শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

Tag: Editorial

  • ক্রমবর্দ্ধমান বিষাক্ত ক্ষত

    ক্রমবর্দ্ধমান বিষাক্ত ক্ষত

    প্রাগৈতিহাসিক যুগ হইতে মানব সভ্যতার অন্তহীন পথ পরিক্রমণ। যূথবদ্ধ গুহাবাসী তৎকালীন মানব, অন্যান্য পশুদিগের ন্যায় নিজ অস্তিত্ব সংরক্ষণেই কালাতিপাত করিয়াছে। প্রতিদিনের খাদ্য সংগ্রহ হইতে, আপন গোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিম্বা অন্যান্য প্রজাতির আক্রমণ হইতে রক্ষা এবং পরবর্তী প্রজন্মকে পৃথিবীতে আনয়ন এবং প্রতিপালন করিয়া নিজ নিজ বংশধারা সচল রাখিবার নূন্যতম কার্যটুকু নির্বাহ করিয়া আসিয়াছে। ইহা পৃথিবীর অপরাপর…

  • হে মহাজীবন, একবার এসো ফিরে…

    হে মহাজীবন, একবার এসো ফিরে…

    ক্যালেন্ডারের পাতায় পয়লা জুলাই দিনটি প্রতি বছর তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দিনটা তো তাঁর চলে যাবার দিনও বটে। একই দিনে জন্ম এবং মৃত্যু— এমনই এক অদ্ভুত সমাপতন। আশি বছরের একটি অনন্য জীবন। ঠাকুমা আদর করে নাম রেখেছিলেন ‘ভজন’। ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র তাঁর নাম দিয়েছিলেন ‘বিধান’, যিনি উত্তরকালের একমেবাদ্বিতীয়ম ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়। পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও…

  • “তবু অশুভ বাক্য নয়…”

    “তবু অশুভ বাক্য নয়…”

    “আমি খুবই দারিদ্র্য! কিছু সাহায্য করুন।”সাহায্যপ্রার্থী মানুষটি লোকমুখে শুনিয়াছিল, বিদ্যাসাগর মহাশয় মহাপন্ডিত এবং অতি দানশীল, ওঁনাকে প্রভাবিত করিতে কিঞ্চিত প্রমিত ভাষার অবলম্বন করিয়াছে। কিন্তু পেটে বিদ্যা না থাকিলে যাহা হয়, বিশেষ্য বিশেষণে গোল বাধিয়া গেল। ইহাতে ফল যাহা অবশ্যম্ভাবী, তাহাই ঘটিল। বিদ্যাসাগর মহাশয় ভর্ৎসনা করিয়া কহিলেন “তা আপনার আ-কার দেখেই বোঝা যাচ্ছে।”এই গল্পটি মহাজনের জীবনের…

  • স্বেচ্ছাচার কবলিত রবীন্দ্রসঙ্গীত

    স্বেচ্ছাচার কবলিত রবীন্দ্রসঙ্গীত

    নিজের গান সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘এই পার্থিব জীবন ও পৃথিবীর মানুষকে আমি ভালোবেসেছি। এই ভালোবাসা রেখে গেলাম আমার গানের সুরে গেঁথে। মানুষ যদি মনে রাখে, তবে এই গান দিয়েই রাখবে।’ কবির প্রয়াণের পর চুরাশিটি শ্রাবণ অতিক্রান্ত। ইতিমধ্যে বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির জগতে ঘটে গেছে আমূল পরিবর্তন, অনেক ভাঙচুর, অনেক পুনর্নির্মাণ। আধুনিক ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে…

  • ক্ষণিকম ক্ষণিকম সর্বং ক্ষণিকম!

    ক্ষণিকম ক্ষণিকম সর্বং ক্ষণিকম!

