শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Author: Editor

  • হাসির সাতকাহন ও বাঙালি

    হাসির সাতকাহন ও বাঙালি

    মানুষের অভিব্যক্তির সর্বোত্তম প্রকাশ হাসিতে। প্রফুল্লতা, আনন্দ, উচ্ছ্বাস হইতে শুরু করিয়া বেদনা, যন্ত্রণা, দুঃখ পর্যন্ত নানা আঙ্গিকের হাসির রকমফেরে আবেগের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যে হাসিতে জানে, হাসিকে মূলধন করিয়া বন্ধুত্বের বন্ধনীতে বাঁধা পড়ে। হাসির স্বপক্ষে সর্বাপেক্ষা বড় যুক্তি বোধহয় ইহাই যে হাসির আবেদন সার্বজনীন, দেশ-কাল, এমনকি ভাষা-নিরপেক্ষ। দেশ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে…

  • “ঐ আলোকমাতাল স্বর্গসভার পুষ্পাঞ্জলি”

    “ঐ আলোকমাতাল স্বর্গসভার পুষ্পাঞ্জলি”

    Maria Sklodowaska তখন নিতান্তই ছোট, খেলার সঙ্গিনীদের সঙ্গে চলেছেন পোল্যান্ডের ওয়ার্সর পথে। এমন সময় এক বৃদ্ধা তাঁর কাছটিতে এসে বললেন, “খুকু তোমার হাতখানি দেখি তো।”বালিকা তাঁর ছোট্ট নরম হাতখানি বৃদ্ধার দৃষ্টির সামনে মেলে ধরতে বৃদ্ধা সবিস্ময়ে তাকে বললেন, “কি অদ্ভুত তোমার হাতখানি! পরে আশীর্বাদ করে বলেন, “ভবিষ্যতে তুমি জগদ্বরেণ্য হবে।” মাদাম কুরির জীবনে এটাই প্রথম…

  • বটতলা থেকে কলেজ স্ট্রিট – বাংলা বইয়ের পথচলা

    বটতলা থেকে কলেজ স্ট্রিট – বাংলা বইয়ের পথচলা

    ন্যাথিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড সাহেবের ‘ অ্যা গ্রামার অফ দি বেংগলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ ছাপা হয়েছিল ১৭৭৮ সালে। বইটি ইংরেজিতে হলেও তাতে রামায়ন, মহাভারত, বিদ্যাসুন্দর ইত্যাদি বাংলা বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল বাংলা হরফে। সেই হরফ তৈরি করেছিলেন উইলকিনসন নামের এক সাহেব। কিন্তু তারও বছর পাঁচেক আগে উইলিয়াম বোলটস নামের এক সাহেব অনেক পরিশ্রম করে বাংলা হরফ তৈরি…

  • নবজাগরণের আলোয় কৃষ্ণনগর ও মহারাজ শ্রীশচন্দ্র রায়

    নবজাগরণের আলোয় কৃষ্ণনগর ও মহারাজ শ্রীশচন্দ্র রায়

    উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধে, বাঙলার নবজাগরণের উষা লগ্নে, সমাজ যে যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী আলোড়িত হয়েছিল তারমধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল ১৮২৮ খ্রীষ্টাব্দে রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠা এবং তার পরবর্তী কার্যক্রম। প্রাচীন সনাতন হিন্দু ধর্মকে হাজারো কুসংস্কার আর আচার বিচারের নিগড় থেকে মুক্ত করে সুসংস্কৃত রূপে তুলে ধরাই ছিল তাঁর অন্তরের আকাঙ্ক্ষা। এরই সূত্র…

  • কোবরা যাযাবরী

    কোবরা যাযাবরী

    সকালের রিকিঝিকি রোদ্দুর এসে পড়েছে মুখে রূপমতীর। লম্বা চোটির শেষে হরে-গুলাবি পারান্ধি দুলিয়ে এঁকে বেঁকে মেয়েটি চলেছে কুঁয়া থেকে পানি আনতে। তার সবুজ চোখদুটিতে পান্নার ঝিলিক লক্ষ্য করে বুড়ি যুগ্নি। এই এক ছোড়ি, তরোয়ালের ফলার মত। মনে মনে নিজের যৌবনে ফিরে যায় যুগ্নি, সেই তুরতুর ছুটে চলা, ঝুমঝুম ছোটবেলার মাইলের পর মাইল বালিয়ারী পেরোনো দিনগুলিতে।…

