Tag: Editorial

যুদ্ধ এবং শান্তি
“অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ–পৃথিবীতে আজ, যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা; যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই, প্রীতি নেই, করুণার আলোড়ন নেই পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া। – জীবনানন্দ কবি তাঁর সময়কালের পৃথিবীর এক জ্বলন্ত সত্যের মুখোমুখি আমাদের দাঁড় করিয়েছিলেন, যে সত্য আজও বহমান। একথা সর্বজনবিদিত যে মানব সভ্যতার উন্মেষ থেকেইযুদ্ধ মানুষের নিত্যসঙ্গী।সভ্যতার সেই ঊষাকালে মানুষের সংসারজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনের ভাবনা ছিল সুদূরপরাহত। বহুকোটি বছরের ঘাত-প্রতিঘাত ও অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে যাচাই হতে হতে পরিবর্তন ও পরিমার্জনে বিকশিত হয়ে উঠেছিল…

বিপন্ন বিস্ময়
শব্দরাজি ছুটিয়া বেড়ায়। হৃদয়ে, শোনিতে, মজ্জায়, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে। তাহার নিস্তার নাই। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় সম্মোহিত পাঠকের অনুরূপ অবস্থা। কিয়ৎকাল ভাবনায় প্রতিভাত হইতে পারে, স্বাভাবিক জীবনে আগ্রহ হউক। এক্ষণে জ্ঞানলাভ আবশ্যিক হইয়া পড়ে, স্বাভাবিক বলিতে কী প্রতীয়মান হয়? আর পাঁচজন যেমন করিয়া বাঁচিয়া রহিয়াছেন, প্রত্যহ বাজার করিয়া, রান্না চড়াইয়া, সন্তানের জন্ম দিয়া, অতঃপর সন্তান প্রতিপালনহেতু কর্ম…

মেলা বই, বইমেলা
‘বই’ আবিষ্কারের পর সেই আদ্যিকাল থেকে এই ছোট্ট দু’বর্ণের শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে থেকেছে পাঠক-হৃদয়ের যাবতীয় কৌতূহলের উদ্দীপনা, জ্ঞানস্পৃহা, ভালবাসার আবেগ, বৌদ্ধিক চর্চার উপকরণ। বই যেন এক গুপ্তধনের ভান্ডার, যা আবহমানকাল ধরে হাতছানি দিয়ে ডেকে চলেছে পাঠককে, ঝড় তুলে চলেছে উৎসুক মানুষের মনোবীণার তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে। মনের গভীরে বিষয়কে দ্রব করতে, মস্তিষ্কে ও মননে নিষিক্ত করতে, স্থায়িত্ব…

সালতামামি
বঙ্গদেশে শীত আসিয়া পড়িল। সম্বৎসর উষ্ণতা ও আর্দ্রতা লইয়া বিব্রত বাঙ্গালী, আবহাওয়ার এই তৃপ্তি উপভোগ করিবার উপলক্ষে, তাহার যাবতীয় গরম পোশাক জমাইয়া রাখিয়াছেন। কিছুকাল পূর্বেও গৃহস্থ বাড়ির অঙ্গনে প্রাক শীতের দ্বিপ্রাহরিক রৌদ্রকরজ্জ্বল অঘ্রাণ সুখ গায়ে মাখিয়া, তোরঙ্গ উদ্ঘাটিত রঙিন পশমের রকমারি শাল, সোয়াটার, কমফর্টার, দস্তানা, হনুমানটুপি ইত্যাদি শোভা পাইত। ধুনুরিদের টঙ্কারে পুরান লেপ, নূতন হইত।…

বাঙালি জাতিসত্তা ও অস্মিতা
সম্প্রতি বাঙালির জাতিসত্তা ও বাঙালি অস্মিতা শব্দবন্ধদুটি প্রায়শই উঠে আসছে সংবাদের শিরোনামে। বলা বাহুল্য, কারণটা মূলত রাজনৈতিক। বর্তমান সময়ে বাঙালির জাতিগত সফলতা-অসফলতা ও সুনাম-দুর্নামকে সামনে রেখে ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা। এই প্রসঙ্গে বিশেষত দুটি প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রথমত, জাতিসত্তা ও অস্মিতা কি? দ্বিতীয়ত, আজকের সময়ে এই শব্দ দুটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কাছে বাঙালিকে…

