
তোমার সুরে
আকাশজুড়ে ঘন আড়ম্বর
মেঘ ডাকছে যেন যুগান্তরে …
তামসী-নীল সমুদ্র মুখর
গীতবিতানে বৃষ্টি ভেঙে পড়ে।
বৃষ্টি পড়ে সে কোন শ্রাবণের
স্মৃতিতে বাজে তোমার মল্লার,
সে সুর যেন স্বপ্ন নির্জনে
নিষাদ ছোঁয়া নীরব হাহাকার।
প্রমত্ততা স্বেচ্ছাচারী মেঘে
তোমার সুরে তখন উঠি জেগে ,
মেঘের পরে মেঘ ঘনিয়ে আসে
প্রলয় মাতে ভরা সর্বনাশে।
বজ্রপাতে মেঘের গর্জনে
সে সুর ছিল বাঁধা তোমার মনে,
দীর্ঘশ্বাসে মালতীলতা দোলে
চিরকালীন বিরহ সম্বলে।
শ্রাবণ ধারা তখন অন্তরে
তোমার সুরে আমায় একা করে।

সেদিন বাইশে শ্রাবণ
সেদিন ফোটে নি কবিতার মতো ভোর,
মেঘে মেঘে গলে পড়ছিল অক্ষর,
বিদ্যুতে ছিল সর্বনাশের রঙ;
সেদিন বাইশে শ্রাবণ।
সেদিনও শ্রাবণে ঘন ছায়া ছিল বনে,
গর্জন ছিল মেঘের নীলাঞ্জনে,
ঝড়ে ভাঙছিল রজনীগন্ধা বন ;
সেদিন বাইশে শ্রাবন।
বৃষ্টিতে ছিল সুদূরের আহ্বান,
বন্দরে ছিল নোঙর তোলার গান,
চন্দন বুকে আগুনও মনোহরণ;
সেদিন বাইশে শ্রাবণ।
তুমি চলে গেলে বর্ণমালার শেষে
দিনরাত্রির সীমানাছাড়ানো দেশে,
স্মৃতির মতন স্মরণীয় নির্জন;
সেদিন বাইশে শ্রাবণ।
ঢেউ উঠেছিল বিপুল শূন্যতার
মিলে গিয়েছিল দীপকেতে মল্লার,
বৈশাখী রোদ ধুয়ে দিল বর্ষণ;
অন্তবিহীন
সেদিন
বাইশে
শ্রাবণ।
[লেখকের অন্য রচনা]
মনোগ্রাহী কবিতা!