Category: গল্প

ইতিহাস
রত্না এসে ওষুধটা রামকিঙ্করের সামনে রেখে বলল — “খেয়ে নাও এটা”। রামকিঙ্কর অন্য কথা ভাবছিলেন, কারণ তিনি জানেন, অসুখের কথা ভেবে সুখ নেই । অসুখ তাঁর সারবার নয়। তিনি ভাবছিলেন তাঁর আরদ্ধ সেই বিরাট কাজের কথা— যা, তিনি শেষ করে যেতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই হয়তো তাঁকে মরতে হবে । রামকিঙ্কর ইতিহাসবেত্তা। আরও অনেক ইতিহাসবিদের…

নাথ হে, প্রেম পথে সব বাধা…
জয় তব বিচিত্র আনন্দ, হে কবি জয় তোমার করুণা। (ফোঁস, ফোঁ ……স, ফোঁস) ‘তোর কি ব্যাপার বল তো অমিত ? তখন থেকে দেখছি খালি দীর্ঘ নিশ্বাসে ফুলদানীর ফুল কাঁপিয়ে দিচ্ছিস। বলি হয়েছেটা কি?’ ‘তুই বৈকুণ্ঠের খাতা পড়েছিস?’ ‘কে বৈকুণ্ঠ? আমাদের অফিসে তো কেউ নেই। ও কি হেড অফিসের লোক। তাছাড়া সে তার খাতায় কি লিখেছে…

স্বপ্ন
(১) এতক্ষণে চারপাশটা একটু খালি হওয়াতে কাজে বেশি করে মন দিতে পারলো অর্ণব। চার মাসের প্রজেক্টের অন্তিম পর্ব চলছে। নামী ইন্সুরেন্স কোম্পানির নতুন পেমেন্ট অ্যাপ বানানোর বরাত পেয়েছে অর্ণবদের আই টি কোম্পানি। এই ইন্সুরেন্স কোম্পানির বাজার-চলতি জনপ্রিয় প্রোডাক্টগুলোর প্রিমিয়াম যাতে সহজে খুব নিশ্চিত ভাবে অনলাইনে পেমেন্ট করা যায় তার প্রজেক্ট। সফলভাবে এই পেমেন্ট পোর্টাল চালু…

বিষধর
“গতর নড়ে না মোটে! পুরুষ মানুষ এত বেলা অবধি বিছনায় না গড়িয়ে, একটু বাজারের দিকে গেলে তো পারো।” সকাল সকাল লবঙ্গর ঝাঁজে ঘুম ভাঙে মনতোষের। “জন্মানোর পর, তোর জিভে কি একটু মধু দেয় নি কেউ?” কথাটা মনে মনেই বলে মনতোষ। লবঙ্গর মুখের ওপর কথা ফোটানোর সাহস বা সুযোগ, কোনটাই নেই। কিছু বলা অর্থ, আগুনে ঘি…

একদিন চাঁদনি রাতে
কৃষ্ণপক্ষের রাত।চারিদিক নিকষ কালো অন্ধকার। একফালি শীর্ণকায় চাঁদটিকে আর দেখা যাচ্ছে না। পাগলা কোকিলটার ডাকে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল। জেগে জেগে আকাশকুসুম ভাবছি। ভাবছিলাম এখানে যদি একটা ঠিকঠাক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকত, রাত-বিরেতে মানুষের সুরাহা হত। গাড়ি ভাড়া করো, তারপর মাইলের পর মাইল কাতরাতে কাতরাতে সদরের কোনো হাসপাতালে। এখানেই শেষ নয়, কেস ক্রিটিক্যাল হলে রেফার। সদর থেকে…

সহস্রপদ্ম
“এটা কী গো বিশুদা? কী যেন বলছিলে সেদিন তোমার কাছে নাকি কয়েকটা মুখশুদ্ধি আছে? তাও নাকি আবার তিব্বতের কোন সাধুবাবার কাছ থেকে পাওয়া! এই সেই বস্তুটি বুঝি? কৈ দাও দেখি একটু টেস্ট করে দেখি!”ডাইনিং টেবিলে রাখা মাঝারি মাপের একটা পাউচ ব্যাগ তুলে বিশুদার দিকে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলাম। প্রতি রবিবার লাঞ্চের পর বিশুদার বাড়িতে এই দুপুরের…

বিলাসীর বিলাস
আনন্দময়ী মায়ের থানে, বুকের আঁচলটাকে বেশ করে বিছিয়ে নিয়ে দুই মেয়েকে কোলের ভাগে বাগিয়ে নিয়ে শুয়েছিল বিলাসী। অকালবিধবা বিলাসী এই সবে তার স্বামীটাকে খেয়েছে। না মানে গ্রামের খুড়ি কাকীরা তাই বলেছে ওকে। সে যাই হোক, বিলাসী জানে সত্যিটা। যেদিন ওর ওই তিন বছরে বিয়া করা স্বামী ট্রাকের সঙ্গে সাইকেলের ধাক্কায়, হঠাৎ মারা গেলো, সেদিন বিলাসী…

ফুল্ল কুসুমিত
কিছু মাটি আর কিছু জলের মধ্যে খুব ভাব হয়ে গেল। জলের ভালো লাগল মাটিকে। মাটিরও জলকে। দুজনে ঠিক করল তারা একসঙ্গে অনন্ত বাঁচবে। কিন্তু কী করে বাঁচবে তারা একসঙ্গে? মাটি বলল – আয় জল তোকে আমার পেটে পুরে নিই। তাপ্পর দুজনে পুকুর হয়ে যাই। আমরাও বাঁচব। মানুষেরও উপকার হবে। জানিস তো! মানুষ জীবজগতের শ্রেষ্ঠ জীব।…

বিলু শকুন
বোসদের পুরানো আমলের বাড়ি। বাড়ি না বলে প্রাসাদ বলা চলে। এখন তার ভগ্নদশা। সদর দরজার লম্বা কাঠের পাল্লা একদিকে খসে পড়েছে বহুকাল। অন্যদিকে একটা ছোট কোলাসিবল গেট দেওয়া হয়েছে। বাড়ির ফটকটাই একটা ঘরের মতো, রাস্তার দিকে প্রায় বিশফুট আর ভিতর মহলেও তিরিশ ফুট মতো লম্বা। ডানে বাঁয়ে বৈঠকখানা আছে। ওপরে বাহারি ছাদ। ভিতর মহলের দিকেও…