    দেশভাগ এক নির্মম সত্য। এই সত্যকে মানিয়া লইয়া ভারতীয়রা নিজনিজ অস্তিত্বকে পুনর্গঠন করিয়া উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের পথে আগুয়ান। তন্মধ্যে দুরারোগ্য ব্যাধির ন্যায় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি হানা দিয়া দেশের সুস্থিতি চূর্ণ করিয়া দিতেছে। সেই শক্তিকে নিয়মিত ইন্ধন যোগাইতে প্রস্তুত বিভাজিত অপর অংশটি। তাহাদের মনে শত্রুতা ভিন্ন বিকল্প কোন ভাবনা বিকশিত হইতে পারে নাই। পুরাতনকে বিগত ভাবিতে তারা অপারগ।…

  • “ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা…

    “ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা…

    ছুটি হইয়াছে। সারাদিনের বৈচিত্র্য বিহীন কাজের উপান্তে পুরুষটি নিজ স্থান হইতে বাটির উদ্দেশে বাহির হইল। শরীরে এখনও নিরাপত্তা রক্ষীর বেশ। এক নিমেষ দেখিলে নিতান্তই বেমানান প্রতীয়মান হয়। তথাপি তাহার আনন্দে কৃপণতা নাই। সঙ্গে থাকা পানীয় জলের বোতলটি বাজাইতে বাজাইতে চলিয়াছে। প্রকান্ড শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিপণি ক্ষেত্রটির শেষ প্রান্তে পোশাক পরিবর্তনের স্থান। বর্তমানে কর্তব্যরত প্রহরী সদ্য মুক্ত…

  • মানব সভ্যতায় বেগ ও আবেগ

    মানব সভ্যতায় বেগ ও আবেগ

    বিগত শতকের চারের দশকে দিল্লির ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক পটভূমিতে লেখা সাড়া জাগানো গ্রন্থ ‘দৃষ্টিপাত’-এ ‘যাযাবর’ ছদ্মনামের আড়ালে খ্যাতিমান সাংবাদিক-সাহিত্যিক বিনয় মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন – “আধুনিক বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ। তাতে আছে গতির আনন্দ, নেই যতির আয়েস।” মন্তব্যটি বিগত আট দশক ধরে সাহিত্য-পিপাসু বাঙালির মনের মণিকোঠায় আজও সজীব, যা আলাপে আলোচনায় প্রবন্ধে নিবন্ধে অতি ব্যবহারেও…

  • চড়ক ও চৈত্র-সেল

    চড়ক ও চৈত্র-সেল

    পুনরায় চৈত্র আসিয়া পড়িল। বাংলার মানুষের শীত এবং বসন্তের আতিশয্য কাটিতে না কাটিতে যাবতীয় দাবদাহর প্রতিশ্রুতি লইয়া তিনি প্রকৃতি মঞ্চে আবির্ভূত হন। বাজারে নতুন পঞ্জিকা আসিয়া গিয়াছে। পলাশ শিমূলের রঙে রুদ্ররূপের প্রস্তুতিও অনুভূত হয়। কিছুকাল পূর্বেও গাজন সন্ন্যাসীদিগের সুর করিয়া “বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে, মহাদেব” শব্দবন্ধ পাড়ার অলিতে গলিতে ধ্বনিত হইত। গৃহস্থ বাড়ি হইতে…

  • বিশ্বাস, ভক্তি, প্রাপ্তি ও কিছু প্রশ্ন

    বিশ্বাস, ভক্তি, প্রাপ্তি ও কিছু প্রশ্ন

          পুরাকালে, যেন বহু জন্মের আগে, সুর ও অসুর, সৎ ও অসৎ, দু’টি পক্ষ ক্ষীরসমুদ্র মন্থন করেছিল অমৃত কুম্ভের সন্ধানে। সেই মহামন্থনের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল হলাহল, যা ধারণ করে নীলকণ্ঠ হলেন মহাশিব। আর অমৃত? সে যে শত সাধনার ধন! সবটুকু কালকূট কেবল মহাদেবের জন্য নির্ধারিত হলেও মৃত সঞ্জীবনী সুধা অমৃতের ভাগ ছাড়তে তো দিতি বা…

  • ধর্ম

    ধর্ম

    “ধর্ম এব হতো হন্তি ধর্ম রক্ষতি রক্ষিতঃ।” মহাভারত বন পর্ব! অর্থাৎ , ধর্মকে তুমি রক্ষা করিলে, ধর্ম তোমাকে অবশ্য‌ই রক্ষা করিবে । পক্ষান্তরে যদি তুমি ধর্ম হইতে বিচ্যুত হ‌ও, তবে ধর্ম‌ই তোমাকে নির্মমভাবে বিনাশ করিবে। অতএব সর্বদা ধর্মের পথে বিরাজ।  যাহা ধারণ করে তাহাই ধর্ম। এক্ষণে প্রশ্ন জাগ্রত হয়, কী ধারণ করে? একক মানব চেতন…