শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Somen Dey

  • ফুলকো লুচির উপাখ্যান

    ফুলকো লুচির উপাখ্যান

    মনে আছে সেই দৃশ্যটা? একটা অ্যাম্বাসেডার গাড়িতে চেপে ফেলুদা, মুকুল, ডঃ হাজরা (নকল) রাজস্থানের রাস্তা দিয়ে চলেছেন সোনার কেল্লার সন্ধানে । কিন্তু ফেলুদার নজরে এলো পাশে জাতিস্মর মুকুল বসে আছে এবং যে কোনো সময় সোনার কেল্লা দেখা যেতে পারে, এই রকম একটা সময়ে ডঃ হাজরা গাড়িতে বসে বসেই ঘুমিয়ে পড়ছে। ডঃ হাজরার এই নিরুত্তাপ ভাব…

  • রবীন্দ্রনাথ : অন্তরে বাহিরে এক নিরন্তর পর্যটক

    রবীন্দ্রনাথ : অন্তরে বাহিরে এক নিরন্তর পর্যটক

    যে বালকটি জোড়াসাঁকোর বাড়ির জানলার খড়খড়ি তুলে অপার বিস্ময়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখত পুকুরের জল, তাতে চরে বেড়ানো হাঁস, স্নানরত প্রতিবেশীরা, তার ধারে ঝুরি নামা বটগাছ, বালকটির সেই অপার কৌতূহল, বিশ্ববিখ্যাত মানুষ হবার পরেও রবীন্দ্রনাথ বুকের মধ্যে কোথাও হয়ত লুকিয়ে রেখেছিলেন । নইলে আমাদের মনে এই প্রশ্নটা উঁকি দেয়, জীবনের শেষ প্রহর অবধি তিনি এমন…

  • সেকালের অন্তঃপুরের চালচিত্র এবং বাংলা ছড়ায় ধরা তার কিছু মর্মকথা

    সেকালের অন্তঃপুরের চালচিত্র এবং বাংলা ছড়ায় ধরা তার কিছু মর্মকথা

    অন্তঃপুর শব্দটির অস্তিত্ব আজকাল অভিধানের বাইরে আর তেমন নেই । অন্তঃপুর বলতে ঠিক কি বোঝাতো তা যদি নতুন প্রজন্মের কেউ জানতেই চায়, তাহলে তাকে পুরোনো কালের গল্প উপন্যাস বা সেই সময়ে লেখা কোনো মহিলার আত্মকথা পড়া ছাড়া উপায় নেই। বাঙালির একান্নবর্তী পরিবারকে পটভূমি করে লেখা সেই অনবদ্য গল্প-উপন্যাসগুলো অবশ্য ততদিন বেঁচে থাকবে যতদিন না আমরা…

  • রেলপথের পাঁচালী 

    রেলপথের পাঁচালী 

    বাঙালির কাছে দুর্গা পুজোর সঙ্গে রেলগাড়ির সম্পর্ক অনেকটা বিয়েবাড়ির সঙ্গে লুচি ভাজার গন্ধের সম্পর্কের মতো। পুজো মানেই বাড়ি ফেরা, আবার পুজো মানেই বাড়ি ছেড়ে দাও ছুট। পুজো কাছাকাছি এলেই, উত্তরে না দক্ষিণে, পাহাড়ে না সমুদ্রে, নাকি স্রেফ শিমুলতলা, মধুপুর, কারমাটার, যাওয়া হবে এবার তাই নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে পলিটবুরোর মিটিং । মোদ্দা কথা পুজো মানেই একদল…

  • দিনান্তবেলার রক্তিম মরীচিকা

    দিনান্তবেলার রক্তিম মরীচিকা

    বর্ণান্ধতা এক ধরনের রোগ, যা সারা পৃথিবীতে পুরুষদের ক্ষেত্রে খুব বিরল রোগ নয়। অনেকে এই রোগ নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দেয় কিছু বুঝতে না পেরেই। সমস্যাটা বিশেষ করে বোঝা যায় ছবি আঁকতে গেলে। এই রোগ থাকলে সাধারণত লাল বা সবুজ রঙ ঠিক মত দেখতে পাওয়া যায় না। রবীন্দ্রনাথের নিজের ধারণা ছিল তিনি লাল রঙ ঠিক মতো…

