Tag: Rabindranath Tagore

‘রাজা’ ও ‘রক্তকরবী’ – আলোকাভিসারী মানুষের মুক্তির অভিন্ন তপস্যা
সত্য সরল। তবুও সত্য জটিল। সত্য জটিল কারণ তা বিরোধ এবং আপাত বৈপরীত্যের সমন্বয়। প্রায়ই সত্যের সমন্বিত সত্তাটির বদলে অসম্পূর্ণ বোধ আর চেষ্টিত নির্মাণের বিমূঢ় অভিপ্রায়ে সত্যের অনায়াস ও সম্পূর্ণ রূপের বদলে আমাদের চেতনায় যা ধরা পড়ে, তা হলো সত্যের খন্ডিতরূপ। সমস্যা সৃষ্টি হয় তখন, যখন মানুষ এই খন্ডিত সত্যের আধারে ধরতে চায় সম্পূর্ণ জগতকে।…

এই সময়ে রবীন্দ্রনাথ
সুশোভন সরকার তাঁর এক মনোগ্রাহী স্মৃতিচারণে লিখেছিলেন – “ইতিমধ্যে আমি বার বার শান্তিনিকেতনে যেতে আরম্ভ করি। সেখানে তখন বাড়িতে বাড়িতে, রাস্তাঘাটে রবীন্দ্রসংগীত ধ্বনিত হচ্ছে। সেই সংগীতরসে আমার মন ডুবে যেত।” পুরনো দিনের শান্তিনিকেতনের এই বর্ণনা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু ১৯৮৩-৮৪ সালে আমি যখন নিতান্ত ছেলেবেলায় শান্তিনিকেতনে যেতে শুরু করি, সে সময়ে বা তারপরে সেখানে কোনো…

রবীন্দ্র নাটকে নারী
‘নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী/ পূজা করে মোরে রাখিবে উর্ধ্বে/ সে নহি নহি/হেলা করি মোরে রাখিবে পিছে/ সে নহি নহি।’ — রবীন্দ্রনাথের চিত্রঙ্গদার কন্ঠে এই বিদ্রোহের সুর ধ্বনিত হয়েছে। সেই সুরে মিশে আছে রবীন্দ্রনাথের নারী ভাবনার মহাসুর। নারীকে তিনি গৃহকোণে বন্দী করে রাখতে চান নি। কঠোর কঠিন বাস্তবের মাটিতে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। নারীকে আপন…

সুকুমার রায় ও বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতি – প্রয়াণ শতবর্ষে ফিরে দেখা
সুকুমার রায় সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ একদা লিখেছিলেন, “…তাঁর স্বভাবের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির গাম্ভীর্য ছিল, সেজন্যই তিনি তাঁর বৈপরীত্য এমন খেলাচ্ছলে দেখাতে পেরেছিলেন।” যে ধরণের বৈপরীত্য সুকুমারের খেয়াল-রসসিক্ত রঙ্গসাহিত্যের মুখ্য উপজীব্য, তার পেছনে বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিসঞ্জাত কোনো গাম্ভীর্যের ক্রিয়া নিহিত ছিল, এমন কথা বললে প্রথমে তা’ কিছুটা স্ববিরোধী শোনাতেই পারে। তার প্রধান কারণ, আমরা সুকুমারের এ ধরনের তাবৎ…

যাত্রাপথে
রবি ঠাকুর তাকিয়ে আছেন। তাঁর দৃষ্টি, চোখে নিয়ে দীপক খুব সন্তর্পনে কথা বলছে, যেমন করে প্রিয় মানুষকে মনের কথা বলা হয়, তেমনই অন্তরঙ্গ স্বর, “তোমার সাজানো পথেই আমার চলা। সেই কোন ছোটবেলায় মায়ের মুখে শিশু আর শিশু ভোলানাথ শুনতে শুনতে জীবনের সোপানে পা রেখেছি। তারপর এতকাল পেরিয়ে এলাম। নিজের কাজে, ভাবনায়, স্বপ্নে কিম্বা গার্হস্থে তোমাকেই…

