সলিল চৌধুরীর কথায় আসব। সলিল চৌধুরীকে নিয়ে পাঠকদের কাছে কিছু বলা…

  • খরা

    খরা

    ফাগুন শেষে মাটির কষ্ট, তৃষ্ণা কাতর প্রাণআগুন ছোঁয়া শস্য ক্ষেতে,মনের বিরূপ টান। দীঘল চোখে শুকিয়ে কাজলরাতমোহিনী হাঁকে,‘জল চাই গো, জল যে খরা,জল কোথাকে পাই’-এ পোড়া দেশ ক্লান্ত বড়ো,নটে গাছটি মুড়াই আরোবাউড়ি পাড়ার পথে ঘাটেউড়ছে ধুলোর ছাই।‘জল চাই গো, জল যে খরা,জল কোথাকে পাই।’ ফাগুন শেষে একলা ঘর- একলা মনের টানরাত দুপুরে প্রসব ব্যথায়পোয়াতি আনচান। ঋণের…

  • শ্রুতিতে পত্রসাহিত্যঃ রবীন্দ্রনাথের চিঠি অমিয় চক্রবর্তীকে

    শ্রুতিতে পত্রসাহিত্যঃ রবীন্দ্রনাথের চিঠি অমিয় চক্রবর্তীকে

    রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের উল্লেখযোগ্য কবি অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর যখন যোগাযোগ হয়, তিনি তখন ১৬ বছরের একটি কিশোর। অচিরেই কবির স্নেহধন্য হয়ে ওঠেন অমিয়। সেই সময়টিতে তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার অকালবিয়োগে সে প্রবলভাবে কাতর ও চূড়ান্ত অবসাদগ্রস্ত অবস্থায় দিনযাপন করছে। স্নেহসিক্ত কবি এক অসামান্য মনোবিদের মত একটির পর একটি চিঠিতে উজ্জীবিত করতে থাকেন…