Tag: Article

গুড়ের আমি গুড়ের তুমি গুড় দিয়ে যায় চেনা
পাটালি গুড়ের কথা মনে আছে? সেই হারিয়ে যাওয়া গুড়ের কথা বলছি। অর্ধেক গোলকাকৃতির হালকা লালচে একটা পাটা থেকে এক টুকরো ভেঙে নিয়ে মুখে পুরে দাও। আহা! স্বর্গ যেন জিভের ছোঁয়ায়। সকালের টিফিনে দুধরুটি। সাথে কয়েক টুকরো পাটালি। কিংবা শুধু রুটি সাথে আর কিচ্ছুটি চাইনা। একটা বড় ফিটকিরি সাইজের পাটালির টুকরো। সন্ধেবেলায় মুড়ির আড্ডা। সাথে পাটালি।…

“জাগরী” ও তার লেখক
কিন্তু ফাঁসির আগের আশংকায় ভরা রাতটি চারজনের কেমন কেটেছিল তা সহজেই অনুমেয়। অন্তরঙ্গ আত্মীয়তায় আবদ্ধ কিন্তু নিঃসঙ্গ চারজন মানুষ সেই রাত্রির দুঃসহ অন্ধকার থেকে ফিরে তাকায় তাদের অতীতের দিকে। যে অতীত ক্ষমাহীন বর্তমানের কাছে কত স্নিগ্ধ ও সান্ত্বনাময়। একটি রাতের কালো কষ্টিপাথরে তাদের সমগ্র জীবনকে বিচার করে তারা ।

রবীন্দ্রনাথ-গীতাঞ্জলি–ইয়েট্স্ঃ কোলাহল তো বারণ হল (পর্ব – ২)
প্রথম পর্বের পর… আমরা তো পূর্বে দেখেছি রোটেনস্টাইন কর্তৃক প্রদত্ত গীতাঞ্জলির প্রাথমিক খসড়ার টাইপ-কপি ইয়েট্স্ সঙ্গে নিয়ে ঘুরতেন বাসে-ট্রেনে পড়ার জন্য; আমরা তো এটাও শুনেছি, ৭ জুলাই ট্রেকাডেরা রেস্তোরাঁয় কবিতা পাঠের আসরে রবীন্দ্রনাথের কবিতা সম্পর্কে ইয়েট্সের কী উচ্ছ্বসিত প্রশস্তি! তা হলে পরে কী কারণে ঘটল ইয়েট্সের মতিভ্রম? গীতাঞ্জলি সম্পর্কে কী তাঁর অভিযোগ? জানলাম, ১৯৬৭ সালে…

ধর্মমোহ
আমি ব্রাত্য, আমি মন্ত্রহীন, দেবতার বন্দীশালায় আমার নৈবেদ্য পৌঁছল না। পূজারী হাসিমুখে মন্দির থেকে বাহির হয়ে আসে, আমাকে শুধায়, “দেখে এলে তোমার দেবতাকে?” আমি বলি, “না।” অবাক হয়ে শুনে বলে, “জানা নেই পথ?” আমি বলি, “না।” প্রশ্ন করে “কোনো জাত নেই বুঝি তোমার?” আমি বলি, “না।” ” রবীন্দ্রনাথ / পত্রপুট উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া বলেই ধর্মটাকে…

ভাবনা কাহারে বলে?
[প্রাককথনঃ – এই লেখায় কোন শব্দ কী অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটা পরিষ্কার করে নেওয়া যাক। এখানে বুদ্ধি, হৃদয়, মন, সংস্কার প্রভৃতি শব্দগুলি এসেছে। বুদ্ধি জিনিসটা হৃদয় ও মনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত হলেও ধর্মে আলাদা। বুদ্ধি একাধারে মন ও হৃদয়ের ধারক। বুদ্ধি তার ব্যাপক কর্মকাণ্ডের জন্য একটা শক্তপোক্ত ভাঁড়ার রক্ষা করে। এই ভাঁড়ারটি হল স্মৃতি। এই…

