Tag: Rabindranath Tagore

দিনান্তবেলার রক্তিম মরীচিকা
বর্ণান্ধতা এক ধরনের রোগ, যা সারা পৃথিবীতে পুরুষদের ক্ষেত্রে খুব বিরল রোগ নয়। অনেকে এই রোগ নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দেয় কিছু বুঝতে না পেরেই। সমস্যাটা বিশেষ করে বোঝা যায় ছবি আঁকতে গেলে। এই রোগ থাকলে সাধারণত লাল বা সবুজ রঙ ঠিক মত দেখতে পাওয়া যায় না। রবীন্দ্রনাথের নিজের ধারণা ছিল তিনি লাল রঙ ঠিক মতো…

রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ বছর
“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি বিচিত্র ছলনাজালে, হে ছলনাময়ী..” . —–রবীন্দ্র -জীবনে শেষ বছর। মর্ত্য থেকে বিদায় নেবার এক বৎসর আগে কবির গলায় ক্লান্তির সুর। সুদীর্ঘ জীবনের পথ-পরিক্রমায় তিনি হারিয়েছেন মাতা পিতা পত্নী পুত্রকন্যা সন্তানতুল্য নিকটাত্মীয় এবং বহু প্রিয় বন্ধুকে। বিদেশী বন্ধুদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে অন্তরঙ্গ দীনবন্ধু এনড্রুজ, যিনি বলে ছিলেন… my…

চলিয়াছি গৃহপানে…
[২৫ জুলাই , ১৯৪১ সাল। দিনটি শুক্রবার। সাতসকালেই আশ্রমবাসীরা সমবেত কণ্ঠে এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’ গাইতে গাইতে রবীন্দ্রনাথকে অর্ঘ্য অর্পণ করল। শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলেছেন কবি। আর কোনদিন ফিরবেন না , বোধ হয় বুঝতে পেরেছেন তিনি। যাওয়ার আগে মোটরগাড়িতে চেপে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সবার সঙ্গে দেখা করলেন, গাড়িতে করেই গোটা আশ্রম ঘোরানো হলো…

ধর্মমোহ
আমি ব্রাত্য, আমি মন্ত্রহীন, দেবতার বন্দীশালায় আমার নৈবেদ্য পৌঁছল না। পূজারী হাসিমুখে মন্দির থেকে বাহির হয়ে আসে, আমাকে শুধায়, “দেখে এলে তোমার দেবতাকে?” আমি বলি, “না।” অবাক হয়ে শুনে বলে, “জানা নেই পথ?” আমি বলি, “না।” প্রশ্ন করে “কোনো জাত নেই বুঝি তোমার?” আমি বলি, “না।” ” রবীন্দ্রনাথ / পত্রপুট উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া বলেই ধর্মটাকে…

“সেপার বাংলা” নিবাসী ক্লিনটন বি সিলি
বাংলার অগ্রগণ্য কিছু সাহিত্যিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বুধমন্ডলী। আর ছিলেন এক ভিনদেশী, ছিপছিপে ঋজু চেহারার উজ্বল গৌরবর্ণ মানুষ, যাঁর পরণে ছিল হালকা গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবী ও সাদা পায়জামা, কাঁধে ছিল খদ্দরের শান্তিনিকেতনী ঝুলি, সৌম্যকান্ত মুখমন্ডলে হালকা দাড়ি। স্বাভাবিকভাবেই সব অতিথিদের মধ্যে দর্শক ও শ্রোতৃমন্ডলীর কৌতুহলের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি… বাংলা সাহিত্যের মেলায়…

কবে কখন কোন বর্ষার গান
এ বছর সময় মতই বর্ষা এসেছে এই বঙ্গে। আর আমরা যখন দেখতে পাচ্ছি আকাশে ঠিক তেমনি মেঘেরই আনা গোনা চলছে, যে মেঘ দেখে রবি ঠাকুর লিখেছিলেন – ‘রহিয়া রহিয়া বিপুল মাঠের পরে/ নব তৃণদলে বাদলের ছায়া পড়ে……’, তখন চারিদিকের সব রকম মালিন্য, ক্লেদ, বিপন্নতা উপেক্ষা করে আমাদের পুরাতন হৃদয় একটু হলেও পুলকে দুলে উঠছে বৈকি।…

সেদিন যে রাগিণী গেছে থেমে…
“ও পারেতে বিষ্টি এল,ঝাপসা গাছপালা।এ পারেতে মেঘের মাথায়— .একশো মানিক জ্বালা।বাদলা হাওয়ায় মনে পড়েছেলেবেলার গান—‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,নদেয় এল বান।” একদা জীবনপ্রভাতে, বহুশ্রুত, বহুপঠিত এই কবিতার পংক্তিগুলি আজ জীবনের অস্তাচলপ্রান্তে এসে যখন মনে মনে আবৃত্তি করি তখন বুকের ভিতর হুহু করে ওঠে। শুধু ছেলেবেলার নয়, জীবনের সব পর্বে সব মুহূর্তে থেমে যাওয়া সমস্ত গান যেন…

রবীন্দ্রনাথ, ‘Nationalism’ ও লেনিন – একটি জিজ্ঞাসা
“… the idea of the Nation is one of the most powerful anaesthetics that man has invented.” রবীন্দ্রনাথ ও লেনিন? দুটি নাম পাশাপাশি দেখে আঁতকে ওঠার কোনোই কারণ নেই। না, ‘মার্ক্সবাদের আলোয় রবীন্দ্রনাথ’, ‘রবীন্দ্রনাথ কি মার্ক্সবাদী?’ অথবা ‘রবীন্দ্র ও লেনিন’ ইত্যাদি ঘোল তৈরি করে কাউকে গেলানোর বিন্দুমাত্র স্পৃহায় আমি আক্রান্ত নই। কারণ এই সরল সত্যটা…

রবীন্দ্রসঙ্গীত সাধনার স্বাধীনতা
কত রাজা আসে যায়, ইতিহাসে চিহ্নহীন তার পদ ধ্বনি বেজে বেজে চলে …। ( ফেরারি ফৌজ, প্রেমেন্দ্র মিত্র) ‘স্বপন দেখিছে রাধারানী, আহা স্বপন দেখিছে রাধারানী’। না । রাধারানী নন – স্বপ্ন দেখছিল দুখিরাম। সে ভারি খুবসুরত খোয়াব, জীবন ধন্য করা খোশখেয়াল। অক্ষাংশ – 22.5422 আর দ্রাঘিমাংশ – 88.3442 যেখানে কাটাকুটি করেছে স্বপ্নের শুরু ঐখানে। পাঠক…

স্বেচ্ছাচার কবলিত রবীন্দ্রসঙ্গীত
নিজের গান সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘এই পার্থিব জীবন ও পৃথিবীর মানুষকে আমি ভালোবেসেছি। এই ভালোবাসা রেখে গেলাম আমার গানের সুরে গেঁথে। মানুষ যদি মনে রাখে, তবে এই গান দিয়েই রাখবে।’ কবির প্রয়াণের পর চুরাশিটি শ্রাবণ অতিক্রান্ত। ইতিমধ্যে বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির জগতে ঘটে গেছে আমূল পরিবর্তন, অনেক ভাঙচুর, অনেক পুনর্নির্মাণ। আধুনিক ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে…