ধর্ম ও জিরাফ
যে ত সর্বাণি কর্মাণি ময়ি সংন্যস্য মৎপরাঃঅনন্যেনৈব যোগেন মাং ধ্যায়ন্ত উপাসতে।।তেষামহং সমুদ্ধর্তা মৃত্যুসংসারসাগরাৎভবামি ন চিরাৎ পার্থ ময্যাবেশিতচেতসাম।। যে সকল মানুষ সমস্ত কর্ম আমাতে সমর্পণ করিয়া থাকেন, আমাকে আশ্রয় করিয়া অনন্য যোগ সহকারে আমার ধ্যানে নিরত হইয়া উপাসনা করিয়া থাকেন, হে পার্থ, আমি আমার উপর স্থির-চিত্ত সেই সকল মানুষকে, এই মৃত্যুসঙ্কুল সংসার সাগর হইতে অচিরেই উদ্ধার…

অমল ধবল পালে লেগেছে…
বাংলার ঋতুচক্রে শরতের আগমন যেন এক নিভৃত পদচারণায়। অগ্নিস্রাবী গ্রীষ্মের দাবদাহ ও রুদ্ররূপ, বর্ষার মেঘমল্লারের ঘনঘটা, আষাঢ়-শ্রাবণের বজ্র-মানিক দিয়ে গাঁথা ক্লান্তিহীন বারিধারা, তাদের ঋতুরূপ প্রকাশে যতটা উচ্চকিত, তার বিপ্রতীপে শরতের আলোছায়ার খেলা, প্রকৃতির প্রাণোচ্ছলতা, আকাশে-বাতাসে তার আবেশ অনেক বেশি শান্ত, মধুর ও স্নিগ্ধ। রূপবৈচিত্র্যে মনোরম। ধূলি-ধূসরিত, বিজ্ঞাপন-কণ্টকিত, ব্যস্ত জীবনচর্যার কোলাহল মুখরিত নগর-জীবনের গন্ডিতে হয়তো শরতের…

“…সে যে আমার জন্মভূমি”
আটাত্তর বৎসর পার হইল। মহাভারত বর্ণিত গান্ধার হইতে অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ প্রাগজ্যোতিষপুর প্রভৃতি, অথবা রাজা ভরতের সাম্রাজ্য কিম্বা জম্বুদ্বীপ নামক উপমহাদেশীয় ভূখন্ডের, যে অংশ বিশেষটি, কাটিয়া কুটিয়া আমাদিগের ‘হাতে রহিল পেন্সিল’-এর ন্যায় আসিয়া পৌঁছাইল, তাহাই আমাদিগের মাতৃভূমি, বর্তমান ভারতবর্ষ। বহির্বিশ্বের হাতি, সাপ, মশলা, জাদু-র দৃষ্টিকোণ হইতে পৃথক স্বীয়কীর্তি প্রতিষ্ঠার আধুনিক যাত্রাপথ সৃষ্টি হইল এইদিনে। বহু…

“কোথায় আলো, কোথায় ওরে আলো?”
যে প্রশ্নটা প্রায়শই আমাদের মনে ভাবনার উদ্রেক করে তা হল, দেশের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও শিক্ষাব্যবস্থার সম্পর্কটা ঠিক কী রকম হওয়া কাঙ্খিত? আমরা জানি, এই দুটিই জাতির পক্ষে অপরিহার্য এবং আপাতদৃষ্টিতে ধারা দুটির চলন সমান্তরাল রেখার মতো হওয়াই কাম্য। কিন্তু অন্য দিক দিয়ে অস্বীকার করার উপায় নেই যে দেশের শিক্ষা পরিকাঠামো দেশের শাসনব্যবস্থার অঙ্গ। শিক্ষাব্যবস্থার আধার…

