শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

স্বেচ্ছাচার কবলিত রবীন্দ্রসঙ্গীত

নিজের গান সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘এই পার্থিব জীবন ও পৃথিবীর মানুষকে আমি ভালোবেসেছি। এই ভালোবাসা রেখে গেলাম আমার গানের সুরে গেঁথে। মানুষ যদি মনে রাখে, তবে এই গান দিয়েই রাখবে।’


কবির প্রয়াণের পর চুরাশিটি শ্রাবণ অতিক্রান্ত। ইতিমধ্যে বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির জগতে ঘটে গেছে আমূল পরিবর্তন, অনেক ভাঙচুর, অনেক পুনর্নির্মাণ। আধুনিক ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন আঙ্গিকের পত্তন হয়েছে বহু ক্ষেত্রে – সাহিত্যে তো বটেই, নাট্যাভিনয়, চলচ্চিত্র, গান, শিল্পকলা ইত্যাদি সংস্কৃতির অঙ্গনেও তার ব্যত্যয় হয়নি। এটা স্বাভাবিক এবং এভাবেই যুগে যুগে মানব সভ্যতার ধারাগুলি সঞ্জীবিত হয়, নিত্য নূতন রূপ পরিগ্রহ করে।


কিন্তু এই ভাঙাগড়ার মধ্যেই কিছু সৃষ্টি-স্থাপত্য কালের ঝড়-ঝাপ্টা-সম্মার্জনীর ভ্রুকুটি অস্বীকার করে স্থির দাঁড়িয়ে থাকে আপন চরিত্র-গুণে স্ব-মহিমায় ও স্ব-গরিমায়। তারা মানব সভ্যতা ও সৃষ্টির ইতিহাসে শাশ্বত বা চিরায়তর মর্যাদা পায়। তাদের স্রষ্টারা অভিষিক্ত হন অমরত্বের আসনে।


উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিকর্মগুলির ব্যাপারে নতুন কালের নবযাত্রীদের মনোজগতের দু’টি ধারা লক্ষ করা যায়। একটি ধারা কোনো মহৎ স্রষ্টার ভাবনা, দিশা ও পথনির্দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। এদের ভাবনায়, যেটি সৃষ্টি হয়েছে, পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চ থেকে স্রষ্টার প্রস্থানের পর তা অপরিবর্তনীয়। দ্বিতীয় দলটি স্রষ্টার মহত্ব ও কৃতিত্বকে মেনে নিয়েও অতীতের কোনো সৃষ্টিকে নিজের ও তার সময়ের চাহিদার কথা বলে সমসাময়িক করে তোলার পক্ষপাতি। স্রষ্টা যে মাপের ও মানেরই হোন না কেন, তারা তাঁর সৃষ্টিতে নিজের ধ্যান-ধারণা আরোপ করে হস্তাবলেপনকে যথার্থ মনে করে। তাদের যুক্তি, অতীতের কোনো বন্ধন-মুক্ত কীর্তিকে সমকালীন করে তোলার স্বাধীনতা ও অধিকার তাদের আছে।


আমরা জানি, রবীন্দ্রনাথের গান এক হিরন্ময় ও মৌলিক সৃষ্টিজগৎ হিসেবে বৌদ্ধিক জগতে তো বটেই, এক বিরাট সংখ্যক সাধারণের কাছে আজও আদৃত। সুতরাং এই প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা যাক, কবির গান নিয়ে তাঁর নিজের ভাবনা কী ছিল এবং তিনি কী চেয়েছিলেন। নিজের গান নিয়ে কতটা স্পর্শকাতর ছিলেন কবি? দেখা যাক, কীভাবেই বা আমরা রেখেছি তাকে, কতটা যত্নে ও সম্ভ্রমে? তাঁর ভাবনাকেই বা কতটা মান্যতা দিচ্ছি আমরা?


লেখায়, পত্রে, আলাপচারিতায় আমরা দেখতে পাই, কেমন করে বেঁচে থাকবে তাঁর গান – এ নিয়ে ভাবনার অন্ত ছিল না কবির। আবেদন-নিবেদন, আকুতি থেকে সুস্পষ্ট পথনির্দেশ, কোনো কিছুই রেখে যেতে ভোলেননি কবি, কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সব থেকে উজ্জ্বল সম্ভার তাঁর গানের জগৎ। দূরদ্রষ্টা কবি এও বুঝতে পেরেছিলেন যে দীর্ঘ কাল ধরে বাঙালি জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে থাকবে তাঁর গান। বিপুল আত্মবিশ্বাসে রবীন্দ্রনাথ নিজের লেখা গানের বিষয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ জনের কাছে বলেছিলেন, ‘আমার গান তোমাদের গাইতেই হবে।’