  • মকর পরব আসিচে ঢেউ মাইরে

    মকর পরব আসিচে ঢেউ মাইরে

    ইতুর – ঘট মালসা, ভাসান দিয়ে নব অন্নে নবান্ন শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস হলো। এখন খামারে সারি সারি শ্রী যুক্ত খড়ের পালোই, মরাই জঠরে টইটম্বুর দুধেল ধান। ক্ষেত প্রসবিত শালিনী শস্যের শেষ স্বাস্থ্যবতী আঁটি যত্নে কাঁধে নিয়ে অনিল মুর্মু বাড়ি ফিরছে। ওই তো ওর ‘দিনিমাই’। ওকে নিয়েই তো অনিলের নাবালিকা ফুলকি ‘টুসু’ পাতবে। মেঠো…

  • “সিন্ধু পারের পাখি”: পণ্ডিচেরি

    “সিন্ধু পারের পাখি”: পণ্ডিচেরি

    সম্প্রতি পণ্ডিচেরি গিয়েছিলাম। বছর শেষের ছুটির আমেজে কলকাতার বাইরে গিয়ে কদিন কাটিয়ে আসার ইচ্ছে তো ছিলই। তাছাড়াও ছিল আমার সতেরো বছর বয়সে দেখা সমুদ্রতীরবর্তী শহরটিতে আরেকবার ফেরার আকাঙ্ক্ষা। ফরাসি উপনিবেশ হিসেবে পণ্ডিচেরি শহরের স্থাপন হয়েছিল ১৬৭৩ সালে । কিন্তু বাঙালিদের সঙ্গে এখানকার বিশেষ যোগসূত্রের কারণ নিশ্চয়ই শ্রী অরবিন্দ ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত আশ্রম । অগ্নিযুগের তেজোদ্দীপ্ত…

  • বুড়ি ছোঁয়া

    বুড়ি ছোঁয়া

    “চীনের প্রেসিডেন্টের ছেলে আমার ছবি তুলে নিয়ে গেছে।”কথাটা শুনে সাত্যকি ঘুরে তাকায়। লোকটার ফুল হাতা সোয়েটার, মাঙ্কি ক্যাপ, গলায় মাফলার। সাত্যকির হাসি পেয়ে যায়। কলকাতায় শীত পড়ল কি পড়লনা, কিছু মানুষ সঙ্গে সঙ্গে এত রকম গরম পোশাক বার করে ফেলবে, যেন বরফ পড়ছে! লোকটির পোশাক পরিচ্ছদ দেখে, কেন ফিরে তাকিয়েছিল, ভুলে যায় সাত্যকি। আবার ঘাড়…

  • বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৬)

    বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৬)

    এ পর্যন্ত বলা হল নানারকম প্রসঙ্গেকয়েক দশক জুড়ে যা যা ঘটেছিল বঙ্গে।।বেছে বেছে তুলেছি আমরা ঘটনা-নিচয়হয়তো ফোটে নি তাতে সামগ্রিক পরিচয়।।রাজনীতি-মহলের কথাই বেশি ছিল তাতে,ঢুকি নি ততটা আমরা অন্য আঙিনাতে।।এবার তাতে ক্ষান্ত দিয়ে আমরা কিছুক্ষণ,অন্যান্য মহলের কথাও করব উত্থাপন।এমনই এক বিষয় বঙ্গের নারী জাগরণ,এবার এই প্রসঙ্গে কিছু শোনো সভাজন।।বঙ্গদেশে ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকএনেছিল পাশ্চাত্যের শিক্ষার…

  • প্রাতঃস্মরণীয়

    প্রাতঃস্মরণীয়

    বাংলায় একটা শব্দ আছে, প্রাতঃস্মরণীয়। এমন শব্দবন্ধ অন্য ভাষায় একই ব্যঞ্জনায় আছে কিনা জানা নেই। ‘শব্দ’-এর ব্যবহারের সঙ্গে, সেই ভাষাভাষী নাগরিক চরিত্র সুস্পষ্ট হয়। একসময় বাঙালির নিশ্চয়ই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল; এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের কথা সকাল সকাল স্মরণ করলে, দিন ভাল কাটে। ঘরের দেওয়ালে এই সেদিন পর্যন্ত এই সব যুগন্ধর ব্যক্তিত্বর ছবি টাঙানো থাকত,…