অন্ত্যজের গান
দুখিরামের রবি প্রণাম।এক কবিতা ও সুর প্রয়াস। সমবেত সুধী – সুজন,প্রগাঢ় রবীন্দ্র প্রেমী – উপস্থিত দর্শক জন –তত্ত্বজ্ঞ – জ্ঞানী – বোদ্ধা –সাংস্কৃতিক সকল যোদ্ধা –সবাই আমার শ্রদ্ধাস্পদ, সুবিনীত প্রণাম নেবেন। আসলে জানেন –আজকের এই সভায় – আমি অনধিকার প্রবেশকারী।চোর-শিকারি – যেমন ঢোকে গভীর বনে,চুপিচুপি সংগোপনে –অতর্কিত আক্রমণে –বনের পশুর প্রাণ নিয়ে নেয়।আর বিনিময় –তার…

‘নাই বা এলে যদি সময় নাই…’
রবীন্দ্রনাথের গান যাঁদের সাবলীল গায়কীতে উদাত্ত কণ্ঠমাধুর্যে স্বতঃস্ফূর্ততা পায়, শ্রোতার অন্তরে সহজেই প্রবেশ করে, শ্রী সুগত মজুমদার সেই গোষ্ঠীর শিল্পী। দেবব্রত বিশ্বাসের ভাবশিষ্য তিনি, সাক্ষাৎ শিষ্য পীযূষকান্তি সরকারের। তিনি রবিচক্রের আপনজন। সম্প্রতি রবিচক্রের গঙ্গা তীরবর্তী একটি আসরে তাঁর গান আপ্লুত করেছিল উপস্থিত শ্রোতাদের। পরিকল্পনা চলছে নিকট ভবিষ্যতে রবিচক্রের আসরে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে তিনি গান শোনাতে…

বৈশাখী সুখ
বৈশাখের তীব্রতায় প্রাণীকুলের ওষ্ঠাগত প্রাণ। অত্যাধিক তাপ প্রবাহে থিরিথিরি করে কম্পমান বাতাস দৃষ্টিবিভ্রমের সৃষ্টি করে, দিগন্ত ঝাপসা মনে হয়। আগুনের হলকার মতো তাপিত বায়ু ত্বক স্পর্শ করে। এর মধ্যেই দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ উর্ধমুখী। রাজ্যস্তরে একের পর এক অপকর্মের উন্মোচন বাঙালি জাতিকে ক্রমান্ধকারের পথে ঠেলে নিয়ে চলেছে। যেকোন জমায়েত, সমাজে অথবা সমাজ-মাধ্যমে চোখ…

রেখেছ বাঙালি করে
মৃতপ্রায় বাঙালির প্রাণের প্রদীপটা এখনও টিমটিম করে জ্বলছে বটে। যেটুকু জ্বলছে, তা কিন্তু জ্বালিয়ে রেখেছেন তিনি, মুখ্যত তিনিই! তাঁর সেই উদ্বেগের ১৪০০ সালটা পেরিয়ে গেছে অনেক দিন হল। দক্ষিণের বারান্দায় বসে কোনো কল্পনার অবগাহনে তাঁর পাঠানো অনুরাগে সিক্ত কবিতা তো সেই ‘তুমি’র এখন পড়ার কথা। কিন্তু হয়তো আজকের বাঙালি-হৃদয়ের রক্তক্ষরণের এমন পরিস্থিতি তাঁর ভাবনাতে ঠাঁই…

রবীন্দ্রনাথের গানের “অধরা মাধুরী”
রবীন্দ্রনাথের গানের “অধরা মাধুরী”/আবু সাঈদ ফিরোজসহজে ধরা যায়না, ছোঁয়া যায়না এমন একটা অধরা মাধুরী আছে রবীন্দ্রনাথের গানে। রবীন্দ্র-তাত্ত্বিকেরা প্রায়শই রবীন্দ্রনাথের গানের এই বিশিষ্টতাকে পাণ্ডিত্যের বেড়াজালেই আটকে রাখতে পছন্দ করেন। তাঁদের দৃষ্টিতে রবীন্দ্রনাথ বাঙালি তথা ভারতীয় হয়েও ছিলেন বিশ্বনাগরিক। ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে ধারণ করেও বিশ্বের যা কিছু সত্য, যা কিছু সুন্দর তা আজীবন গ্রহণ…