এলোমেলো যা মনে এলো
(১) “কাহৈরি ঘিণি মেলি । অচ্ছহু কীস ।বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ।।আপনার মাংসেঁ হরিণা বৈরী ।খনহ ন ছাড় অ ভুকু অহেরী ।।” চর্যাপদ। মাত্র ১০০০ বছর আগের বাংলা ভাষা ।আজ মৃত, বাঙালি এই ভাষায় আজ কথা বলে না, এমনকি ভাষাবিদ ছাড়া অন্যে বোঝেও না। অর্থাৎ এ ভাষার মৃত্যু হয়েছে এবং মাত্র ১০০০ বছরের মধ্যে ।৬০০-৬৫০…

বাংলা গানের উজ্বল কারিগরেরা (পর্ব ৬)
কোনো নিবিড় অরণ্যভূমিতে, যেখানে বৃহদায়তন বনস্পতিরা ডালপালা ছড়িয়ে আকাশ ঢেকে রাখে, সেখানেও বনানীর ফাঁক-ফোকর দিয়ে আসা সূর্যের আলোর ছোঁয়া, মাটিতে মাঝারি বা ছোট গাছ, এমনকি লতাগুল্মেরও জন্ম দিয়ে, তাতে ফুল ফুটিয়ে, ফল ফলিয়ে অরণ্যের শোভা বাড়িয়ে তোলে।

হন্যমান স্বদেশ ও একজন কবি
ঊনিশশো পঁচাত্তর সালে প্রথম হরমন্দির সাহিব পরিসরের একপাশে প্রায় লুকিয়ে থাকা জালিয়াঁওয়ালাবাগের ভাঙাচোরা গলিতে পা রেখেছিলুম। ভিতরে কোটা’র লালপাথরের অমরজ্যোতি ছাড়া আর কোনও নির্মাণ ছিলো না। সামান্য কেয়ারি করা কিছু তৃণভূমি, নিস্তব্ধ পদচারণায় অন্যমনস্ক কিছু মানুষ। অন্যপ্রান্তে একটি শুকিয়ে যাওয়া কুঁয়োর উপর ধূসর ছত্রির আচ্ছাদন। পর পর জীর্ণ দেওয়াল জোড়া অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন। থ্রি নট থ্রি…

আমি, আমরা আর রবীন্দ্রনাথ
এই লেখার কেন্দ্রে চার সদস্য রয়েছে – আমি, আমরা, তুমি এবং রবীন্দ্রনাথ। বাজার ছাড়া সমাজের সর্বত্র, এমনকি এই পত্রিকাতেও এই চার চরিত্র হাত ধরাধরি করেই আছে। বাজারে অবশ্য কেউ কারুর নয়। চলুন, ঢুকে পড়া যাক এই চার সদস্যের মাঝখানে। শুরুতে যে কথাটা ব’লে নেওয়া ভালো, তা হলো, ব্যক্তি যেমন নিজের ‘আমি’কে খুঁজছে প্রতি মুহুর্তে, তেমনি…

রবীন্দ্রনাথের ব্যতিক্রমী দুটি গ্রীষ্মসঙ্গীত
গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে আলোচনার জন্য বেছে নিলাম দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত।রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি পর্যায়ের ২৮৩ গানের মধ্যে গ্রীষ্ম উপপর্যায়ের গানের সংখ্যা মাত্র ১৬। যেখানে বর্ষাসঙ্গীত ও বসন্তসঙ্গীতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১৪ ও ৯৬। রবীন্দ্রনাথ গ্রীষ্মের গান লিখতে শুরু করেন ৫৮ বছর বয়স থেকে।রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে গ্রীষ্মঋতুকে প্রত্যক্ষ করেছেন মূলত দুটি দৃষ্টিকোন থেকে। কখনও কখনও গ্রীষ্মকে তিনি অনুভব…