কিন্তু আশঙ্কাও কি ছিল না তাঁর? নিজের সময়কালেও কি তাঁর গানকে এক শ্রেণীর গায়ক-গায়িকার স্বেচ্ছাচারের কবলে পড়তে হয়নি? হ্যাঁ, তাও হয়েছিল।


এই প্রসঙ্গে আমরা উল্লেখ করব জানকীনাথ বসুকে লেখা কবির একটি পত্রাংশ, যা আমাদের প্রশ্নটির উত্তর বহন করছে। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন – “আমার গান (গায়ক বা গায়িকা) তাঁর ইচ্ছামত ভঙ্গি দিয়ে গেয়ে থাকেন, তাতে তাদের স্বরূপ নষ্ট হয় সন্দেহ নেই। গায়কের কণ্ঠের উপর রচয়িতার জোর খাটে না, সুতরাং ধৈর্য ধরে থাকা ছাড়া অন্য পথ নেই। আজকালকার অনেক রেডিয়ো গায়কও অহংকার করে বলে থাকেন তাঁরা আমার গানের উন্নতি করে থাকেন। মনে মনে বলি পরের গানের উন্নতি সাধনে প্রতিভার অপব্যয় না করে নিজের গানের রচনায় মন দিলে তাঁরা ধন্য হতে পারেন। সংসারে যদি উপদ্রব করতেই হয় তবে হিটলার প্রভৃতির ন্যায় নিজের নামের জোরে করাই ভালো।“


নম্রভাষী ললিত বাণীর কবির কলমে এহেন রূঢ় উচ্চারণ তাঁর গানের জগতে সেকালের কিছু মত্ত হস্তীর দাপাদাপিতে তাঁর মানসিক স্থৈর্য পীড়িত হবার নমুনা বহন করছে।


তাঁর গানের স্বকীয়তা যাতে বজায় থাকে, সেটি বলতে গিয়ে কোথাও তাঁর ভাষায় আমরা পাই অনুনয়ের কাতরতা। কবি বলছেন – “আমার গান যাতে আমার গান ব’লে মনে হয় এইটি তোমরা কোরো। আরো হাজারো গান হয়তো আছে– তাদের মাটি করে দাও-না, আমার দুঃখ নেই। কিন্তু তোমাদের কাছে আমার মিনতি– তোমাদের গান যেন আমার গানের কাছাকাছি হয়, যেন শুনে আমিও আমার গান বলে চিনতে পারি। এখন এমন হয় যে, আমার গান শুনে নিজের গান কিনা বুঝতে পারি না। মনে হয় কথাটা যেন আমার, সুরটা যেন নয়। নিজে রচনা করলুম, পরের মুখে নষ্ট হচ্ছে, এ যেন অসহ্য। মেয়েকে অপাত্রে দিলে যেমন সব-কিছু সইতে হয়, এও যেন আমার পক্ষে সেই রকম।“


তাঁর গানের সযত্ন-নির্মিত কাঠামোটি রক্ষায় আজীবন সদা-সতর্ক স্রষ্টার আকুতি উত্তরকালকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা গবেষণার বিষয়।


তাঁর গানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষকদের কাছে কবির সানুনয় অনুরোধ – “এঁদের একটু দরদ দিয়ে, একটু রস দিয়ে গান শিখিয়ো– এইটেই আমার গানের বিশেষত্ব। তার উপরে তোমরা যদি স্টিম রোলার চালিয়ে দাও, আমার গান চেপ্টা হয়ে যাবে। আমার গানে যাতে একটু রস থাকে, তান থাকে, দরদ থাকে ও মীড় থাকে, তার চেষ্টা তুমি কোরো।“


