Tag: Anindya Sanyal

অনুগল্পঃ ফেরিওয়ালা ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক
ফেরিওয়ালা সকাল দশটা সাড়ে দশটা হবে। বেশ তাপ লাগছে শরীরে। কেউ বলছিলো এখন নাকি আটত্রিশ, আর ফিল লাইক সাতচল্লিশ। ঘরের ভেতরটা বেশ ঘেমো ঘেমো। জানলা দিয়ে গাছের পাতার যা বহর দেখছি, মাটির দিকে মুখ ক’রে বেশ মনখারাপ মনে হলো তাদের। আর জলীয় বাষ্পের তো ছড়াছড়ি। কষ্টকর বহির্জগৎ। একটা ডাক শুনতে পেলাম। কেমন যেন! আবার। চোখ…

দুটি অনুগল্প : নূরজাহান ও জন্মদিনের জলছবি
নূরজাহান সে বাউলী হোক বা মেহুলী, মানবজনম হলো তার। মানবসমাজে কোলকাঁখ পেয়ে আস্তে আস্তে মাথা চাড়া দিয়ে জল মাটি আবহাওয়া ছুঁয়ে দেখতে শিখলো, আর, সেই মানুষটার কোনো পাপ থাকবে না? আশ্চর্য্য তো! সে তুমি দুই হাত তুলে নেচে নেচে প্রেমের গান গেয়ে গালচিবুক ভাসাও, বা আকাশে উড়ে যেতে যেতে খরার দেশ, কষ্টের দেশ এক ঝাঁক…

অনুগল্প – তন্ত্রমন্ত্র ও শব্দ
১। তন্ত্রমন্ত্র মাস্টারমশাই তাঁর সম্ভাব্য ছাত্রের নাম দেখে তার বাবার সাথে কথাবার্তা শুরু করতে একটু সময় নিলেন। দু চার কথা ভাবতে ভাবতে জিজ্ঞেস করলেন,— ছেলের নাম রেখেছেন স্নায়ু? এই নাম হঠাৎ মাথায় এলো কেন? আপনার শুনতে অন্যরকম লাগলো, নাকি এর কোনো ইতিহাস আছে?— একটা ব্যাপার আছে স্যার।স্নায়ু তখনও জন্মায় নি। আমার মনটনের মতিগতি নিয়ে সমস্যা…

ছবি ও কাঠের আড়বাঁশি
(১) ছবি — কি খুঁজছো সারা বিছানায় এতো ছবি ছড়িয়ে রেখে? — ছবি খুঁজছি। — কি ছবি? তোমার সেই রক্তকরবী’র সাদাকালো ছবি? — হোক না সাদাকালো। আমি তো রঙ দেখতে পাই ওতে। ফুল পড়লে যে বেতের ঝুড়িতে কুড়িয়ে আনতাম সেটাও দেখতে পাই। দেখি হালকা গোলাপী রঙের দোতলা বাড়িটা। সামনে সারাবাড়ি ঘিরে কতরকম রঙের পপি লাগিয়েছিল…

দু’টি অনু গল্প
(১) কিচমিচ, ম্যাও, ভৌ আর ঠাকুদ্দা কিচমিচ বড্ডো ছটফটে দুষ্টু পাখি। পিরিক পিরিক ক’রে এসে কিসের আনন্দে কে জানে অকারণে একটু ঠুক লাগিয়ে পালালো। ধুর, খালি খালি এইসব। অমনি মুখ গোঁজ হয়ে গেল তো ম্যাও বুড়োর! মাছটা ফেলে রেখে, খাবো না যা বলে বসে আছে। ভৌভৌ খাচ্ছিলো বসে পাশে, বলল –— অ্যাই অত রাগের কি…
