Tag: Webzine

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় – অতিক্রান্ত শতবর্ষের অনুভব (পর্ব – ১)
“পাখিরে দিয়েছ গান, গায় সেই গান, তার বেশি করে না সে দান। আমারে দিয়েছ স্বর, আমি তার বেশি করি দান, আমি গাই গান।” সালটা মনে আছে – ১৯৫৮। বাবা একটা রেডিও কিনলেন – আমাদের সংসারের প্রথম অলঙ্কার! সঙ্গে নিয়মিত আসতে লাগলো ‘বেতার জগৎ’। বাবা দাগ দিয়ে রাখতেন – কবে কোন শিল্পীর কী গান। বাড়িতে নিয়ম…

কোম্পানি-আমলের কোলকাতা এবং বাঙালির কারিগরি কেরামতি
রবীন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতিতে সীতানাথ ঘোষ নামের এক ব্যাক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন। সীতানাথ ঘোষ রবীন্দ্রনাথের প্রাকৃত বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু তাঁর নেশা ছিল নানা রকমের কলকব্জা বানানো। ১৮৭০ সালের হিন্দু মেলায় সীতানাথ ঘোষ তাঁর নিজের তৈরি এয়ার পাম্প এবং যন্ত্র-চালিত তাঁত প্রদর্শন করেছিলেন। তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রের শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিল তা বিশেষ জানা না গেলেও সেই সময়ে…

আঁধার পেরিয়ে
১ “কাহার অভিষেকের তরেসোনার ঘটে আলোক ভরে।উষা কাহার আশিস বহিহল আঁধার পার।” মাঝেমধ্যে কিছু লাইন আমার ভিতর রাজত্ব করে। দেবদারু পাতায় সাজানো ছোট্ট মঞ্চ – সেখানে একটা হারমোনিয়াম তবলা ও মাইক্রোফোন। সন্ধের একটু আগে কালবৈশাখী থামলে বেজে ওঠে কিশোর কুমারের কণ্ঠে এই গানের কলি – পাড়ার রবীন্দ্রজয়ন্তী। এখনও একটা ঘোর। এখানে আমি সেরকম কিছু একটা…

বাবা কা নগরী – আমাদের সাড়ে তিন হাত জমি
(দ্বিতীয় পর্ব) काशी में इक मिला जुलाहाबोला : हमको ज़रा बतानाजो क़मीज़ पहनी है तुमनेक्या उसमें नहिं ताना-बाना(ताना-बाना- हरि मृदुल)(কাশীতে এক জোলার সঙ্গে দেখা হলো। সে বলে, আমাকে কী বলতে পারবে? যে কামিজটা তুমি পরে আছো,তাতে কি টানা-পোড়েন নেই?)(তানাবানা-হরি মৃদুল) আমাদের সভ্যতার গর্ব গঙ্গা-জমনি তহজীব। অর্থাৎ এই সংস্কৃতির ভিত্তিতে আছে এদেশের দুই প্রধান নদী, গঙ্গা…

শিব্রাম চকরবরতি ও পেনেটির গুপো সন্দেশ
বিস্মৃতিচারণা (পর্ব ৪) আমার এবারের বিস্মৃতিচারণায় ভেসে আসছে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি বাংলা সাহিত্যের রসসম্রাট শিবরাম চক্রবর্তীর আগরপাড়ার প্রভাসতীর্থে আগমন ও তাঁর অসামান্য ভোজনপ্রিয়তার ইতিবৃত্ত। কলকাতার বঙ্গ সাহিত্য সম্মিলনের তিন দিনব্যাপী আসর বসেছে প্রভাসতীর্থের সভাঘরে। এক এক দিন বিভিন্ন পর্বে এক একটি বিষয় নিয়ে বিশিষ্ট অতিথিদের বক্তৃতা, আলোচনা, সাহিত্য পাঠ। আসছেন বাংলা সাহিত্যের তদানীন্তন কুশীলবরা। দিনটা…

