Category: প্রবন্ধ

সুকুমার রায় ও বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতি – প্রয়াণ শতবর্ষে ফিরে দেখা
সুকুমার রায় সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ একদা লিখেছিলেন, “…তাঁর স্বভাবের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির গাম্ভীর্য ছিল, সেজন্যই তিনি তাঁর বৈপরীত্য এমন খেলাচ্ছলে দেখাতে পেরেছিলেন।” যে ধরণের বৈপরীত্য সুকুমারের খেয়াল-রসসিক্ত রঙ্গসাহিত্যের মুখ্য উপজীব্য, তার পেছনে বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিসঞ্জাত কোনো গাম্ভীর্যের ক্রিয়া নিহিত ছিল, এমন কথা বললে প্রথমে তা’ কিছুটা স্ববিরোধী শোনাতেই পারে। তার প্রধান কারণ, আমরা সুকুমারের এ ধরনের তাবৎ…

রবীন্দ্রনাথের গানের “অধরা মাধুরী”
রবীন্দ্রনাথের গানের “অধরা মাধুরী”/আবু সাঈদ ফিরোজসহজে ধরা যায়না, ছোঁয়া যায়না এমন একটা অধরা মাধুরী আছে রবীন্দ্রনাথের গানে। রবীন্দ্র-তাত্ত্বিকেরা প্রায়শই রবীন্দ্রনাথের গানের এই বিশিষ্টতাকে পাণ্ডিত্যের বেড়াজালেই আটকে রাখতে পছন্দ করেন। তাঁদের দৃষ্টিতে রবীন্দ্রনাথ বাঙালি তথা ভারতীয় হয়েও ছিলেন বিশ্বনাগরিক। ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে ধারণ করেও বিশ্বের যা কিছু সত্য, যা কিছু সুন্দর তা আজীবন গ্রহণ…

আলপনাঃ এক আলংকারিক অন্বেষণ
‘আলপনা’ শব্দটির সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ অনুভূতি জড়িয়ে আছে। আলপনা বলতেই সাধারণত আমাদের মনের ছবিতে ভেসে ওঠে একটি দৃশ্য– গোবর নিকোনো মাটির ওপর কোনো রমণী চালগোলার বাটিতে আঙুল ডুবিয়ে সাদা রেখার টানে কিছু নকশা ফুটিয়ে তুলছে। এ দৃশ্যের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকের আছে। আমাদের মা, দিদিমা, পিসিমা বা ঠাকুমা কাউকে না কাউকে এভাবে আলপনা দিতে…

‘নিজের সুর দেওয়া গান’
‘নীরব রজনী দেখো মগ্ন জোছনায়’, ‘বলি ও আমার গোলাপবালা’, ‘আঁধার শাখা উজল করি এবং ‘শুন নলিনী খোলো গো আঁখি’, এই গানগুলি রবীন্দ্রনাথ লেখেন আমেদাবাদে। ১৮৭৮ সালে, প্রথমবার বিলেত যাবার আগে কিছুটা সময় রবীন্দ্রনাথ আমেদাবাদে কাটান। আমেদাবাদ তাঁর মেজদাদা সত্যেন্দ্রনাথের কর্মস্থল তখন। ১৮৭৬ এর এপ্রিল থেকে এখানে ডিস্ট্রিক্ট্ অ্যান্ড সেশন্স জজ হিসাবে নিযুক্ত হন সত্যেন্দ্রনাথ। সত্যেন্দ্রনাথের…

আকাশে আকাশে…
রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি, বিশেষত তাঁর গান জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তে, বিভিন্ন পাঠক শ্রোতার কাছে যে আবেদনবৈচিত্র্য নিয়ে ধরা দেয়, অন্তহীন সেই পরিব্যাপ্তির তুলনা চলে শুধুমাত্র আকাশেরই সঙ্গে। রবীন্দ্রসৃষ্টিরসধারায় অবগাহনে মহাকাশ পরিক্রমার আনন্দ। রবীন্দ্রনাথের দূরবিস্তৃত আনন্দগানের যাত্রাপথের শুরুতেও আকাশ, শেষেও আকাশ। কথাটা আলঙ্কারিক অর্থে নয়, পুরোপুরি আক্ষরিক অর্থেই সত্য। রবীন্দ্রনাথের প্রথম গানের প্রথম কথা “গগন” এবং শেষ গানের…

প্রতিপক্ষের নাম রবীন্দ্রনাথ
এত বড় একটা জীবন, এত রকমের কর্মকাণ্ড, দিকবিদিকে এত পরিব্যাপ্ত এবং বিচিত্র সৃজনের ভান্ডার, দেশে-বিদেশে এত বিবিধ ঘটনার মধ্যে তাঁর কিছু স্বেচ্ছায়, কিছু অনিচ্ছায় জড়িয়ে পড়া, কত রকম বিতর্কিত issue তে তাঁর নিজস্ব অভিমতকে দেশে বিদেশে নিঃসঙ্কোচে উপস্থাপিত করা, একটি ব্যাতিক্রমী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য থেকে একক প্রচেষ্টায় একটু একটু করে গড়ে তোলা, বড় সড় একটা জমিদারী…

সত্যজিতের দুই অসামান্যা
সত্যজিৎ রায়। নামটি উচ্চারিত হলেই বাঙালি তথা সমগ্র বিশ্বব্যাপী আপামর চলচ্চিত্রপ্রেমীর মননেই ছ’ ফুট চার ইঞ্চির এক শালপ্রাংশু পুরুষের প্রতিকৃতি ভেসে ওঠে যাঁর কর্মকাণ্ডের দৈর্ঘ্য তাঁর শারীরিক উচ্চতাকেও ছাপিয়ে যাওয়া শুরু করেছিল সেই বিংশ শতকের পঞ্চাশের দশক থেকেই। যাঁর প্রথম চলচ্চিত্রই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী, মরমিয়া উপন্যাস অবলম্বনে ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫), প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গ…

আঁধার ঘরের বহ্নিমান দীপশিখা (পর্ব ২)
১৮৮০ সালের ২৭ শে জুন আলাবামা রাজ্যের দক্ষিণে টাসকামবিয়া নামের একটি ছোট শহরে হেলেন কেলারের জন্ম হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় জন্মালেও দু বছর বয়সে সম্ভবতঃ স্কারলেট ফিবারে আক্রান্ত হয়ে তার দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি – দুটিই নষ্ট হয়। একটু একটু করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে যখন বুঝতে পারে, বাইরের জগৎ, যাকে সে ছুঁতে পারে কিন্তু বুঝতে…

বনলতা ও বিষমবাহু ত্রিভুজের গল্প – ২
অমৃতলালের বৈঠকখানায় বেতের সোফায় বসে মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকা কালো মানুষটি লাবণ্য-কে দেখেছিলেন। সত্যানন্দ দাশের পুত্রকে বিদেশে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য অর্থ লগ্নি করতে প্রস্তুত থাকা জনৈক সম্ভাব্য কন্যার পিতাকে নিরাশ করে জীবনানন্দ লাবণ্যকে বিবাহ করাই মনস্থ করেন। যেমন জানা যায়, লাবণ্য বিবাহ করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু জেঠামশাইয়ের আগ্রহে তিনি ১৯৩০ সালের ৯ই মে ঢাকার…

রবীন্দ্রনাথের সুরসৃষ্টি – একটি প্রশ্ন
কেমন করে সুর করতেন রবীন্দ্রনাথ? কিভাবে হল ষাট বছরের সংগীত-জীবনে দু-হাজারের অধিক গানের বিস্ময়কর সৃষ্টি?