এই পটভূমিতে বর্তমান সময়ের রবীন্দ্রনাথের গানের হাল-হকিকত নিয়ে যদি আমরা একটু ভাববার চেষ্টা করি, তাহলে বেদনা ও হতাশার উদ্রেক হয়। ছোটো ছোট দ্বীপের মত কিছু নিষ্ঠাবান প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-শিক্ষিকার ব্যক্তিগত উদ্যম ছাড়া যত্ন করে রবীন্দ্রনাথের গান শেখাবার পরিকাঠামো এ’রাজ্যে আজ সঙ্কুচিত। অথচ তাঁর গান গেয়ে জাতে ওঠার অভীপ্সুর সংখ্যা কম নয়। কবির গানে অপ্রশিক্ষিত নামী-দামী শিল্পীরাও তাঁর গানকে ‘আধুনিক’, ‘যুগোপযোগী’ বা ‘জনপ্রিয়’ করে তোলার প্রচেষ্টায় ক্লান্তিহীন। যথেচ্ছ সুরবিহারে, উচ্চকিত যন্ত্রানুসঙ্গের ব্যবহারে, শব্দের সংযোজন-বিয়োজনে আজকের গায়ক-গায়িকাদের অনেকেরই এই গানের অসামান্য শব্দচয়ন ও তার স্রষ্টার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা আজ অনুপস্থিত। রবীন্দ্রনাথকে জনপ্রিয় করে তোলার এই মরিয়া প্রয়াসে এঁরা অনেকেই আজ সামিল। রাজ্যের প্রশাসিকার উচ্চ পদ থেকে যখন ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’-এর মতো ঐতিহাসিক গানের শব্দ বদলের স্বেচ্ছাচারী নিদান আসে এবং বিশিষ্ট শিল্পীরা প্রতিবাদহীন ভাবে সেটি মঞ্চে পরিবেশন করেন, তখন বোঝা যায়, সর্বনাশের কোন শেষ সীমায় আমরা এসে পৌঁছেছি।


আজকের দিনে তাঁর গানে তান-লয় বিস্তার করে গাইছেন একাধিক স্বনামধন্য পন্ডিত গায়ক ও রাগাশ্রয়ী গানের উঠতি গায়ক-পিয়ানোবাদক জুটি। স্বরচিত ‘জীবনমুখী’ স্টাইলে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইছেন উদ্ধত কলার-তোলা জনপ্রিয় গায়ক। এমনকি রবীন্দ্রনাথের গানের কিছু জনপ্রিয় পরিচিত মুখও তাঁর গানের ‘আধুনিকীকরণে’ প্রতিনিয়ত উদগ্রীব। গান ও সুর-রচয়িতা কী চেয়েছিলেন, তা জানবার ও জানতে পারলেও তা মানবার দায় বা আগ্রহ এঁদের কারুর নেই। কবি-রচিত “সঙ্গীত-চিন্তা” এঁদের অনেকের কাছেই বোধহয় বহু দূরের অজানা অচেনা এক গ্রহ।

এই আবহে বাড়তি সংযোজন, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পঁচিশে বৈশাখের কবিপ্রণামের নাম করে অপাত্রে দয়ার দান। প্রকৃত গুণী শিল্পীদের বহুক্ষেত্রে বঞ্চিত করে অক্ষম, অ-প্রশিক্ষিত ‘শিল্পী’ তকমা-ধারীদের মঞ্চে স্থান করে দিয়ে সরকারী কেষ্ট-বিস্টুদের অবাধ অনুগ্রহ বিতরণ। রবীন্দ্রনাথ এদের কাছে রাজনৈতিক বাণিজ্যের উপকরণ। তাঁর সৃষ্টি-জগৎ নিয়ে মাথা ঘামাবার সময়, সংবেদনশীলতা ও সক্ষমতা কোনোটাই এদের নেই।
অনেক কথা বলা হল, অনেক কথা বাকিও থেকে গেল। তবু এবার শেষ কথা।

একজন কালজয়ী স্রষ্টা পরম যত্নে তাঁর ভাবনা ও কল্পনাকে লালন করেছেন, ধারণ করেছেন এবং মূর্ত করে তুলেছেন। তিনি তো বলতেই পারেন – ‘এই রইল তোমাদের জন্য। ও আমার সৃষ্টি, আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে আমি ওকে গড়েছি। আমার গড়ে দেওয়া পথ থেকে ওকে বিচ্যুত কোরোনা।‘ এক অবিস্মরণীয় স্রষ্টার ইচ্ছের এই মর্যাদাটুকু দিতে আমাদের কার্পণ্য, আমাদের সৃষ্টিশীলতার দীনতা ও স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের পরিচায়ক। সৃষ্টি কোন রূপে, কোন আঙ্গিকে ভবিষ্যতের জিম্মায় গচ্ছিত থাকবে, চর্চিত হবে সেটা স্থির করার অধিকার থাকুক না শুধুমাত্র স্রষ্টার হাতেই । উত্তরকালের প্রতিভাবান উত্তরাধিকারীরা আরও মহত্তর কোনো নতুন সৃষ্টিতে তো মনোনিবেশ করতেই পারেন !