  • বাঙালির জীবনচর্চায় ‘উদরবিভাগ’-এর উজ্জ্বল উপস্থিতি

    বাঙালির জীবনচর্চায় ‘উদরবিভাগ’-এর উজ্জ্বল উপস্থিতি

    খুব প্রাচীন কালের বাঙালির খাদ্যাভাস কেমন ছিল তা নিয়ে কোনো সুসংবদ্ধ নথি পাওয়া না গেলেও এটা বোঝা যায় ভাত খাওয়াটা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আর আদি-অস্ট্রেলীয় মূল জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি থেকেই প্রবাহিত হয়েছে বাঙালির মধ্যে। অস্ট্রিকরাই এ দেশে প্রথম চাষ-বাসের প্রচলন করেছিল। সেটা প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের কথা। আর্যরা চাষবাস করতে জানত না। তারা মূলত পশুপালক ছিল।…

  • আমাদের সাজ পোশাকে বাঙালিয়ানা- একটি অগোছালো অন্বেষণ

    আমাদের সাজ পোশাকে বাঙালিয়ানা- একটি অগোছালো অন্বেষণ

    যখন ইংল্যান্ডে প্রথম রেলগাড়ি চালানোর প্রস্তুতি চলছিল, তখন নানা মহল থেকে নানা রকমের প্রতিবাদ উঠছিল। লোকে নানা রকমের ভয় পাচ্ছিল। তার মধ্যে কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ ইংল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গ্ল্যাডস্টোনকে একটি চিঠি লিখে তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল এইভাবে এক জায়গার সঙ্গে আর জায়গা জুড়ে দিলে সেই জায়গায় দেশের স্থানীয় বৈশিষ্ট্যগুলি (staple of the country) নষ্ট…

  • বাঙালি-বিয়ের প্রথা এবং পরম্পরার প্রেক্ষাপট

    বাঙালি-বিয়ের প্রথা এবং পরম্পরার প্রেক্ষাপট

    একজন পুরুষ অথবা একজন নারী যখন সজ্ঞানে নিজেদের জন্য জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গিনী নির্বাচন করবে তার মধ্যে ধর্ম কেন এসে নাক গলাবে এ নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্য, পরম্পরা, বিশ্বাস, ইতিহাস, শিকড়, পুরুষানুক্রম এই রকম কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন চলে এসেছে তখন অন্য সব আধুনিকতার যুক্তিগুলি পিছু হটেছে। রয়ে গেছে যা আমাদের চিয়ায়ত,…

  • বটতলা থেকে কলেজ স্ট্রিট – বাংলা বইয়ের পথচলা

    বটতলা থেকে কলেজ স্ট্রিট – বাংলা বইয়ের পথচলা

    ন্যাথিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড সাহেবের ‘ অ্যা গ্রামার অফ দি বেংগলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ ছাপা হয়েছিল ১৭৭৮ সালে। বইটি ইংরেজিতে হলেও তাতে রামায়ন, মহাভারত, বিদ্যাসুন্দর ইত্যাদি বাংলা বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল বাংলা হরফে। সেই হরফ তৈরি করেছিলেন উইলকিনসন নামের এক সাহেব। কিন্তু তারও বছর পাঁচেক আগে উইলিয়াম বোলটস নামের এক সাহেব অনেক পরিশ্রম করে বাংলা হরফ তৈরি…

  • ‘মধ্যবিত্ত বাঙালি ভদ্রলোক’-দের গেছে যে দিন সে কি একেবারেই গেছে …!

    ‘মধ্যবিত্ত বাঙালি ভদ্রলোক’-দের গেছে যে দিন সে কি একেবারেই গেছে …!

    আমরা যদি অভিধানে ‘ভদ্রলোক’ শব্দের অর্থ খুঁজতে যাই তা হলে যে সব অর্থ দেখতে পাবো তার সঙ্গে ‘ভদ্রলোক’ শ্রেণি বলতে আসলে যা বোঝায় তার যথার্থ মিল পাবো না। অথবা যা পাবো তা অন্ধের হস্তী দর্শনের মত। খন্ডিত অংশের আভাষ মাত্র। অভিধানে ভদ্রলোকের প্রতিশব্দ বোঝাতে কোথাও লেখা আছে – ‘ভালো আচরণসম্পন্ন ব্যক্তি’ কোথাও বা ‘সজ্জন’ কোথাও…