Tag: Bengali Culture
বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৮)
নির্মলকুমার বসু একজন পন্ডিত কীর্তিমান,নৃতত্ত্ব, সমাজতত্ত্বে তাঁর বিপুল অবদান।।তাঁর আরো আগ্রহের বিষয় মন্দির-স্থাপত্য,লোকসংস্কৃতি নগরবিজ্ঞান এবং প্রত্নতত্ত্ব।।আরো কত বিদ্যায় যে তাঁর বিচিত্র গবেষণা,সকল কার্যেই মানবকল্যাণ তাঁর ধ্রুব প্রেরণা।।ভারতের সংস্কৃতির ধারায় যে পরিবর্তন —নৃতত্ত্বের আলোয় তিনি তার করেন বিশ্লেষণ। মানুষকে জানতে ও বুঝতে চালান অন্বেষণ,পায়ে হেঁটে করেন তিনি ভারত পর্যটন।।উদ্যোগে অক্লান্ত তিনি উদ্যম অফুরন্ত–ইংরেজি ও বাংলাতে তিনি…
ধর্ম
“ধর্ম এব হতো হন্তি ধর্ম রক্ষতি রক্ষিতঃ।” মহাভারত বন পর্ব! অর্থাৎ , ধর্মকে তুমি রক্ষা করিলে, ধর্ম তোমাকে অবশ্যই রক্ষা করিবে । পক্ষান্তরে যদি তুমি ধর্ম হইতে বিচ্যুত হও, তবে ধর্মই তোমাকে নির্মমভাবে বিনাশ করিবে। অতএব সর্বদা ধর্মের পথে বিরাজ। যাহা ধারণ করে তাহাই ধর্ম। এক্ষণে প্রশ্ন জাগ্রত হয়, কী ধারণ করে? একক মানব চেতন…
নিখিলেশ – তাঁর হৃদয়ের প্রতিবেশী
“আমিও দেশকে ভালোবাসি, তা যদি না হত তা হলে দেশের লোকের কাছে লোকপ্রিয় হওয়া আমার পক্ষে কঠিন হত না। সত্য প্রেমের পথ আরামের নয়, সে পথ দুর্গম। সিদ্ধিলাভ সকলের শক্তিতে নেই এবং সকলের ভাগ্যেও ফলে না, কিন্তু দেশের প্রেমে যদি দুঃখ ও অপমান সহ্য করি তা হলে মনে এই সান্ত্বনা থাকবে যে কাঁটা বাঁচিয়ে চলার…
গীতাঞ্জলি : উন্মেষ পর্ব
***গীতাঞ্জলি :স্বর্ণবীণায় নম্র উষারসুরের রেখা । গীতাঞ্জলি :দগ্ধ নিদাঘ স্তব্ধ বনেবাতাস একা।। গীতাঞ্জলি :আকাশ পথে সায়ন্তনীরস্বর্ণাভ রথ। গীতাঞ্জলি :ঝড়ের রাতে দুয়ার ভাঙারিক্ত বসত।। গীতাঞ্জলি :ঋতুচক্রের নুপুর নৃত্যেপদধ্বনি। গীতাঞ্জলি :পাহাড় চূড়োর পরমোজ্বলমুকুটমণি।। গীতাঞ্জলি :দিগন্তনীল পারাবারেসোনার তরী। গীতাঞ্জলি :মর্ত কাছে স্বর্গ যা চায়সেই মাধুরী।। প্রাসঙ্গিক তথ্য:গীতাঞ্জলির প্রথম প্রকাশ ২০এ ভাদ্র, ১৩১৭।১৩১৩ থেকে ১৩১৭র ২৯এ শ্রাবণের মধ্যে রচিত…
আকাড়া কিশোরী ও একটি নদী
‘….. আকাড়া কিশোরী যেন সেদিনের বসন্ত পঞ্চমীহাসি নেই, অশ্রু আছে, দুচোখে চাঁদের ছায়া স্মৃতি টানে, গোপন সাবানেজলজ গায়ের গন্ধ। চলে যায় মরি হায় বসন্তের দিন চলে যায়….’(একদিন, শৈশবে, সমুদ্রে: এই আমি, যে পাথরেঃ- শক্তি চট্টোপাধ্যায়) বসন্তপঞ্চমী এরকমই ছিল আমাদের সে বয়সে। বাসন্তী শাড়ি, লুকিয়ে চাওয়া, আতপচালের ছড়ানো সৌরভ, ছুটন্ত সাইকেলে ব্যস্ত পুরোহিত। আর, অন্যদিন যে…