কবির উদ্ধৃতি-সূত্রঃ

১। গীতালি (সঙ্গীতচিন্তা), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২। গানের পিছনে রবীন্দ্রনাথ – সমীর সেনগুপ্ত

[ছবি ও তথ্যঋণ – আন্তর্জাল]

রবিচক্র অনলাইন আপনাদের কেমন লাগছে? নিচের ঠিকানায় লিখে জানান। ইমেল-ও করতে পারেন। চিঠি অথবা ইমেল-এর সঙ্গে নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর থাকা বাঞ্ছনীয়।

রবিচক্র
‘প্রভাসতীর্থ’, ৭৬ ইলিয়াস রোড, আগরপাড়া, কলকাতা – ৭০০০৫৮, ভারত

editor@robichakro.com

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


5 1 vote
Article Rating
3 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Himadri Kumar Das Gupta
Himadri Kumar Das Gupta
9 months ago

এই পত্রিকার প্রতি সংখ্যার সম্পাদকীয়তে পাই বিশেষ বিশেষ ভাবনার প্রকাশ। এক কথায় চমৎকার! এই সংখ্যাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচন করে সম্পাদক যে শুধুই স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর রেখেছেন সেটাই নয়, বরং এখনও রবীন্দ্রনাথের গানে নিমগ্ন থাকতে চাওয়া মানুষদের বর্তমানের অনেক যন্ত্রণার শরিক হতে চেয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের ভবিষ্যৎবাণীতে ভুল ছিল না। ঠিক কথা। তাঁর গান মানুষ এখনও গাইছে, শুনছে। কিন্তু শুধু অশিক্ষিত নয়, তাঁর গান নিয়ে বহু শিক্ষিত শিল্পীর বর্তমান ব্যভিচারের মধ্যে তাদের আপন দীনতারই প্রকাশ ঘটছে। যা সত্য নয় – যা সুন্দর নয়, তা শাশ্বতও নয়। গান তো বটেই, যে কোনো শিল্পের ক্ষেত্রেই এ-কথা ধ্রুব সত্য। তবু, তা সত্ত্বেও, হৃদয় নিঙরানো এক একটি গানের সৃষ্টি এখনও যে বাঙালিকে প্রাণিত করে রেখেছে সেই পরম আদরের সামগ্রীর ধর্ষিত ও বিকৃত রূপকে কোন মহত্ব দিয়ে উপেক্ষা  

করা যায় ?   

Himadri Kumar Das Gupta
Himadri Kumar Das Gupta
9 months ago

 

এই পত্রিকার প্রতি সংখ্যার সম্পাদকীয়তে পাই বিশেষ বিশেষ ভাবনার বহিপ্রকাশ। এক কথায় চমৎকার! এই সংখ্যাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচন করে সম্পাদক যে শুধুই স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর রেখেছেন সেটাই নয়, বরং এখনও রবীন্দ্রনাথের গানে নিমগ্ন থাকতে চাওয়া মানুষদের বর্তমানের অনেক যন্ত্রণার শরিক হতে চেয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের ভবিষ্যৎবাণীতে ভুল ছিল না। ঠিক কথা। তাঁর গান মানুষ এখনও গাইছে, শুনছে। কিন্তু শুধু অশিক্ষিত নয়, তাঁর গান নিয়ে বহু শিক্ষিত শিল্পীর বর্তমান ব্যভিচারের মধ্যে তাদের আপন দীনতারই প্রকাশ ঘটছে। যা সত্য নয় – যা সুন্দর নয়, তা শাশ্বতও নয়। গান তো বটেই, যে কোনো শিল্পের ক্ষেত্রেই এ-কথা ধ্রুব সত্য। তবু, তা সত্ত্বেও, হৃদয় নিঙরানো এক একটি গানের সৃষ্টি এখনও যে বাঙালিকে প্রাণিত করে রেখেছে সেই পরম আদরের সামগ্রীর ধর্ষিত ও বিকৃত রূপকে কোন মহত্ত্ব দিয়ে উপেক্ষা  

করা যায় ?   

Ashish Sen
Ashish Sen
8 months ago

বর্তমানে শিল্পীদের মধ্যে হাতে গোণা কয়েকজন শিল্পী রবীন্দ্রসংগীতের ধারা মেনে নিষ্ঠা সহকারে গান গাইবার চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের শিল্পীরা অগ্রগণ্য। বর্তমান বাংলাদেশের ধর্মান্ধ দূর্বৃত্তদের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে সনজিদা খাতুনের অন্তিম যাত্রার আগে ছায়ানটের প্রাঙ্গণে শায়িত শিল্পীকে রবীন্দ্রনাথের গানের মালা দিয়ে যেভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে, তাতে আশা জাগে রবীন্দ্রনাথের গান ওপার বাংলায় অন্ততঃ স্বমহিমায় বেঁচে থাকবে।