দুটি কবিতা
হলুদ আলো হলুদ আলো হলুদ আলোপড়ছে এসে মেঝের ওপরউড়ছে ধুলোয়, ত্রসরেণুররোমাঞ্চে আজ একলা ঘরেডাকছে কাকে, নষ্ট সময়?ডাকছে কাকে, ভালবাসায়মেলছে পাখা, কার আশাতেহলুদ আলো পাখির মতোএই অবেলায়, বিকেলবেলায়? দোসর সে কোন দুঃখের ঘরে থাকেনি কোনদিনতবু তাকে ভালবাসিসে কোন সান্ত্বনার হাতছোঁয়ায় নি ক্লান্ত কপালে কোনদিনতবু তাকে ভালবাসিসে আমার আত্মার দোসরতাই তাকে ভালবাসি।

মহাকবি কালিদাসকৃত মেঘদূতের বাংলা ভাবানুবাদ (পর্ব-৬)
পূর্বকথনঃ ধনপতি কুবের। কৈলাসে তার আবাস। নগরীর নাম অলকা। পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের ধাম। সুউচ্চ প্রাসাদ ভবন নগরীর আকাশকে স্পর্শ করছে। ভবনের ছাদ শিখীর নৃত্যে ছন্দিত। মধুপ গুঞ্জরিত শতশতদলে সরোবরগুলি সদা আন্দোলিত। রাত্রি নিত্য জ্যোৎস্নাজড়িত। আনন্দাশ্রুছাড়া নয়নসলিল সেখানে বিরল। আর বয়স তো যৌবনেই আবদ্ধ। কুবেরের কর্মসচিব যক্ষ। তরুণবয়স সদ্যপরিণীত। সুন্দরী বধূটি। তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা, তন্বী, শিখরীদশনা,পাকা বিম্বফলের মতো…

নজরুল গীতি
রবিচক্রের সুহৃদ বাংলাদেশের বিশিষ্ট গীতিকার সুরকার ও গায়ক জনাব নওশের কাদেরীর কুশলতা বাংলার স্বর্ণযুগের আধুনিক গান থেকে নজরুল গীতি, নানা ধরনের গানে। তাঁর গাওয়া অনবদ্য একটি নজরুল গীতির সংযোগ রবিচক্রের আন্তর্জালিক পত্রিকার এই সংখ্যায়। তিনি গেয়েছেন:“গোঠের রাখাল, বলে দে রে কোথায় বৃন্দাবন।(যথা) রাখাল-রাজা গোপাল আমার খেলে অনুক্ষণ॥”

বসন্তের রাজপুত্র
তদানীন্তন বোম্বাইয়ের এক হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণাময় স্পন্ডিলাইটিসে আক্রান্ত হয়ে পায়ে, কোমরে ভারি ট্র্যাকশন বেঁধে টানটান চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন দীর্ঘদেহী গায়ক ও সুরকার মানুষটা। ঘরে প্রবেশ করলেন এক চিত্রপরিচালক ও এক নবীন গীতিকার, যাঁর হাতে নতুন লেখা একটি গানের কাগজ। গানটি শুয়ে শুয়েই দেখতে চাইলেন রোগী। কাগজখানা হাতে নিয়ে শূন্যে তুলে দেখে নিয়ে মিনিট খানেক…

সমান্তরাল ভারতঃ একটা অপ্রাসঙ্গিক পোস্ট
তালপাতার এক বিশাল ছাতি তাঁর মাথায়। মাঝখানের লাঠিটাই ৭/৮ ফুট লম্বা। রোজ টুকটুক করে তিনি হেঁটে আসেন নারকেলডাঙ্গা থেকে গোলদিঘির এই কলেজে। ছাতিটা ধরে থাকেন এক ভৃত্য। চালচলনে, কথার ধরণে, পরিচ্ছদে এক্কেবারে দেশীয় গ্রাম্য পণ্ডিত!তিনি জয়নারায়ণ তর্কপঞ্চানন! সময়টা ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝির দিকে। নবন্যায়ের অভিঘাতে চিরন্তন ন্যায় তখন কোনঠাসা। ন্যায়শাস্ত্রে সত্যিকারের সুগভীর পণ্ডিত কোলকাতার আশেপাশে মেলা…