‘মাংপবী’ মৈত্রেয়ী দেবীর সান্নিধ্য-সুখ
বিস্মৃতিচারণা (১১) সময়টা আশির দশকের একেবারে গোড়ার দিক। সম্ভবত ১৯৮১ সাল। আমার পিতৃদেবের আগ্রহে বাড়িতে আসতে লাগল মৈত্রেয়ী দেবীর একের পর এক অসামান্য সব গ্রন্থ। ‘ন হন্যতে’ পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। এরপর হাতে এল ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’। নেশা গভীর হল। আরও, আরও, আরও। এক মহীরুহর মানসকন্যার কলমে বিশ্ববরেণ্য কবির ব্যক্তিসত্তার অন্তরমথিত করা অনিঃশেষ উন্মোচন। পরের পর…
এত হাসি আছে জগতে তোমার…
একটি অসমর্থিত রসিকতা ঘুরে বেড়ায় পশ্চিম বঙ্গের আনাচে কানাচে। কিম্বদন্তী রাজনীতিবিদ শ্রদ্ধাস্পদ জ্যোতি বসু – হাসতেন না। সে সময়ের বাঙলা দেশের রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে শেখ মুজিবরের কন্যা নাম বললেন ‘শেখ হাসিনা’। জবাবে শ্রী জ্যোতি বসু না কি বলে ছিলেন ‘শেখবার কিছু নেই আমিও হাসিনা’। দুখিরামের মনে আছে এ রকম একটি পত্র যুদ্ধের অবতারণা…
বঙ্গজীবনের পাঁচালি : চোদ্দ শতক (৭)
সোনার বাংলার ইতিহাসের প্রসঙ্গে এখনধর্ম-আন্দোলনের কথা করিব বর্ণন।।ধর্মচর্চার সঙ্গে সঙ্গে জগতের কল্যাণরামকৃষ্ণ মিশনের ছিল বিশেষ অভিজ্ঞান।।শতকের শুরুতে হলে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ,ছিল স্বাস্থ্যচেতনা ও চিকিৎসার অভাব —বিবেকানন্দের নির্দেশে তাঁর শিষ্যগণদুর্গতদের সেবায় রত ছিলেন অনুক্ষণ।।কলকাতার পথঘাট ও পল্লী জঞ্জাল পরিকীর্ণ,ঝাড়ু হাতে নিবেদিতা সেথা হন অবতীর্ণ।।সদানন্দের সঙ্গে তিনি অকুণ্ঠিত চিতেচিকিৎসার পরিষেবা দেন পল্লীতে পল্লীতে।।দুর্ভিক্ষের প্রকোপে উত্তরবঙ্গে, বৈদ্যনাথেরামকৃষ্ণ সংঘের…
হাসির সাতকাহন ও বাঙালি
মানুষের অভিব্যক্তির সর্বোত্তম প্রকাশ হাসিতে। প্রফুল্লতা, আনন্দ, উচ্ছ্বাস হইতে শুরু করিয়া বেদনা, যন্ত্রণা, দুঃখ পর্যন্ত নানা আঙ্গিকের হাসির রকমফেরে আবেগের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যে হাসিতে জানে, হাসিকে মূলধন করিয়া বন্ধুত্বের বন্ধনীতে বাঁধা পড়ে। হাসির স্বপক্ষে সর্বাপেক্ষা বড় যুক্তি বোধহয় ইহাই যে হাসির আবেদন সার্বজনীন, দেশ-কাল, এমনকি ভাষা-নিরপেক্ষ। দেশ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে…